Thursday, July 18, 2024
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
Homeবাংলাদেশমাদকের লাগাম টানতে এবার ‘সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা’

মাদকের লাগাম টানতে এবার ‘সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা’

মাদকের লাগাম টানতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে এবার ‘সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা’ নামে নতুন উদ্যগ হাতে নিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। শুধু ধরপাকড় নয়, একদম গ্রাম পর্যায়ে মাদকের চাহিদা হ্রাস ও মাদকাসক্তদের চিকিৎসা বা পুনর্বাসনের কাজ করা হবে। এ কাজে সম্পৃক্ত থাকবে মসজিদের ঈমাম, শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে মাদক। সোমবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এ ‘সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা’ প্রনয়নে কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে উক্ত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ে জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন, পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন জেলার ডিসি, এসপি, সিভিল সার্জনসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা। কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্যে ‘সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা’ বিষয়ে বিস্তানিত তুলে ধরেন ডিএনসির ডিজি মো. আব্দুস সবুর মন্ডল। দ্রুতই দেশের সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সেমিনার করে এ কার্যক্রম শুরু করা হবে কর্মশালায় জানানো হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উন্নত ও অনুন্নোত সব রাষ্ট্রেই মাদক অন্যতম সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। কারাগারের যে হাজতীরা রয়েছে তাদের অপরাধের দিকে তাকালেও মাদকের ভয়াবহতা টের পাওয়া যাবে। সারাদেশের হাজতীর ৭৫ শতাংশই মাদক মামলা সংক্রান্ত আসামি। অর্থ্যাৎ যেভাবে জনগনকে সম্পৃক্ত করে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদকে দমন করা হয়েছে, একইভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলে মাদককে প্রতিহত করতে হবে। আশা করি, দেশের ‘সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা’র মাধ্যমে যদি সব স্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে প্রতিরোধ গড়ে তুলা যায়, তাহলে মাদকের বিরুদ্ধে ঘুরে দাড়াতে পারবো। এজন্য মসজিদের ঈমাম, শিক্ষক, এনজিও, সুশীল সমাজসহ সবারই সম্পৃক্ততা জরুরি।

মন্ত্রী বলেন, আইস-এলএসডিসহ আরো ভয়ংকর ভয়ংকর মাদক দেশে আসছে। বাংলাদেশে মাদক উৎপাদন না হলেও টেকনাফ-বান্দরবনের দুর্গম সীমান্ত দিয়ে বিভিন্ন মাদক আসছে। ইতিমধ্যে দুর্গম জায়গাগুলোতে নজরদারি কড়াকড়ি করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি সবক্ষেত্রেই ডোপ টেস্ট চালুর উদ্যগ নেয়া হচ্ছে। তবে, মাদকের চাহিদা রোধে সমাজ যদি এগিয়ে না আসে, যুব সমাজকে যদি মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে বোঝাতে না পারি, উন্নত বাংলাদেশ গড়তে নতুন প্রজন্মকে যদি মাদকমুক্ত না রাখতে পারি তাহলেই কিছুই সম্ভব হবেনা।
আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, অনেকে ভ্রান্ত ধারণা থেকে মাদকের পথে পা বাড়াচ্ছে। এজন্য আমাদের গোড়ায় কাজ করতে হবে। রুট লেভেলে মাদক নির্মূলে জোর দিতে হবে। বক্তব্যের শেষে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, ডিসি, এসপি, সিভিল সার্জন, জনপ্রতিনিধিসহ সবার প্রতি আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বাগত বক্তব্যে ডিএনসির ডিজি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নতুন নতুন মাদকের মাদকের প্রাদুর্ভাবে যুব সমাজ হুমকির মুখে পড়েছে। এজন্য সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। তবে, যেকোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা চ্যালেঞ্জিং। এজন্য প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও মনিটর থাকা জরুরি। এ বিষয়টি মাথায় রেখে সফটওয়্যারের মাধ্যমে সবকিছু মনিটর করা হবে। এই পরিকল্পনায় মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেনতা সৃষ্টি, অভিযান পরিচালনা ও মাদকাসক্তদের চিকিৎসা বা পুনর্বাসনের লক্ষ্যে কাজ করা হবে। মো. আব্দুস সবুর মন্ডল আরো বলেন, মাদক নির্মূলে যা যা করা দরকার ডিএনসি করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে গত ৬ মাসে ডিএনসির ডাটাবেজে ৭০ হাজার মাদকাসক্ত ও ১০ হাজার চোরাকারবারির তথ্য এন্ট্রি করা হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রনালয়ে নির্দেশনা অনুযায়ী বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরাও মাদক নিরাময় কেন্দ্র ভিজিট করতে পারবেন।

ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, সোনার বাংলা গড়তে সোনার মানুষ গড়তে হবে। কিন্তু মাদকের কারণে সেটি বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। ঢাকা রেঞ্জের গত ৫ বছরের পরিসংখ্যানেও ফুটে ওঠে মাদকের ভয়াবহ চিত্র। গত ৫ বছরে ঢাকা রেঞ্জে মোট মামলা হয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৯২টি। যার মধ্যে ৭৮ হাজার ৪৮৭টি মাদক মামলা। শতকরা হিসাব করলে যা মোট মামলার ৪৬ শতাংশ।

ডিআইজি হাবিবুর রহমান আরো বলেন, ঢাকা রেঞ্জে প্রতি বছর গড়ে ১৬ হাজার মাদক মামলা হচ্ছে, বিপরীতে গড়ে গ্রেপ্তার হচ্ছে ২০ হাজার জন। বছরে গড়ে উদ্ধার হচ্ছে ৪০ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য। এছাড়াও বর্তমানে ২১ হাজার মাদক মামলা চলমান রয়েছে। যার ১৬-১৭ হাজার মামলার আসামি জামিনে রয়েছে। এসবকিছু মাথায় নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। ফলে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জরুরি ছিলো, এটি বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখতে হবে।
উন্মুক্ত আলোচনায় গোপালগঞ্জের ডিসি শাহিদা সুলতানা বলেন, মাদক একদিকে কমছে, অন্যদিকে বাড়ছে। এজন্য রুট পয়েন্টগুলো খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

ঢাকার ডিসি মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, মাদক নির্র্মূলে প্রত্যেক এলাকায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানসহ মাসে অন্তত দুবার জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করতে হবে। কিশোরগঞ্জের ডিসি মোহাম্মদ শামীম আলম বলেন, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কথাকথিত সোর্সরাই মাদকের বড় ডিলার হিসেবে কাজ করে থাকে। অথচ মাদক নির্মূলে নারীদের সোর্স হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে। কারণ মাদকাসক্তদের হাতে নারীরাই বেশি নির্যাতিত হয়ে থাকেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments