মো: আল আমীন বিশ্বাস, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি: মাগুরার মোহম্মদপুরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো: নুরুজ্জামান।
মাগুরার কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী মোঃ নুরুজ্জামান ১৯৫৪ সালে মোহাম্মদপুর থানাধীন তল্লাবাড়িয়া গ্রামে মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহন করেন।
তার পিতা আলহাজ্ব মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন মোল্লা একজন সরকারী চাকুরীজীবী ছিলেন এবং রাজনীতির সাথে সক্রিয় ছিলেন। তিনি মোহাম্মদপুর থানা কৃষকলীগের সভাপতি ছিলেন দীর্ঘদিন যাবৎ। এখনও তিনি সামাজিক কাজে নিযুক্ত আছেন এবং তিনি এলাকার বর্ষিয়ান অভিভাবক ও পরিচিত মুখ।
তিনি রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (রুয়েট) থেকে ১৯৭৭ সালে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং এ পাস করেন এবং বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯২ সালে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন থেকে স্কলারশিপ নিয়ে নেদারল্যান্ড থেকে এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপর স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
কর্মজীবনে তিনি নানা পদে সুনামের সাথে কাজ করে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে (গ্রেড ১) ২০১৪ সালে অবসরে যান। তিনি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়ে বর্তমানে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। ইঞ্জিনিয়ারদের জাতীয় প্রতিষ্ঠান দি ইনিস্টিটিশন অফ ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আই ই বি) টানা চারবার নির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত আছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুরুজ্জামান ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং চাকুরী জীবনে বিএনপি সরকারের সময়ে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হন। ১৯৮১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় শোক দিবস পালন করার জন্য সাময়িকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল।
তিনি মোহাম্মদপুর থানার প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিটা গ্রামের সাধারণ মানুষের সেবা করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন এজন্য তিনি তার পিতা-মাতার নামে একটি টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুরুজ্জামান নিজ উদ্যোগে একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মদিন উপলক্ষে, এবং জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি এবং রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও বিনামূল্যে ঔষুধ প্রদান করে থাকেন।
তিনি প্রধান প্রকৌশলী থাকাকালীন সূপেয় খাবার পানির জন্য মাগুরা সদর, শ্রীপুর, মোহাম্মদপুর এবং শালিখা থানার পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানির ব্যবস্থা করেন।তিনি মাগুরা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট তৈরি করেন। তিনি প্রধান প্রকৌশলী থাকাকালীন বাংলাদেশের স্যানিটেশন উন্নয়ন নিয়ে কাজ করেছিলেন।
বীরমুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী মোঃ নুরুজ্জামান কর্মজীবন থেকে এখন পর্যন্ত দরিদ্র মানুষের পাশে আছেন এবং তিনি জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য এবং উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন জায়গায় জনকল্যাণ মূলক কাজ করে থাকেন।
তার বড় ছেলে ডাক্তার নাজমুজ জামান পলাশ প্রতিনিয়ত প্রতিমাসে মাগুরাতে যেয়ে দরিদ্র মানুষের পাশে থাকার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন এবং তিনি মাগুরা জেলার সর্বস্তরের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি প্রতিমাসে মাগুরাতে বিনামূল্যে রোগী দেখছেন এবং রোগীদের বিনামূল্যে ঔষুধ দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুরুজ্জামান মানুষের পাশে আছেন এবং থাকবেন তারই ধারাবাহিকতায় ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা উপলক্ষে মোহাম্মদপুর উপজেলায় দরিদ্র জনগণের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করেন এবং আর্থিকভাবে তাদেরকে সাহায্য করে থাকেন। তিনি রোজার মধ্যে মোহাম্মদপুর উপজেলায় প্রায় মসজিদে ইফতারের আয়োজন করে থাকেন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিপদগ্রস্ত লোকদের সাহায্য করে থাকেন এবং বিভিন্ন সমস্যার কথা তাকে জানালে তিনি সমাধান করার চেষ্টা করে থাকেন।
মাগুরা জনগণের পাশে থাকার জন্যে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। মাগুরা জেলার তৃণমূল পর্যায়ের দরিদ্র মানুষেরা বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামানকে তাদের কাছে পেয়ে তারা আন্তরিকভাবে খুবই আনন্দিত। তিনি দরিদ্র মানুষের হৃদয়ের মধ্যে অবস্থান করে নিয়েছেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,বীরমুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী মোঃ নুরুজ্জামান কে যোগ্য মনে করলে তিনি এই এলাকার উন্নয়নের জন্য সর্বদা চেষ্টা করে যাবেন।
শুক্রবার (৫ মে) রাতে দৈনিক সমকাল প্রতিনিধির কার্যালয়ে মতবিনিময়কালে তিনি মাগুরা-২ আসন থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করেন।
প্রকৌশলী মো: নুরুজ্জামান উপজেলা তল্লাবাড়ীয়া গ্রামের মো: সাহাবুদ্দিন মোল্যার ছেলে।



