Tuesday, April 21, 2026
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
Homeআজকের শীর্ষ সংবাদফারদিনের মৃত্যুতে বুশরার দায় নেই: ডিবি

ফারদিনের মৃত্যুতে বুশরার দায় নেই: ডিবি

বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশের মৃত্যুর সঙ্গে তার বন্ধু আমাতুল বুশরার কোনো সম্পৃক্ততা পায়নি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলার অভিযোগপত্রে বিষয়টি উল্লেখ করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবিপ্রধান মো. হারুন অর রশিদ।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশপ্রধান মো. হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ঘটনায় বুশরার কোনো সম্পৃক্ততা আমরা পাইনি, এটা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করব। এরপর বুশরাকে ছাড়া হবে কি না, সেটা আদালত সিদ্ধান্ত জানাবেন।’

ফারদিনের ‘আত্মহত্যা’ সংক্রান্ত আলামত বৃহস্পতিবার বুয়েট শিক্ষার্থীদের দেখান ডিবি কর্মকর্তারা। পরে আলোচিত এই ঘটনাটি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিবিপ্রধান মো. হারুন।

বুয়েট ছাত্র ফারদিন ৪ নভেম্বর নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। এ-সংক্রান্ত মামলার তদন্ত করছে ডিবি। পাশাপাশি র‌্যাবসহ আরও কয়েকটি সংস্থা ছায়াতদন্ত করছে।

পুলিশি তদন্তে জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার দিন বিকেল থেকে রাত ১০টা নাগাদ বুশরাকে নিয়ে রাজধানীর কয়েকটি জায়গায় ঘোরাঘুরি করেন ফারদিন। এরপর রামপুরায় বুশরা যে মেসে থাকেন তার কাছাকাছি তাকে পৌঁছে দেন। পরে ফারদিন আর বুয়েট ক্যাম্পাস বা নিজের বাসায় ফেরেননি।

ফারদিনের মরদেহ উদ্ধারের তিন দিনের মাথায় ১০ নভেম্বর রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমাতুল্লাহ বুশরার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও পরিকল্পিতভাবে লাশ গোপন করার অভিযোগ এনে রামপুরা থানায় মামলা করেন তার বাবা কাজী নুরউদ্দিন রানা।

ওই দিনই তাকে গ্রেপ্তার করে রামপুরা থানার পুলিশ। এরপর তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। বুশরা এর পর থেকে কারাগারে আছেন।

ডিবিপ্রধান বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, “সেদিন (৪ নভেম্বর) রাতে বুশরাকে নামিয়ে দেয়ার পর ফারদিনের সঙ্গে বুশরার একবারই ম্যাসেজের মাধ্যমে কথা হয়েছিল। বুশরা জানতে চেয়েছিলেন, ফারদিন বাসায় পৌঁছেছেন কিনা। এর উত্তরে ফারদিন শুধু উত্তর দিয়েছিলেন ‘ইয়েস’।

“এ ঘটনায় বুশরার কোনো সম্পৃক্ততা আমরা পাইনি, এটা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করব। এরপর বুশরাকে ছাড়া হবে কিনা সেটা আদালত সিদ্ধান্ত জানাবেন।”

ফারদিনের আত্মহত্যার মোটিভ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ফারদিনের মানসিক অবস্থার কথা আমরা আপনাদের বলেছি। এমনকি বুশরাকে নামিয়ে দিয়ে তিনি একা একা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেরিয়েছেন, কোনো জায়গায় তার সঙ্গে কেউ ছিলেন না।

‘তিনি এটেম্পট নিয়েছিল বাবুবাজার ব্রিজের ওখানে, কিন্তু সেখানে অনেক লোক থাকায় ঝাঁপ দেননি। সেখান থেকে গেলেন জনসন রোড, সেখান থেকে গুলিস্তান, এরপর গেলেন যাত্রাবাড়ী, যাত্রাবাড়ী থেকে লেগুনায় করে সুলতানা কামাল ব্রিজের ওখানে গেছেন।’

হারুন অর রশিদ বলেন, ‘৩৮ দিন তদন্তের পর আমরা বলেছি এটা একটা সুইসাইডাল ঘটনা, কেউ তাকে মারেনি। আজকে বুয়েটের শিক্ষার্থীদের আমরা তিন ঘণ্টা ধরে সব তথ্যপ্রমাণ দেখিয়েছি। আমরা সব যুক্তি পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে উপস্থাপন করেছি। তাদের বুঝিয়েছি যে, এই এই কারণে ফারদিন আত্মহত্যা করেছেন।

‘গত দুই বছরে ফারদিনের মুঠোফোনের লোকেশন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে তিনি আগে কখনও বাবুবাজার ব্রিজ বা সুলতানা কামাল ব্রিজে যাননি। দুই বছরে ৫২২টি নম্বরে ফারদিন কথা বলেছেন, তাদের সঙ্গেও আমরা কথা বলেছি।

‘এছাড়া ফারদিন মানুষের ৩০ বছরের বেশি বাঁচা উচিত নয় এমন মতাদর্শের দুই দার্শনিকের বই পড়তেন এবং তাদের মতাদর্শকে ধারণ করতেন। এসব বিষয় নিয়ে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে নানান সময়ে আলোচনা করেছেন। তাছাড়া ফারদিন তার কয়েকজন বন্ধুকে বলেছিলেন যে কোনো এক শুক্রবারে কারও আত্মহত্যার খবর পওয়া যাবে। ফারদিন নিজেও শুক্রবারেই আত্মহত্যা করেছেন। এটাতে আমরা আরও নিশ্চিত হয়েছি।’

বাংলাপেইজ/এএসএম

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments