খালেদ মাসুদ রনি, যুক্তরাজ্য থেকে: লন্ডন বারা অব টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত লুৎফুর রহমান, যাকে জনতার মেয়র বলা হয়। এর পিছনে অনেক কারণও রয়েছে। বৃটেনে বর্তমানে বাংলাদেশী বেশ কয়েকজন মেয়র ছাড়াও অসংখ্য কাউন্সিলার রয়েছেন। তবে সবার থেকে একটু আলাদা লুৎফুর রহমান, এর মধ্য সবচেয়ে বেশী জনসাধারণকে আকৃষ্ট করে (মেয়রের) মানুষের সাথে মেশা ও কথা বলার ধরণ।
জনতার এ মেয়র ২০২২ সালের ৫ মে ৩য় বারের মতো (২০১০-২০১৪ ও ২০২২) নির্বাচনে জয়লাভ করেন, জয়লাভের পর একের পর এক চমক দেখিয়ে যাচ্ছেন এ বাংলাদেশী। এর মধ্যে যুবকদের জন্য বছরে ১৩.৭ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করে প্রতিটি ওয়ার্ডে চালু হচ্ছে ইয়ুথ সার্ভিস, প্রাইমারী ও হাইস্কুলে ৩৮ হাজার শিক্ষার্থীকে বিনা মূল্যে খাবার বিতরন চালু করেছেন। যুক্তরাজ্যে প্রতিটি বারায় কাউন্সিল ট্যাক্স ৫% বৃদ্ধি পেলেও টাওয়ার হ্যামলেটে তিনি তা করেননি।
এত কিছুর পরেও সমালোচকরাও থেমে নেই। বর্তমানে নতুন ঘর নির্মানে তাঁর চেষ্টা চোখে পড়ার মতো। নির্বাচন পূর্ব প্রতিশ্রুতি ছিলো ৪ বছরে ৪ হাজার ঘর নির্মান, শেষ পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি বাস্থবায়ন কতটুকু করতে পারেন সময় বলে দেবে।
এদিকে,নির্বাচিত হওয়ার ১৮ মাসের মাথায় ১ নভেম্বর থেকে টাওয়ার হ্যামলেটস হোমস (টিএইচএইচ) কাউন্সিলের অধীনে চলে এসেছে, যা আগে অন্যরা দেখবার করতো। হাউজিং সার্ভিসকে সরাসরি কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণে পুনরায় নিয়ে আসার কাজ সম্পন্ন হওয়ায় আনন্দ ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান।এটা লুৎফুর রহমানের আরেকটি বিজয় হিসাবে দেখছেন তাঁর সমর্থকরা। সময় যত গড়াচ্ছে লেবারে ঘাটিতে(টাওয়ার হ্যামলেট কাউন্সিল) লুৎফুর রহমানের নতুন দল এস্পায়ারের অবস্থান আরো শক্ত হচ্ছে।
কাউন্সিলের রেসিডেন্টস নিউজলেটারে বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে দেয়া এক বার্তায় মেয়র লুৎফুর রহমান টিএইচএইচকে কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানে নিয়ে আসাকে ‘একটা মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করে এই অর্জনের জন্য কাউন্সিল এবং টিএইচএইচ সহকর্মীরা অবিশ্বাস্যভাবে কঠোর পরিশ্রম করেছেন বলে মন্তব্য করেন।তিনি বলেন, ‘নতুন হাউজিং সার্ভিসের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন আমাদের বাসিন্দারা। যে অমূল্য অন্তর্দৃষ্টি এবং অভিজ্ঞতা আপনারা নিয়ে এসেছেন, আমি তার প্রশংসা করি। আমরা সেবার মান উন্নত করতে আপনার সাথে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করব এবং আপনার বাড়ি ও আশেপাশের এলাকার যেকোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আপনাকে আরও বিস্তৃত পরিসরে মতামত দেয়ার সুযোগ দিবো। টিএইচএইচ—কে কাউন্সিলের অধীনে নিয়ে আসার মূল লক্ষ্য হচ্ছে, সর্বাবস্থায় বাসিন্দাদের শক্তিশালী কন্ঠস্বর নিশ্চিত করা, অধিকতর জবাবদিহিতা এবং বাসিন্দাদের সহায়তাকারী সকল সার্ভিসকে একত্রিত করা।’
মেয়র বলেন, ‘আমি জানি যে বাসিন্দারা জীবনযাত্রার ব্যয়—সংকটের তীব্র প্রান্তে রয়েছেন এবং এটি জনগণের জীবনে দারুণভাবে প্রভাব ফেলেছে। এই কঠিন সময়ে আপনাকে সহযোগিতা করার জন্য আমাদের পক্ষে যা করা সম্ভব আমরা তা করছি। কাউন্সিল এবং আবাসন সার্ভিসগুলোর এই যোগদান তাদের সামগ্রিক কার্যক্রমকে উন্নত করবে, যখন এই উন্নতির প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি।’
তিনি বলেন, ‘কাউন্সিলের সার্ভিসগুলো একত্রিত করার অর্থ হল আমরা আরও দায়বদ্ধ হব, ও স্থানীয় কমিউনিটির সাথে সম্পর্ক গভীরতর করব৷ আমরা আমাদের সামাজিক প্রভাব বাড়ানোর জন্য সেই স্ট্যাটাসটি ব্যবহার করব, সেটা আবাসনের প্রয়োজনে পরিবারের জন্য নতুন বাড়ি তৈরি করা হোক বা আমাদের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য, সম্পদ এবং সুস্থতায় বিনিয়োগ করা হোক। বরাবরের মতো, আমাদের কাজ শুরু হয় মৌলিক বিষয় গুলো, যেমন মেরামত ইত্যাদি কাজের মধ্য দিয়ে। কিন্তু এর আরেকটি মানে হচ্ছে আধুনিকীকরণ এবং আমরা আপনার সাথে কীভাবে যোগাযোগ করি তা উন্নত করা। আমি টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের হাউজিং ক্ষেত্রে একটি দুর্দান্ত সাফল্য নিশ্চিত করতে বারার বাসিন্দাদের এবং সহকর্মীদের পাশাপাশি কাজ করার জন্য উন্মুখ।’
তিনি বলেন, ‘টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল এখন সকল কাউন্সিল মালিকানাধীন বাড়ির ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দায়ী থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ, উন্নতি, দেখভাল করা, বাগান করা এবং ভাড়া এবং পরিষেবা চার্জ সংগ্রহ।’
বর্তমানে বাসিন্দারা যে ফোন নম্বর, ইমেইল এড্রেস এবং অনলাইন সার্ভিস ব্যবহার করে বাড়ি–ঘরের মেরামতের অনুরোধ করছেন এবং হাউজিং ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসগুলোর সাথে যোগাযোগ করছেন, তারা তা একইভাবে করতে পারবেন। ভাড়াটে এবং লিজ হোল্ডারদের অধিকারের কোন পরিবর্তন হবে না এবং বাসিন্দাদের নতুন করে কোন পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন জনতার এ মেয়র।
বাংলাপেইজ/এএসএম