বিশ্বনাথ প্রতিনিধি: শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সিলেটের বিশ্বনাথে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রবিবার (৮ মার্চ) রাতে তারাবির নামাজের পর উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের আনরপুর ও দশপাইকা গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে থানা পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে দুই গ্রামের শিশুদের মধ্যে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ ঘটনায় কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে রবিবার রাতে দশপাইকা বাজারে দুই গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। দফায় দফায় চলা এ সংঘর্ষে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন, দৌলতপুর ইউনিয়নের দশপাইকা গ্রামের বাকপ্রতিবন্ধি মাসুক মিয়া (৫১), শাহীন খান (৪৫), নিজাম উদ্দিন (৫৩), আব্দুল আলিম (৩০), খালেদ খান (৪৩), জুবেল মিয়া (২৮), জামাল মিয়া (৩৫), চাঁদ উদ্দিন (৪৩), কামাল মিয়া (৩৭), শানুর আলী আলী (৪৯) এবং পৌর শহরের আনরপুর গ্রামের আহতরা হলেন- স্কুলছাত্র ফয়েজ আহমদ (১৩), মান্না মিয়া (৩৪), আব্দুল মালিক (৪৬), সাইদুর রহমান (৪২), আরকুম আলী (৪৩), সেলিম মিয়া (৪১), আফজল মিয়া (২৭) সহ অনেকেই আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের আহতরা তাৎক্ষণিক বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ করেন এবং গুরুত্বর আহতদেরকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফেজ আরব খান দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। বর্তমানে এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা থাকলেও পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান বলেন, বিষয়টি আপোষ-মীমাংসার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্বনাথ পুলিশ স্টেশনের অফিসার ইনচার্জ গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, এলাকার পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কোন পক্ষই অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বাংলাপেইজ/এএসএম



