নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘আমাদের এখানে মাটি চাপা দেওয়ার পর খুব কষ্টে আছি। পেছনে যে ঘরগুলো আছে, সবার টয়লেট বন্ধ। ট্যাংকিগুলো মাটিতে ভরে গেছে। রান্না খাওয়া বন্ধ। বাইরে ইট পেতে রান্না করতে হচ্ছে। এরমধ্যে বৃষ্টি হলে রান্না একেবারে বন্ধ। ছেলে-মেয়েদের মুখে ঠিকমতো খাবার দিতে পারছি না।’
এভাবেই নিজেদের কষ্টের কথা বলছিলেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা তপতি দাস। তিনি বলেন, ‘রাতের বেলায় গরমে অসুস্থ হয়ে পড়তে হচ্ছে, দিনেও কাজে যেতে পারি না। সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ছি। আমরা খুব সমস্যার ভেতরে আছি।’
একই প্রকল্প এলাকার বাসিন্দা মুন্নি বেগম ঢাকা পোস্টকে বলেন, রান্নাঘর, টিন, বাথরুম ভেঙে মাটিতে ভরে গেছে। চার-পাঁচদিন ধরে এই অবস্থা। রান্না করতে সমস্যা হচ্ছে। আজ তারা ঘরের পেছনের মাটি সরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ঘরের মাটি আমাদের টানতে খুব কষ্ট হচ্ছে। গরীব মানুষ আমরা, কিষাণ (দিনমজুর) দিয়ে মাটি টানাবো সেই অবস্থাও নেই। আমার স্বামী অসুস্থ, কী করব? আজ চার-পাঁচ দিন কষ্ট করে মাটি টানছি।
ডুমুরিয়া বরাতিয়া এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, জানুয়ারি মাস থেকে নদী খননের কাজ শুরু হয়। কাজ চলছিল। হঠাৎ কয়েকদিন ধরে মাটির পাহাড় হয়ে গেল। তারা এমনভাবে মাটিগুলো রেখেছে, ঘরগুলো ভেঙে গেছে, বাথরুমের ট্যাংকিগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। ওয়ালে মাটির চাপ পড়ে ফেটে গেছে। ভেকু গাড়ি যখন মাটি সরায় তখন ঘরগুলো কাঁপতে থাকে। এখানকার সবাই হতদরিদ্র।
প্রকল্প এলাকার বাসিন্দা বেবি বেগম বলেন, টিনের চাল ভেঙে গেছে। মাটির কারণে রান্নার পরিবেশ নেই, টয়লেটে যাওয়ার মতো অবস্থা নেই। এই অবস্থায় আমরা কীভাবে এখানে বসবাস করব? বিকল্প ব্যবস্থায় রান্না করেছি। এখানে বিদ্যুতের ব্যবস্থাও নেই। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে ছেলে-মেয়েরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
আশ্রয়ণের বাসিন্দা চামেলী দাসকে বলেন, নদী খননের মাটির চাপে ঘরগুলো ভেঙে যাচ্ছে। ঘরের পেছনে যেগুলো বাথরুম আছে, সব ভেঙে গেছে। আর আমি অসুস্থ, পেটে টিউমার হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় এই গরমে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছি। শিশুরা পড়াশোনা করতে পারে না।



