চলতি বছরে বলার মতো সাফল্য নেই বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের। এখন পর্যন্ত ছয়টি ম্যাচ খেলেছে লাল-সুবজের প্রতিনিধিরা। যার মধ্যে চারটি হার ও দুটিতে ড্র করেছে কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার দল। চলতি মাসে শেষ সপ্তাহে দুটি ম্যাচে ইতিবাচক ফলাফল চান বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি কাজী সালাউদ্দীন। এবার কড়া বার্তা দিয়ে সভাপতি বলেন, ‘তোমরা যা করছ তোমাদের খেলার সুযোগ নাই আর। তোমাদের করতেই হবে।’
শুক্রবার উত্তরাস্থ আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়ন (এপিবিএন) খেলার জামালদের অনুশীলন দেখতে আসেন সালাউদ্দীন। এসে তিনি বলেন, ‘এবার কিন্তু আমি এসে বলি নাই, ভালো করবা। এবার এসে বলেছি, তোমরা যা করছ তোমাদের খেলার সুযোগ নাই আর। এবার ভিন্ন মেসেজ দেওয়া হয়েছে, তোমাদের করতেই হবে। না হলে আমরা চার বছর অপেক্ষা করব, তরুণ ফুটবলারদের উঠিয়ে আনব। বলেছি, তোমরা আমাদের(ফুটবলার) বলতে হবে না। তোমরা করে এনে আমাদের দেখাবা।’
অনুশীলন শুরুর আগে ফুটবলারদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন কাজী সালাউদ্দিন। কথা বলেছেন নানা বিষয় নিয়ে।নিজের ক্যারিয়ারের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, তোমরা পেশাদার ফুটবলার, তোমাদের পেশাদারের মত আচরণ করতে হবে, এবং দেশের হয়ে তোমরা খেলছ। কারণ আপনি যে কাজই করুন না কেন, দেশের হয়ে খেলার চেয়ে আর কোনো সম্মান নেই। আমি ১৬ বছর বয়স থেকে খেলছি, যত খেলাই খেলি না কেন এটা অনেক সম্মানের কারণ এটা দিয়েই মানুষের সান্নিধ্যে পৌছানো যায়।’
সুযোগ পেলে বরাবরের মতো মাঠে চান সভাপতি। দেখেন জামালদের অনুশীলন। পাশাপাশি জাতীয় দলেল অনুশীলনের ভিডিও দেখেন তিনি বলেন ‘আমরা অফিসে ভিডিও বিশ্লেষণ করেছি, আমাদের অনেক নামীদামী খেলোয়াড় নাই। প্লেয়ারদের মেন্টালিটি দেখলাম তারা খুব বেশি উদ্বিগ্ন না। ভবিষ্যতে অনেক তরুণ ফুটবলার উঠে আসছে।’
কাজী সালাউদ্দিনের বিশ্বাস ক্লাবগুলো যদি আরো পেশাদার, ফুটবলীয় কাঠামোয় উন্নতি আনে এবং অনূর্ধ্ব-১৮ লিগে অংশ নেয় তবে দেশের ফুটবলে পরিবর্তন আসবেই। বয়সভিত্তিক দল ও নারী দলের উদাহরণ টেনে এনে বাফুফে সভাপতি বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-১৭ আর মেয়েদের দল ভালো করছে কেন? এদেরকে আমরা একদম প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করেছি। দুটোই ফেডারেশনের দল। আমরা এবিসিডি শিখিয়ে আনছি। ‘
তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় দলের ক্ষেত্রে হয় কি, এরা এবিসি শিখে অন্য ক্লাবের সঙ্গে থাকে। আমরা যখন নেই তখন ওরা গ্রাজুয়েশন পরীক্ষা দিতে আসে। তাই প্রস্তুতি আমাদের মতো হয় না। তবে ক্লাবগুলো যদি উন্নত হয়ে যায়, যদি ক্লাবের অনূর্ধ্ব-১৮ খেলে এবং কিছু কিছু পেশাদার আচরণ আসে তাহলে সম্ভব। আগের থেকে তো অনেক পরিবর্তন এসেছে। পরিবর্তন আসবেই।’
এদিকে ম্যাচ ফিক্সিংয়ে ব্যাপারে জিরো টরালেন্স বাফুফে। এটা সন্মরণ করিয়ে সাবেক এই ফুটবলার বলেন,যাকে তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে কারণ তার বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেছে। কমিটি যাকে দোষী পেয়েছে তাকেই শাস্তি দিয়েছে। আমাকে তো আমাদের বিবেককে কৈফিয়ত দিতে হবে। বেশিরভাগ দলেরই ফিন্যান্সিয়াল স্ট্রাকচার নাই যেকারণে তাঁরা ফেল করেছে। দুটো ক্লাবের স্ট্রাকচার আছে, আবাহনী-বসুন্ধরা। কম বেশি তাঁরা করছে। এর মধ্যেও গলদ আছে। বিশেষ করে আমার ক্লাব(আবাহনী) লেকিংস আছে। এটা ফুল টাইম জব। ফুটবলে করতে হলে এটা ফুলটাইম জব। কমিটি ছিল। যাকে যেখানে প্রমাণ পেয়েছে তাঁকেই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। কেউ ফিফায় যাবে, যাক। তাঁকে তো না করা হয়নি। আমি তো আপনার দরজা আটকাচ্ছি না। আমার কমিটি যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, সেটা সঠিক সিদ্ধান্তই দেওয়া হয়েছে। আপনি আমাকে ধমক দিয়েন না, যান ফিফায় যান। আমি আপনাকে আটকাবো না।’
সাইফ যুব দলের ম্যাননেজার জাহাঙ্গীর ফ্যাক্সিং কান্ডে আজীবন নিষিদ্ধ হয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন ‘ওনার ক্ষমতা আছে(জাহাঙ্গীর, উত্তর বারিধারা), যেখানে ইচ্ছা যাক। যেটা করা হয়েছে সেটা সঠিক সিদ্ধান্ত। আপনার ব্যক্তিগত প্রশ্ন থাকলে ডিসিপ্লিন কমিটির সঙ্গে আলোচনায় বসুন। জাহাঙ্গীর সাহেব আমাদের শত্রু না।’
বাংলাপেইজ/এএসএম



