জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা
নির্বাচনী এলাকায় পরিবর্তনের ফলে কুমিল্লা-২ আসনে বিএনপি থেকে নমিনেশন দেওয়া নিয়ে শুরু হয়েছে জটিলতা।
তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপি নেতাকর্মিরা বলছেন কুমিল্লা-২ আসনের নির্বাচনী এলাকার ভৌগোলিক পরিবর্তন ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রবীণ নেতা অধ্যাপক খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরোধিতার পরেও হোমনা ও তিতাসের মানুষের কাছে এখন পর্যন্ত আস্থা শিক্ষক নেতা অধ্যাপক সেলিম ভুইয়া।
তারা জানান যে পূর্বে কুমিল্লা-২ আসনটি হোমনা ও মেঘনা উপজেলা নিয়ে গঠিত ছিল, এবং কুমিল্লা-১ ছিল দাউদকান্দি ও তিতাস উপজেলা নিয়ে।
অধ্যাপক সেলিম ভুঁইয়ার জন্মস্থান মেঘনা হওয়ায় কুমিল্লা-২ আসনটি তাঁর জন্য একরকম নিশ্চিত ছিল।
তবে অভিযোগ উঠেছে, অধ্যাপক খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রাক্তন অতিরিক্ত সচিব ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিনকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবের সহায়তায় আসন পরিবর্তন করান। এই পরিবর্তনে মেঘনা উপজেলাকে তাঁর আসন দাউদকান্দির (আগে দাউদকান্দি-তিতাস ছিল) সাথে যুক্ত করা হয়।
হোমনা উপজেলাকে তিতাসের সাথে যুক্ত করে বর্তমান কুমিল্লা-২ আসনটি (হোমনা-তিতাস) গঠিত হয়।
হোমনার বাসিন্দা ও কুমিল্লার একটি কলেজের অধ্যাপক আব্দুল গনি বলেন, “স্থানীয় জনগণের তোয়াক্কা না করেই এই সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন।”
একে সেলিম ভুইয়া কে ঠেকাতে ‘ভুগোল পরিবর্তন’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এই পরিবর্তনের পরেও হোমনা ও তিতাস উভয় স্থানে অধ্যাপক সেলিম ভুঁইয়ার প্রবল জনপ্রিয়তা থাকায় ও হোমনায় নিজের আবাসস্থল থাকায় তাঁর মনোনয়ন কনফার্ম হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।
তাঁর জন্মস্থান মেঘনা হলেও, হোমনা ও তিতাসের ভোটারদের সাথে তাঁর দীর্ঘ সময়ের সংযোগ এবং পার্টির প্রতি তিন যুগের অবদান তাঁকে মনোনয়নের কাছাকাছি নিয়ে আসে।
নির্বাচনি এলাকা পরিবর্তন হবার পরেও তিনি ঢাকায় বিএনপির পক্ষে প্রায় ২ লক্ষ শিক্ষকের মহাসমাবেশ করেন।
অভিযোগকারীদের মতে, এই অবস্থায় বাদ সাধেন অধ্যাপক মোশাররফ। তিনি স্থায়ী কমিটির মিটিংয়ে সরাসরি সেলিম ভুঁইয়ার বিরোধিতা করেন।

নিজের সন্তানকে এমপি বানানোর ইচ্ছাও এর পিছনে কাজ করেছে বলে জানান অনেকে।
তবে, বিএনপি থেকে একই পরিবারে একাধিক প্রার্থী করা যাবে না এমন ঘোষণা আসার সঙ্গে সঙ্গে আমলা এম এ মতিনকে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার জন্য একটা শ্রেনী চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন মেঘনা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক কেফায়েত উল্লাহ।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বলেন, হোমনাতে নিজের বাসস্থান ও দীর্ঘদিনের ওঠাবসার কারণে সেলিম ভুঁইয়া খুবই পরিচিত নাম।
জামায়াতপন্থী ব্যবসায়ীরা তাদের প্রার্থীর জন্যে বিপুল পরিমান অর্থ ঢালছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এখানে জামাতের টাকার জবাবে সেলিম ভুঁইয়ার মত যোগ্য নেতা লাগবে যদি ভোটে জিততে হয়, যোগ্য নেতা হলে জামাতের টাকা হোমনা আর তিতাস নদীতে ভেসে যাবে”।
কোনো অপরিচিত ও অরাজনৈতিক আমলাকে দিয়ে নির্বাচন করালে নিশ্চিত কুমিল্লার এই আসনটি হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে বলে আশংকা ব্যাক্ত করেন তিনি।
অধ্যাপক মোশাররফ হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এম এ মতিন বলেন, তিনি পার্টির সিদ্ধান্তের উপরে কোনো কথা বলবেন না। জিজ্ঞাসা করলে বলেন নির্বাচন সচিব তাঁর পরিচিত হলেও এই ধরনের কোনো বিষয়ে তিনি তাঁকে অনুরোধ করেননি বলে বলে জানান।
অধ্যাপক সেলিম ভুঁইয়ার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাঁর পিএস মুরাদ জানান, “স্যার হোমনা ও তিতাসে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বেশ কিছু সভা ও র্যালিতে ব্যস্ত আছেন।”



