আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতিতে অবশ্যই ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের অন্যতম মুখপাত্র মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ইসরায়েল প্রথম’ নীতি ত্যাগ করারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় ঘালিবাফ বলেন, “(যুক্তরাষ্ট্র-ইরান) যুদ্ধবিরতিতে লেবাননের অন্তর্ভুক্তি অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রকে মেনে নিতে হবে। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইসরায়েল প্রথম’ পররাষ্ট্রনীতিও ত্যাগ করা উচিত ওয়াশিংটনের।”
এক্সবার্তায় ঘালিবাফ বলেন, লেবাননে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি নির্ভর করবে দেশটির সশস্ত্র ইসলামি গোষ্ঠী হিজবুল্লার অটল সংগ্রামের ওপর।
উল্লেখ্য, হিজবুল্লা, হামাস, হুথি মিলিশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিয়মিত অর্থ, অস্ত্র ও নির্দেশনা প্রদান করে ইরান।
বুধবারের বিবৃতেতে এই গোষ্ঠীগুলোকে ‘প্রতিরোধী পক্ষ’ উল্লেখ করে এক্সবার্তায় ঘালিবাফ বলেন, “যুদ্ধ হোক কিংবা যুদ্ধবিরতি— হিজবুল্লা, হামাস, হুথি এবং ইরাকি মিলিশিয়ারা সবাই এক-আত্মা।”
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কয়েক বছর ধরে বিরোধ চলার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। ইরানে অভিযান শুরুর ২ দিন পর ২ মার্চ যুদ্ধবিরতি ভেঙে লেবাননে সামরিক অভিযান শুর করে ইসরায়েল।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সেই অভিযানে এ পর্যন্ত লেবাননে নিহত হয়েছেন ২ হাজার ২৬৭ জন এবং আহত হয়েছেন ৬ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি। এছাড়া কয়েক লাখ মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে নিরাদ আশ্রয়ের উদ্দেশে ছুটতে বাধ্য হয়েছেন।
টানা প্রায় ৪০ দিন যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল।
সূত্র : বিবিসি



