ঢাকায় এসে পৌঁছেছে দেশবরেণ্য সাংবাদিক, লেখক, কলামিস্ট ও একুশের অমর গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরীর মরদেহ। শাহজালাল বিমানবন্দরে জাতীয় পতাকায় আবৃত তার মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের পর লাশ নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে। দুপুরে সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী করবস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
এ সব তথ্য নিশ্চিত করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ জানান, বিমানবন্দর থেকে সরাসরি শহিদ মিনারে নেওয়া হয় গাফফার চৌধুরীর মরদেহ। দুপুর ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয় সেখানে। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদ ও প্রেসক্লাবে জানাজা শেষে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে তাকে। এদিকে জানা গেছে, বাংলাদেশের বিমানের একই ফ্লাইটে গাফফার চৌধুরীর পরিবারের সদস্যরাও দেশে এসেছেন।
এর আগে বাংলাদেশ হাইকমিশন লন্ডনের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে শনিবার বেলা ১১টার কিছু সময় পর রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবদুল গাফফার চৌধুরীর লাশ এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে গাফফার চৌধুরীর মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজম্মেল হক।
সেখানো উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন, বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া। সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান মন্ত্রীরা। কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী ১৯ মে লন্ডনের একটি হাসপাতালে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
বাঙালির অমর গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’র রচয়িতা গাফফার চৌধুরী একাত্তরের মুজিবনগর সরকারের মুখপত্র সাপ্তাহিক জয়বাংলার নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান স্বাধীনতা পদকে ভূষিত গাফফার চৌধুরী স্বাধীনতার পর থেকে প্রবাসে ছিলেন।



