নিজস্ব প্রতিবেদক: শাহবাগে জাতীয় যাদুঘরের সামনে নারী আন্দোলনের কর্মীদের উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি ) বিকাল ৫টায় এই সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণী, পেশা, রাজনৈতিক সংগঠনের নারীরা উপস্থিত ছিলেন।
একটিভিস্ট মারজিয়া প্রভার সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য প্রদান করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিনা লুৎফা নিত্রা, বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত, আলোকচিত্রী জান্নাতুল মাওয়া, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক তানিয়াহ মাহমুদা তিন্নী, একটিভিস্ট জাকিয়া শিশির, হিল উইমেনস ফেডারেশনের সেক্রেটারি রীতা চাকমা, লেখক লাবণী মন্ডল, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সংগঠক সুস্মিতা রায় সুপ্তি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ নাজিফা জান্নাত, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি নুজিয়া হাসিন রাশা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের অর্থ সম্পাদক নওশীন মুস্তারিন সাথী।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘সম্প্রতি রংপুরের তারাগঞ্জে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অপতৎপরতায় নারীদের ফুটবল খেলা বন্ধ করে দেওয়া হয়৷ এর আগে একই ঘটনা দিনাজপুর এবং জয়পুরহাটে ঘটেছে। অথচ কিছুদিন আগেই সরকার নারী ফুটবল খেলোয়াড়দের একুশে পদক ভুষিত করেছে। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সরকারের উপদেষ্টায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা এবং নারী অধিকারকর্মীরা থাকা স্বত্ত্বেও মৌলবাদের এই অপতৎপরতা সারা দেশব্যাপী নারীদের আক্রমণ করছে। তাছাড়াও গণঅভ্যুত্থানের পরে নারী আন্দোলনকারীদেরসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নারীকে সাইবার হয়রানি করা হচ্ছে। অথচ গণঅভ্যুত্থান কোন একক লিঙ্গের, একক ধর্মের এবং একক জাতির মানুষের ছিলো না।’
বক্তারা আরো বলেন, ‘ আমরা সম্পত্তিতে সমানাধিকার চাই৷ কিন্ত বাস্তবতা হচ্ছে ইসলাম ধর্মীয় আইন মোতাবেক যতটুকু সম্পত্তি নারীকে দেওয়ার কথা ততটুকুও নারী পাচ্ছে না। মাত্র ৩-৫% নারীর হাতে সম্পত্তির অধিকার থাকে এই দেশে।’
বক্তারা আরো বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর শাসনামলে নারীর অবস্থা যেমন ছিলো, ফ্যাসিবাদ হটিয়ে গণঅভ্যুত্থান হবার পরেও নারীর তেমনই অবস্থা আছে। এখনো নারীর উপর নিপীড়ন ও বিচারহীনতার কোন পরিবর্তন হয়নি। অথচ গণঅভ্যুত্থান হয়েছিলো নারী পুরুষসহ সমস্ত লিঙ্গ, জাতি, ধর্মের মানুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি নিয়ে৷ সমাজের সর্বস্তরে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের মানুষ হিসেবে বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজে নারীর অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।বাঁধাগুলো দূর করে আরও বেশি বেশি নানা ধরনের খেলাধূলা সহ মানুষ হিসেবে বিকাশের সমস্ত আয়োজন ও পরিবেশ নির্মাণের দাবি আমরা করছি এই সমাবেশ থেকে ।’
আজকের এই প্রতিবাদ সমাবেশের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি তোলা হয়।
১. রংপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাটে নারী ফুটবলারদের উপর আক্রমণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। খেলার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
২. ঘরে-বাইরে-মাঠে-সাইবারে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. সম্পত্তিতে নারীর সমানাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাপেইজ/এএসএম



