Tuesday, April 21, 2026
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
Homeআজকের শীর্ষ সংবাদগুমে জড়িত কোনো অপরাধী আইনের ফাঁক দিয়ে বের হতে পারবে না :...

গুমে জড়িত কোনো অপরাধী আইনের ফাঁক দিয়ে বের হতে পারবে না : আইনমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: সংসদে গুম বিষয়ে আবেগতাড়িত বক্তব্য প্রদান এবং গুম অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেমের (আরমান) প্রতি সহমর্মিতা ও সমবেদনা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় কার্যসূচিতে পয়েন্ট অব অর্ডারে ব্যারিস্টার আরমানের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আইনমন্ত্রী এ সহমর্মিতা জানান।

স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ব্যারিস্টার আরমান আমার ভাই, আমার স্বজন এবং সহকর্মী। তিনি দীর্ঘ সময় গুমের শিকার হয়েছিলেন। বাংলাদেশে তার মতো ৭০০-এর বেশি মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন, যাদের মধ্যে আমাদের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও আছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেভাবে গুমের শিকার হয়েছিলেন এবং মৃত্যুর প্রহর গুনেছিলেন, তাকে যেভাবে পার্শ্ববর্তী দেশে ফেলে আসা হয়েছিল এবং যেভাবে তিনি বিচারের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন, তাতে মনে করার কোনো কারণ নেই যে, গুমের সঙ্গে জড়িত অপরাধীরা আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারবে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, যারা গুম হয়েছেন তারা আমার স্বজন, ভাই-বোন, প্রতিবেশী এবং বাংলাদেশের মানুষ। তারা জিয়া পরিবারসহ দেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ের প্রতিবেশী।

বিরোধীদলের আপত্তির মুখে আইনমন্ত্রী ব্যাখ্যা দেন, মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি যেভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে, তা বহাল রাখলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের প্রতি অবিচার করা হতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা একইসঙ্গে ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইনে ‘ক্রাইম এগেইনস্ট হিউম্যানিটি’ বা মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় গুমকে অন্তর্ভুক্ত করেছি। সেখানে তদন্ত ও বিচার হবে এবং অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

অন্যদিকে, বর্তমান অধ্যাদেশে গুমের সাজা সর্বোচ্চ ১০ বছর রাখা হয়েছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, অধ্যাদেশে বর্ণিত মানবাধিকার কমিশন আইনের তদন্ত প্রক্রিয়ায় যে সময়সীমা (টাইমফ্রেম) দেওয়া হয়েছে, তাতে ভুক্তভোগীরা আরও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ কারণেই বিশেষ কমিটিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ব্যারিস্টার আরমান হয়তো সেখানে উপস্থিত না থাকায় প্রকৃত তথ্যটি জানতে পারেননি।

আসাদুজ্জামান জানান, সরকার আইন দুটিকে আরও যুগোপযোগী, জনকল্যাণমুখী এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এই অধিবেশনের মাঝামাঝি সময়ে বা পরবর্তীতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে নতুন বিল আনা হবে, যাতে অপরাধীরা কোনোভাবেই পার না পায়।

তিনি উল্লেখ করেন, গুম আইনের সাজার বিধান, তদন্ত পদ্ধতি এবং আইসিটি অ্যাক্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিধানের মধ্যে যাতে কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থা তৈরি না হয়, সেজন্য আইনগুলো যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় ব্যারিস্টার আরমানসহ গুমের ভুক্তভোগীদের প্রতিনিধি হিসেবে রাখা হবে এবং তাদের মতামত নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

বাংলাপেইজ/এএসএম

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments