শাহিনুর আহমেদ। রাজধানীর চিহ্নিত নারী মাদক কারবারীদের মধ্যে তিনি অন্যতম। কখনো মডেল ,কখনো মানবাধিকার কর্মী আবার কখনো সাংবাদিক। বিভিন্ন পরিচয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চলে তার মাদক ব্যবসা। ২০২১ সালে ভাটারা থানার বসুন্ধরা এলাকার একটি বাসা থেকে ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ ইয়াবা সুন্দরী শাহিনুরকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। শুধু মাদক ব্যবসা নয় মোহাম্মদপুর থানায় পুলিশের উপর হামলার ঘটনায়ও মামলা রয়েছে এই নারীর বিরুদ্ধে। মাদক মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় বেশ কয়েকবার কারাভোগও করতে হয়েছে তাকে। সূত্র বলছে, জামিনে মুক্ত হয়ে স্থান পরিবর্তন করে বর্তমানে পল্লবী থানার সামনে স্বপ্ন সগর এলাকার ৫ নং বিল্ডিংয়ে বসবাস করছেন তিনি। থানার পাশেই কথিত সাংবাদিকদের সহযোগীতায় ও মানবাধিকার সংগঠনের ব্যানার লাগিয়ে নিজের মাদক ব্যবসাকে জায়েজ করার করার চেষ্টা করছেন তিনি।
জানা গেছে, পল্লবী থানা এলাকায় মাদক অভিযানে এক কিশোরীর আত্মহত্যার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন ঝামলো এড়াতে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার কমিয়ে দিয়েছেন। এই সুযোগে বিভিন্ন আন্ডারগ্রাউন্ড অনলাইন পত্রিকা ও মানবাধিকার সংগঠনের কার্ড ব্যবহার করে পল্লবীতে মাদক বাণিজ্য শুরু করেছে ইয়াবা সুন্দরী শাহিনুর ও এসএম জীবন চক্র। থানার সামনে একটি রুম ভাড়া নিয়ে সেখানে বিভিন্ন পত্রিকা মানবাধিকার সংগঠন “আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশন” এর ব্যনার টানিয়ে চলছে তাদের মাদক ব্যবসা। পাশাপাশি কালশি রোডে বিহারিদের কুর্মিটোলা ক্যাম্প ও বস্তির মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে ইয়াবা সুন্দরী শাহিনুর ও এসএম জীবনের বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধান বলছে, বিভিন্ন জটিলতার কারণে মাদককারবারিদের জন্য পল্লবী থানা এলাকা অনেকটাই নিরাপদ। এজন্যই নিবন্ধনহীন অনলাইন পত্রিকা ও মানবাধিকার সংগঠনের কার্ড ব্যবহার করে পল্লবীতে মাদক বাণিজ্য চালানোর পরিকল্পনা করেন ইয়াবা সুন্দরী শাহিনুর ও এসএম জীবন। মোহাম্মদপুর থানায় পুলিশের উপর হামলার মামলায় গ্রেপ্তারের পর জাবিনে বের হয়ে বাসা পরিবর্তন করে চলে আসেন শাহিনুর। এখানে আসার পূর্বেই সম্পর্ক গড়ে তুলেন নিবন্ধনহীন অনলাইন দেশ প্রান্তর নামে একটি পত্রিকার প্রকাশক পরিচয়দানকারী জীবনের সঙ্গে। “ আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশন” নামে একটি মানবাধিকার সংগঠনের পরিচালক হিসেবেও পরিচয় দেন জীবন।
সরেজমিনে দেখা যায়, থানার উল্টোপাশের একটি বাসায় “আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশন”এর অফিস রয়েোছ। অফিসটিতে দেশ প্রান্তর নামে একটি অনলাইন পোর্টাল ও দৈনিক বাংলাদেশ সমোচারের ব্যানার লাগানো হয়েছে। আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই অফিসে স্থানীয় মাদক কারবারিদের আনাগোনা রয়েছে। মাদক নিয়ে কেউ গ্রেপ্তার হলে এই অফিসের মাধ্যমে তাদের ছাড়াতে তদবির করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, শুধু তদবিরই নয় বড় কোন মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করলেই পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয় ইয়াবা কন্যা শাহিনূরই ও এসএম জীবন। এসব কাজের জন্য তাদের নিজস্ব আইনজীাবও রয়েছে। তার মাধ্যমে অভিযোগ তৈরী করা হয়। পরে মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগগুলো পৌঁছে দেন। এতে পুলিশ সদস্যরা নানা হয়রানীর শিকার হয়। এই হয়রানী থেকে রক্ষা পেতেই পুলিশ এখন বড় মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার এড়িয়ে যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান মিয়া বলেন, ডিএমপি কমিশনার স্যারের নির্দেশে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজসহ সকল অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের চলমান অভিযান আরও বেগবান করা হয়েছে। অপরাধী যত শক্তিশালিই হোক না কেনো কোনোরকম ছাড় দেওয়া হবেনা।



