বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করায় সিলেটের বিশ্বনাথের পৌর মেয়র মুহিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে জাগরণ উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলার জাগরণ উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক প্রতিবাদ সভা করেছে।
প্রতিবাদ সভায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক আহমদ রহিম লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর পৌর মেয়র মুহিবুর রহমান হঠাৎ করে আমাদের বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে তার ফেসবুক পেইজে লাইভ ভিডিও’র মাধ্যমে মিথ্যা, উদ্ভট, বানোয়াট কথা প্রচার করেন।
তিনি বলেন, ১৯৮৫ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, তাঁর উন্নয়ন ছিনতাই করা হয়েছে বলে লাইভে এলাকাবাসীকে নিয়ে নানা কটুক্তিও করেন। বিদ্যালয়ে থাকা ভূমি দাতার নাম ফলকটি সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের উপাসনালয় মন্দিরের সাথেও তুলনা করেন।
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ১৯৯০ সালের পাশ্ববর্তি ধর্মদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে ক্লাস শুরুর মাধ্যমে জাগরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। আর সেই ক্লাস উদ্বোধনের দিন তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি এবং তৎকালীন শিক্ষা অফিসার উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তিনি চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে তার পক্ষ থেকে অথবা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্কুলে কোন অনুদানই পাওয়া যায়নি। অথচ তিনি এলাকার বহু আকাঙ্কিত এই ফসলকে নিজের নামে নেয়ার হীন চেষ্ঠা করছেন। তার এমন হীন চেষ্ঠাকে এই জনপদের মানুষ কখনো পূরণ হতে দেবেনা বলে হুশিয়ারি দেন।
এসময় তারা পৌর মেয়র মুহিবুর রহমাকে ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, ১৮৫ সালে এই এলাকায় জাগরণ উচ্চ বিদ্যালয় নামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন তার প্রমাণ দিতে পারলে আমরা এলাকাবাসী ও স্কুল কর্তৃপক্ষ মেয়রের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইবে। নতুবা মেয়র মুহিবুর রহমান এমন এমন মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্ভট বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়ে উনার ফেসবুক পেইজ থেকে ভিডিওটি অপসারণ করার আহবান জানান।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ ফরিদ আহমদ’র সভাপতিত্বে ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাহিদুর রহমানের পরিচালনায় বক্তব্য দেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহ আসাদুজ্জামান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, এলাকার মুরব্বি হাজী নোয়াব আলী, হাজী মাসুক মিয়া, জিলু মিয়া, গোলাম রাব্বানী, ফখর উদ্দিন, আব্দুল জলিল, জামাল উদ্দিন, সুজন মিয়া মেম্বারসহ দুই শতাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এবিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র মুহিবুর রহমান বলেন, সঠিক তথ্য উদঘাটনে যদি কারও গাত্রদাহ হয় তাহলে সেটা অশুভনীয়।
বাংলাপেইজ/এএসএম



