বাংলা নববর্ষের উদীচী শিল্পী গোষ্টীর বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর চালিয়েছে দুূর্বৃত্তরা। এ হামলায় উদীচী শিল্পী গোষ্টীর শ্রীমঙ্গল শাখার সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, এজাজ আহমেদ, তপু ইসলাম, সজিব মিয়া,সালমান চৌধুরী, হাবিবুর রহমানসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম গুরুতর আহত হয়েছেন। দূর্বৃত্তরা জোরপূর্বক উদীচী শিল্পী গোষ্টীর বাংলা বর্ষবরণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এলাকার লোকজনের মধ্যে বাংলা নববর্ষ (পহেলা বৈশাখ) বরণ অনুষ্ঠানের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। প্রতি বছর দলমত নির্বিশেষে তারা উদীচীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে আসেন। প্রতিবছরের মত এবারও উদীচী শিল্পী গোষ্টী শ্রীমঙ্গল শাখার উদ্যোগে শ্রীমঙ্গল শহরে বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান উৎযাপন করা হয়। পহেলা বৈশাখের সকালে অনুষ্ঠান চলাকালে লাঠিসোটা ও রামদাসহ অনান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নিয়ে একদল দূর্বৃত্তরা অনুষ্ঠানস্থলে আসে। তারা জোরপূর্বক অনুষ্ঠান বন্ধ করা চেস্টা করে। তখন উদীচীর সদস্যরা তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তারা কোন কথা না বলে লাঠিসোটা দিয়ে সবার উপর হামলা চালায়। তারা মঞ্চ ভাংচুর করে।
এতে আতঙ্কিত হয়ে উপস্থিত জনতা ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়। তখন তারা উদীচীর শ্রীমঙ্গল শাখার সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, এজাজ আহমেদ, তপু ইসলাম, সজিব মিয়া,সালমান চৌধুরী, হাবিবুর রহমানসহ অন্তত ১৫ পিটিয়ে আহত করে।

উদীচী শিল্পী গোষ্টীর শ্রীমঙ্গল শাখার সভাপতি নীলকান্ত দেব বলেন, বাংলা নববর্ষ অনুষ্ঠান চলাকালে উচ্ছৃঙ্খল একদল মানুষ লাঠিশোটা নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে এসে হামলা চালায়। তারা মঞ্চ ভাংচুর করে এবং উদীচী শিল্পী গোষ্টীর শ্রীমঙ্গল শাখার সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ অন্তত ১৫ জনকে পিটিয়ে আহত করে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘হামলাকারীরা আমাকে ও শ্রীমঙ্গল শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম কে প্রাণনাশের হুমকী দিয়েছে। এটি আর সংঘঠনের সাথে সম্পৃক্ত নয়। এটি ব্যক্তিগত আক্রোশে পরিণত হয়েছে।
উদীচী শিল্পী গোষ্টীর শ্রীমঙ্গল শাখার সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দেশবিরোধীদের হামলায় আমাদের অনুষ্ঠান বন্ধ হয়েছে। আমিসহ অনেকে হতাহত হয়েছে। ২০২৩ সালের ১৪এপ্রিল মাসে তারা উদীচী শিল্পী গোষ্টী, শ্রীমঙ্গল অফিস ভাংচুর করতে আসলে আমরা বাঁধা দিলে আমাকে মারতে আসে। অন্যান্য সহকর্মীদের হস্তক্ষেপে চলে গেলেও আমাকে হত্যার হুমকী দেয়।
তিনি বলেন, আমি ২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশের হক এন্ড সন্স শিপিং কোম্পানীর মাধ্যমে জাপানের একটি শিপিং কোম্পানীতে কর্মরত আছি। ২০২৩ সালে জাহাজে চাকুরীর উদ্দেশ্যে বিদেশ গেলে আমার পরিবার একা থাকতো। তখন আমার অবর্তমানে আমার পরিবারকেও নিয়মিতভাবে হুমকী দিতে থাকে। আমার পরিবার ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে আমার শ্বশুরবাড়ীতে কিছুদিন অবস্থান করে।
তিনি আরোও বলেন ২০২৪ সালে জাহাজের চাকুরী থেকে দেশে এসে আবারও হামলার শিকার হলাম।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বৃহত্তম সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্টী। এই শিল্পী গোষ্টী সঙ্গীত, নাটক, ও শিল্পের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা প্রচারের জন্য সুপরিচিত। মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক ্্ঐতিহ্য প্রগতিশীল মুল্যবোধের পক্ষে কাজ করে। ফলে দেশজুড়ে বিভিন্ন সময় এই গোষ্ঠী নানাবিধ হামলার শিকার হয়েছে। এতে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।



