জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া প্রায় ৩.৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা) দেশে ফিরিয়ে এনেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতারণায় নিঃস্ব হওয়া সহস্র ভুক্তভোগীর এই খোয়া যাওয়া অর্থ উদ্ধারকে বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করছে সিআইডি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘এটি বড় সাফল্য যে, অনেক চেষ্টা আর নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে প্রতারণার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে পাচার হওয়া প্রায় সাড়ে ৪৪ কোটি টাকা আমরা ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছি। এ ব্যাপারে আরও তদন্ত চলছে। পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।’
এমটিএফই প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া প্রায় ৪৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা দেশে ফিরিয়ে এনেছে সিআইডি। আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘অ্যাসেট রিয়েলিটি লিমিটেড’ এবং জেপিমরগান চেজ ব্যাংকের সহায়তায় এই বিশাল অংকের ক্রিপ্টো সম্পদ উদ্ধার করা হয়েছে। পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার ক্ষেত্রে একে সিআইডির একটি মাইলফলক বা বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের একজন কর্মকর্তা বলেন, গত ১৪ মার্চ ‘অ্যাসেট রিয়েলিটি লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থটি জমা দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি জব্দ করা সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও দেশে ফেরত আনার দায়িত্বে ছিল। পরে জেপিমরগান চেজ ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থটি বাংলাদেশে পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, ‘২০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নথিপত্র প্রয়োজন হওয়ায় ২৪ মার্চ এ সংক্রান্ত কাগজপত্র চাওয়া হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ রোববার (২৯ মার্চ) সিআইডির সোনালী ব্যাংকের হিসাবে অর্থ জমা হয়েছে।’
সিআইডি’র তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এমটিএফই (Metaverse Foreign Exchange) নামে একটি প্ল্যাটফর্ম মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) পদ্ধতিতে বাংলাদেশে দ্রুত বিস্তার লাভ করে। সিনেমা বানানোর নামে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে হাজারও বাংলাদেশিকে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করা হয়।
বাংলাপেইজ/এএসএম



