Homeবাংলাদেশবরিশালবানারীপাড়ায় মিষ্টি দেয়াকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যমূলক হামলায় স্বামীকে বাঁচাতে অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী আহত

বানারীপাড়ায় মিষ্টি দেয়াকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যমূলক হামলায় স্বামীকে বাঁচাতে অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী আহত

বানারীপাড়া প্রতিনিধি: বরিশালের বানারীপাড়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার স্বীকার হয় ৫ মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী নাছরিন।

ঘটনাটি ঘটে উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের দিদিহার গ্রামের আঃ হাই’র মাঠে।

মৃত্যু আস্রাফ মাঝির ছেলে আহত সোহাগ জানায়, তিনি ছোট বটতলা দোকানে বসে চা বিস্কুট খাবার সময় স্থানীয় ওসমান মুনশির ছেলে মনির ও আলমগীর তাকে ডাক দিয়ে মাঠে আসতে বলে। সেখানে একটি মাদ্রাসা নির্মানের জন্য ব্যানার সাটানো ও মিলাদ পড়ানো হয়। সোহাগ এসে মিষ্টি চাইলে মনির ক্ষিপ্ত হয়ে যায় এবং সোহাগ নামের অন্য একজনে ব্যানার দেখে রাখতে বলায় সোহাগ নিজেকে মনে করে বলে আচ্ছা দেখে রাখবো বলায় মনির ক্ষিপ্ত হয়ে বলে তোর দেখা লাগবে না ঘর ছড়াইয়া ফেলা। কেন ঘর সরাবে এমন প্রশ্নে মনির দ্বিগুন ক্ষিপ্ত হয়। সোহাগ বলে আপনি সরাইয়া দেন এমন কথায় মনির হাতে দাও নিয়ে সোহাগদের ঘরের দিকে এগিয়ে আসলে সোহাগের ৫ পাঁচ মাসের অন্তসত্ত্বা স্ত্রী নাছরিন এগিয়ে এসে মনিরকে বলে কি করতেছেন। তামাশার বিষয়ে আপনি এতো ক্ষিপ্ত হচ্ছেন কেন। মনির ঘরের দিকে না এসে সোহাগের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে হাতে থাকা দাও দিয়ে সোহাগের মাথায় কোপ দেয়, এবং দ্বিতীয় কোপ দিলে সোহাগ হাত দিয়ে ফিরায় তখন সোহাগের স্ত্রীর সাথে মনির দস্তাদস্তি করে নাছরিনকে মাঠে ফেলে দেয় এবং মাথার চুল ছিড়ে নেয়। নাছরিনের ডাক চিৎকারে নাছরিনের বাবাসহ অন্যান্য লোকজন এগিয়ে আসছে মনির দা রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। মনিরের দায়ের কোপে সোহাগের মাথায় ৪ টা সেলাইসহ হাতে ও যখম হয়।

ঘটনাস্থলে গেলে বেড়িয়ে আসে ভিন্ন তথ্য। যে স্থানে মারামারি ঘটে সেই জায়গায় ১০ জন গরীব অসহায় পরিবার দীর্ঘ ১৭/১৮ বছর ধরে আঃ হাইকে ভাড়া দিয়ে থাকে। আঃ হাই মারা যাবার পর ঐ জায়গাটা দেখা শুনা করে হাবীবুর রহমান। তিনি ঐ জায়গার ভাড়া উত্তোলন করে জায়গার মালিক মরহুম আঃ হাই’র স্ত্রী রহিমা খাতুনকে দিয়ে আছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এবং ভাগাটিয়া আঃ মালেক বলেন আমি এই জমিতে ১৭/১৮ বছর আগে বীজ রোপন করেছি আঃ হাই’র জমি জেনেই। হঠাৎ করে মনির এই জায়গায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় আমড়া গাছ রোপন করে আর আমাদের সবাইকে গালিগালিছ করে।

উপস্থিত এক গৃহবধু বলেন, আমাদের বাড়ির সামনে এসে মনির অকথ্য ভাষায় গালিগালাচ করে যা মুখে আনা যায় না। ঐ মাঠে বসবাসকৃত ১০ টি পরিবারই মনিরের হাত হতে বাঁচতে চায়।

এ পর্যন্ত মনির ঐ মাঠের তিনকে মারধর করেছে বলে সকল ভাড়াটিয়ারা জানায়। কিসের বলে মনির তাদের সাথে এমন করে যার কোন উত্তর ঐ ভাড়াটিয়া পক্ষরা জানে না।

এ বিষয়ে মরহুম আঃ হাই’র স্ত্রী রহিমা খাতুন বলেন, ঐ জায়গায় বর্তমানে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। মনির আদালতের আদেশ অমান্য করে কিসের জোড়ে আমার ভাড়াটিয়াদের মারধর করে তা আমি জানি না। যেহেতু আদালতে মামলা চলমান সেহেতু আদালত যে রায় দিবে আমি সেই রায় মেনে নিব।

এ প্রসঙ্গে মনিরকে মুঠোফোনে জিজ্ঞাসা করলে মনির বলেন, আমার কোন বক্তব্য নেই।

এ ব্যাপারে বানারীপাড়া থানার সাব ইন্সপেক্টর মোঃ জাহাঙ্গীর বলেন,আহত অবস্থায় সৈয়দ কাঠি থেকে সোহাগ নামে এক লোক হাসপাতালে আসছিল পরবর্তীতে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে গেছে। এরপর আমাদের কাছে কোন অভিযোগ নিয়ে আসেনি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments