Home Blog Page 1672

সব সমাবেশ বন্ধসহ কারিগরি কমিটির ৪ সুপারিশ


করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চার দফা সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। শুক্রবার কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব সুপারিশের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির ৫০তম সভায় সুপারিশ চারটি গৃহীত হয়েছে।

চার দফা সুপারিশ

১. পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ সারাবিশ্বে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের দেশেও সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি উক্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে। প্রয়োজনে কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণের জন্য কমিটি আইনি ব্যবস্থা যেমন মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পরামর্শ দিচ্ছে।

শতভাগ সঠিকভাবে মাস্ক পরা নিশ্চিত করা, হাত পরিষ্কার রাখা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে। বিভিন্ন স্থানে পুনরায় হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। 

সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে সব সামাজিক (বিয়ের অনুষ্ঠান, মেলা ইত্যাদি), ধর্মীয় (ওয়াজ মাহফিল) ও রাজনৈতিক সমাবেশ এ সময় বন্ধ করতে হবে। সভা/কর্মশালার ব্যবস্থা অনলাইনে করা প্রয়োজন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণ ও নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংক্রমণের বিষয়ে নিয়মিত নজরদারির বিষয়ে পরামর্শক কমিটি গুরুত্বারোপ করে।

সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে সব সামাজিক (বিয়ের অনুষ্ঠান, মেলা ইত্যাদি), ধর্মীয় (ওয়াজ মাহফিল) ও রাজনৈতিক সমাবেশ এ সময় বন্ধ করতে হবে। সভা/কর্মশালার ব্যবস্থা অনলাইনে করা প্রয়োজন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণ ও নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংক্রমণের বিষয়ে নিয়মিত নজরদারির বিষয়ে পরামর্শক কমিটি গুরুত্বারোপ করে।

২. শিক্ষার্থীসহ সবাইকে দ্রুত টিকার আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

৩. সব পয়েন্ট অব এন্ট্রিতে স্ক্রিনিং, কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশন আরো জোরদারে সুপারিশ করা হচ্ছে।

৪. সংক্রমণ বেড়ে গেলে তা মোকাবিলায় হাসপাতাল প্রস্তুতি বিশেষ করে পর্যাপ্ত সাধারণ ও আইসিইউ শয্যা, পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবাহের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দিচ্ছে কমিটি।

অভিযোগ উঠলে বন্ধ করে ‘অন্য নামে হাসপাতাল খোলেন’ তিনি

দালালের মাধ্যমে সরকারি হাসপাতাল থেকে ভাগিয়ে নেওয়া হয়েছিল রোগী যমজ দুই শিশুকে। তিন দিন আইসিইউতে রেখে তাদের জন্য ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল সোয়া লাখ টাকার বিল। সেই টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় বন্ধ করে দেওয়া হয় চিকিৎসা। শিশু দুটির অভিভাবক মাকে হেনস্তার পর একপর্যায়ে অসুস্থ শিশুদের বের করে দেওয়া হয় হাসপাতাল থেকে। অ্যাম্বুলেন্সে মা যখন দুই শিশুকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছান, তখন তাঁর এক কোলের সন্তানটি মৃত, অন্যটি সংকটাপন্ন।বিজ্ঞাপনবিজ্ঞাপন

রাজধানীর শ্যামলীর ‘আমার বাংলাদেশ’ নামের হাসপাতাল থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় শিশু দুটিকে বের করে দেওয়া হয়। অসুস্থ অপর শিশুটি এখন ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেছেন শিশু দুটির মা আয়েশা আক্তার। এরপর বিকেলে মোহাম্মদপুর থেকে হাসপাতালটির পরিচালক মোহাম্মদ গোলাম সরোয়ারকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। মামলার আসামি আরেক পরিচালক সোয়েব খান এখনো পলাতক।

এ ঘটনা নিয়ে সন্ধ্যায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গোলাম সরোয়ার ১৯৯২ সালে প্রাণিবিদ্যায় স্নাতকোত্তর করেন। ২০০০ সালের দিকে তিনি ঢাকায় ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলে ব্যবসা শুরু করেন। এরপর ২১ বছরে তিনি ভিন্ন ভিন্ন নামে ছয়টি (রাজারবাগ, বাসাবো, মুগদা, মোহাম্মদপুর ও শ্যামলী এলাকায়) হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলে ব্যবসা করেছেন। একটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তিনি সেটি বন্ধ করে নতুন নামে হাসপাতাল খোলেন। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল থেকে দালালদের মাধ্যমে রোগী এনে তিনি মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেন। সর্বশেষ ‘আমার বাংলাদেশ’ হাসপাতালটি চালু করেন গত বছরের জানুয়ারিতে।বিজ্ঞাপন

যমজ শিশুদের ঘটনা তুলে ধরে খন্দকার আল মঈন বলেন, শিশু দুটি ৩১ ডিসেম্বর থেকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। এক দালালের মাধ্যমে ২ জানুয়ারি তাদের ‘আমার বাংলাদেশ’ হাসপাতালে আনা হয়। ভর্তির পরই দুই শিশুর মা আয়েশা আক্তারকে বলা হয়, তাঁর সন্তানদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করতে হবে।

এর তিন দিন পর ওই মাকে ১ লাখ ২৬ হাজার টাকার বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়। তখন শিশু দুটির মা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ৪০ হাজার টাকা দিতে সমর্থ হন। এ টাকা দেওয়ার পর তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আশ্বস্ত করেন, আস্তে আস্তে পুরো টাকা পরিশোধ করবেন। সন্তানদের চিকিৎসা দিতে অনুরোধ করেন তিনি। বৃহস্পতিবার শিশু দুটির অবস্থা আরও খারাপ হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, টাকা ছাড়া চিকিৎসা দেওয়া হবে না। এমনকি ওই নারীকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয় এবং শিশুদের চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে বিকেলে তাদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়।

আয়েশা আক্তার তখন বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। ঘটনাটি জানাজানির পর এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করে র‌্যাব।

র‌্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন বলেন, যমজ শিশুর বাবা মো. জামাল সৌদি আরবপ্রবাসী। এ কারণে হাসপাতালের মালিক গোলাম সরোয়ার ভেবেছিলেন বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করবেন। যখন তিনি বুঝতে পারেন ওই নারীর কাছে খুব বেশি টাকা নেই, তখন তাঁদের বের করে দেন। এ হাসপাতালে রোগীদের স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে কোন কোন ক্ষেত্রে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে, তার হিসাব দেওয়া হয় না। ইচ্ছেমতো বিল আদায় করা হয়।

যৌন নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত লর্ড নাজির আহমেদ

একটি বালককে যৌন নির্যাতন এবং একটি বালিকাকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে বৃটিশ পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য লর্ড নাজির আহমেদকে অভিযুক্ত করেছে আদালত। বুধবার বৃটেনের একটি আদালত তাকে অভিযুক্ত করে। এতে বলা হয়, ১৯৭০এর দশকে তিনি ওই বালক ও বালিকার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন চালিয়েছিলেন। লর্ড নাজির আহমেদ পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। অনলাইন ডন এ খবর দিয়েছে।

শেফিল্ড ক্রাউন কোর্টে এ অভিযোগের শুনানি হয়। সেখানে বলা হয়, সাবেক এই এমপি যখন টিনেজার ছিলেন, তখন ইয়র্কশায়ারের রথারহ্যামে বেশ কয়েকবার এই যৌন নির্যাতন চালান তিনি। তবে ৬৪ বছর বয়সী নাজির আহমেদ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিচারক জাস্টিস ল্যাভেন্ডার আরো পরে সিদ্ধান্ত নেবেন যে, লর্ড আহমেদকে কখন শাস্তি দেয়া হবে।

আদালতে প্রসিকিউটর টম লিটল বলেছেন, নাজির আহমেদ ১৯৭০এর দশকে ওই বালিকাটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন। তখন বিবাদী মেয়েটির বয়স ছিল মাত্র ১৬ থেকে ১৭ বছর। অন্যদিকে একই সময়ে তিনি ১১ বছরের কম বয়সী ওই বালকটিকে যৌন নির্যাতন করেন। টম লিটল বলেন, লর্ড নাজির আহমেদ দাবি করেছেন এসব অভিযোগ বানোয়াট। কিন্তু দু’জন ভিকটিমের ২০১৬ সালের কথোপকথন আছে। তা থেকেই দেখা যায়, বিষয়টি বানোয়াট নয়। এতে ওই পুরুষ ভিকটিমটি ইমেইলে ওই নারীকে বলেছেন, শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমার কাছে প্রমাণ আছে। এ বিষয়টি এর আগে আদালতে তুলে ধরা হয়।

চলতি মাসে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাবে

চলতি মাসে সারাদেশে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাবে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হবে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। জানুয়ারি মাসে স্বাভাবিক যে তাপমাত্রা থাকে, এবার তার চেয়েও কমে যেতে পারে। এতে শীত পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে। এদিকে, তীব্র শীত ও কনকনে ঠাণ্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) গতকাল বুধবার আরও জানায়, এ মুহূর্তে দেশের ছয় জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এগুলো হচ্ছে- রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা। পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বাড়তি অংশ পশ্চিমবঙ্গ ও এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

জকোভিচের ভিসা বাতিল করল অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করতে পারলেন না বিশ্বের শীর্ষ টেনিস তারকা নোভাক জকোভিচ। অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করতে যেসব শর্ত পূরণ করতে হয়, তাতে তিনি ব্যর্থ হওয়ার কারণে তার ভিসা বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। তাকে মেলবোর্ন বিমাববন্দরে কয়েক ঘন্টা বসিয়ে রেখে দেশে ফেরত পাঠানোর কথা রয়েছে। তিনি করোনাভাইরাস সম্পর্কিত বিধিনিষেধ মানেননি বলে বলা হয়েছে। এ কারণে তাকে বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানোর কথা। এ খবর দিয়ে অনলাইন বিবিসি বলছে, বিশ্বের এক নম্বর টেনিস তারকা বলে ছাড় পাননি জকোভিচ। তাকে বিমানবন্দর থেকে একটি হোটেলে নিয়ে আটক রাখা হয়েছে। সেখান থেকে ফিরতি ফ্লাইটে দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

এ খবর সারাবিশ্বে হইচই পড়ে গেছে।
প্রতিটি সংবাদ মাধ্যম ফলাও করে প্রচার করছে এ খবর। কারণ, বিশ্বের এক নম্বর টেনিস তারকা তিনি। তাকে অস্ট্রেলিয়া ছাড় দিতেও পারতো। কিন্তু ‘আইন আইনই’। বড় ছোট কাউকে আলাদা চোখে দেখে না আইন। এ কথার প্রমাণ রেখে অস্ট্রেলিয়া তাকে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। বিমানবন্দরে আটকে রেখে কয়েক ঘন্টা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে করোনাভাইরাসের টিকা নেয়ার ব্যাপারে। কিন্তু তিনি টিকা নিয়েছেন কিনা সে বিষয়ে কোনো কথা বলেননি। উল্লেখ্য, গত বছরে বলেছিলেন টিকা নেয়ার বিরোধী তিনি।

ওদিকে টেনিস অস্ট্রেলিয়া নিশ্চিত করেছে যে, দুটি আলাদা প্যানেলের রিভিউয়ের পর এই খেলোয়াড়কে টিকা নেয়ার ক্ষেত্রে ছাড় দেয়া হয়েছে। কিন্তু দুবাই থেকে বুধবার তিনি যখন মেলবোর্নে পৌঁছেন সমস্যা দেখা দেয় তখনই। সেখানে অস্ট্রেলিয়ান বর্ডার ফোর্স এক বিবৃতিতে বলেছে, অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করতে হলে যেসব অত্যাবশ্যকীয় শর্ত পালন করতে হয়, জকোভিচ তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক নন এমন ব্যক্তির যদি বৈধ ভিসা না থাকে অথবা যদি তার ভিসা বাতিল করা হয়, তবে তাকে অস্ট্রেলিয়ায় আটক করা হয় এবং বের করে দেয়া হয়।

ভিক্টোরিয়ার ভারপ্রাপ্ত ক্রীড়ামন্ত্রী টুইটে বলেছেন, সংশয় থাকার কারণে নোভাক জকোভিচের ভিসার আবেদনে সমর্থন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি। এ ইস্যুতে বিবৃতি দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। জকোভিচকে ছাড় দেয়ার কথা প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। বলেছেন, তার দেশে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। এ নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন মরিসন। এতে তিনি বলেছেন, কোনো খেলোয়াড়ের প্রবেশের ক্ষেত্রে মেডিকেল ছাড় গ্রহণযোগ্য নয়। এক্ষেত্রে যেসব তথ্যপ্রমাণ দেয়া হয়েছে তা পর্যাপ্ত নয়।

ওদিকে স্থানীয় পর্যায়ের রিপোর্টে বলা হয়েছে, এখন জকোভিচ নতুন করে আইনগত আপিল করতে পারেন অথবা অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করে টুর্নামেন্ট খেলতে নতুন ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক রিপোর্টে বলেছে, বিমানবন্দর থেকে মেলবোর্নের কার্লটনে একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাকে। এই হোটেলটি অভিবাসীদের আটকে রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়। স্থানীয় মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, ওই হোটেলটি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের স্থান হিসেবে চিহ্নিত এবং সেখানে সম্প্রতি আগুন লেগেছিল।

অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী গ্রেগ হান্ট এর আগে জকোভিচের সঙ্গে এ আচরণকে ‘টাফ’ তবে সুষ্ঠু বলে বর্ণনা করেছেন। বলেছেন, অস্ট্রেলিয়া সরকারের কাছে সবাই একই আইনের আওতায়। কিন্তু নোভাক জকোভিচের সঙ্গে এমন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তার দেশ সার্বিয়া। তার পিতা শ্রাজন জকোভিচ বলেছেন, তার ছেলেকে বিমানবন্দরে পুলিশি পাহারায় একটি রুমে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি বলেছেন, এটা শুধু জকোভিচের বিরুদ্ধে লড়াই নয়, এই লড়াইটা হচ্ছে সারা বিশ্বের সঙ্গে। বিবৃতি দিয়েছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্দার ভুসিচ। তিনি বলেছেন, নোভাক জকোভিচ হয়রানির শিকার। পুরো সার্বিয়া তাকে সমর্থন করছে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রশ্নে বাংলাদেশের জবাব

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি জে ব্লিনকেনকে চিঠি লিখে নিষেধাজ্ঞা প্রশ্নে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক জবাব পাঠিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। গত ৩১শে ডিসেম্বর মন্ত্রীর স্বাক্ষর সংবলিত ওই চিঠি ওয়াশিংটনে গেছে বলে সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেছে। সূত্রমতে, সেই চিঠিতে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকসহ আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমনে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগ ও অ্যাকশনের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন মন্ত্রী। সেইসঙ্গে দুঃসাহসিক এসব কাজে এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)সহ অন্য বাহিনীগুলোর অবদানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন তিনি। গত ১০ই ডিসেম্বর মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলে র‍্যাব’র ৭ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বাইডেন প্রশাসন।

এটি বাংলাদেশের ওপর প্রথম মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। যা সরকারকে বেশ চাপে ফেলেছে বলে মনে করছেন দেশি- বিদেশি বিশ্লেষকরা। এ নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং কূটনৈতিক অঙ্গনেও উত্তাপ তৈরি হয়েছে। যদিও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না। সে সময় মন্ত্রী বলেছিলেন, নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়টি দুঃখজনক। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বহুমাত্রিক। এ কারণে আমরা বিশ্বাস করি ওই নিষেধাজ্ঞা আমাদের সার্বিক সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

মন্ত্রী মোমেন এ-ও জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের ৩ মন্ত্রীকে আলাপ- আলোচনার যে দায়িত্ব দিয়েছেন তারা সেটি করছেন। মন্ত্রী বলেছিলেন আলাপ-আলোচনা করেই তারা এর আনুষ্ঠানিক জবাব পাঠাবেন। এমনি হুট করে উত্তর দেওয়া ঠিক হবে না বলেও সেদিন মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তাছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের হাজারও ঘটনা ঘটার পাল্টা অভিযোগও তুলেছিলেন।

বলেছিলেন, প্রতিবছর তাদের পুলিশ হাজারখানেক লোক মেরে ফেলে, গুলি করে মারে। অর্থাৎ আইনবহির্ভূত হত্যা করে। আমাদের কালেভদ্রে এক-দুইজন মারা যায়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর ছয় লাখ লোক নিখোঁজ হয়। মার্কিন প্রতিবেদনের দাবি, বাংলাদেশে ১০ বছরে ৬০০ লোক নিখোঁজ হয়েছে। কোথায় ছয় লাখ আর কোথায় ছয় শ? প্রশ্ন রেখে মোমেন বলেছিলেন, আমেরিকায় যে এত লোকজন মারা যায়, এজন্য তাদের সংবাদমাধ্যম খুব বেশি মাথা ঘামায় না। কারণ তারা মনে করে, পুলিশ কর্তৃপক্ষ তাদের লাইন অব ডিউটিতে কাজ করেছে।

আমেরিকায় যে ছয় লাখ লোক নিখোঁজ হয়, বা অন্যরা মারা যায়, তার জন্য পুলিশ কর্তৃপক্ষের কারো শাস্তি হয়েছে বলে তিনি শুনেননি দাবি করে বলেছিলেন, যে সংস্থাটির ওপরে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে সেটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে বৈশ্বিক নীতি, অর্থাৎ সন্ত্রাসবাদ দমন- সেটিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। শুধু সন্ত্রাসবাদ নয়, মাদক চোরাচালান, সেটিও যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটা বড় ইস্যু। সেটিতেও তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করছে। র‍্যাব দুর্নীতিপরায়ণ নয় এবং টাকা- পয়সা দিয়ে কেউ র‍্যাবকে ব্যবহার করতে পারে না দৃঢ়তার সঙ্গে এমন দাবি করে মন্ত্রী বলেছিলেন, ফলে র‍্যাব দেশের জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর দাবি করে মন্ত্রী বলেছিলেন, ‘কিছু কিছু লোকের প্ররোচনায়, কিছু সংস্থা এবং এনজিও’র মিথ্যা তথ্যে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র আমাদের বিরুদ্ধে এত বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু আমরা তাদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করবো।

আমেরিকার সব সিদ্ধান্ত সঠিক- এমন নয় মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেছিলেন, এর ভুরিভুরি উদাহরণ রয়েছে। তারপরও আমরা আলোচনা করবো এবং আশা করি ওই দেশে পরিপক্ক লোকজন আছেন, সরকারে জ্ঞানী লোকজন আছেন এবং তারা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করবেন। সরকারের একটি সূত্রের দাবি রাজনৈতিক বক্তব্য যাই হোক, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি চায় না ঢাকা। ওয়াশিংটনও এ বিষয়ে সচেতন রয়েছে। আর এজন্য আলোচনার চেষ্টা চলছে।

সেই বিবেচনায় পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র এবং আইনমন্ত্রীর মধ্যকার ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বাংলাদেশ সুচিন্তিত একটি জবাব পাঠিয়েছে। যা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিনকেন বরাবর পাঠিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। বিস্তৃত বর্ণনা সংবলিত ওই চিঠি পাঠানোর বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, চিঠিটি আরও এক সপ্তাহ আগেই পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু হয়। কিন্তু নানা কারণে তা বিলম্ব হয়েছে। চিঠিটি ই-মেইল মারফত ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলামের স্টেট ডিপার্টমেন্টে চিঠিটি হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।

টঙ্গী শিল্প এলাকায় তুলা উৎপাদন গোডাউনে অগ্নি সংযোগ

শনিবার ২০ আগষ্ট সন্ধায় টঙ্গী শিল্প এলাকা শিলমুল জামবুড়ারটেকে মেসার্স সান্ত গ্লোবাল সোর্স প্রাঃ প্রতিষ্ঠানের গোডাউনে জুট ও তুলাজাত দ্রব্যে অগ্নি সংযোগে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এলাকাবাসি জানায়, দমকল বাহিনী ঘটনা স্থলে পৌছার পুর্বেই আগুনের লেলিহান শীখা দ্রুত প্রবাহিত হওয়াতে আনুমানিক ২ কোটি টাকার কাচামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। দমকল বাহিনীর সদস্যরা জানায়, অসাবধানতার কারনে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারা করা হচ্ছে।

গোডাউনের কিছু কর্মচারী জানায়- প্রতিদিনের ন্যায় গোডাউনে কাচামাল লোডিং/আনলোডিং চলাকালিন হঠাৎ মাস্ক পরিহিত অস্ত্র ধারী কিছু দূর্বৃত্তরা গোডাউনে জোরপূর্বক প্রবেশ করে এবং মালিক ও কর্মচারীদের কামরায় বন্দিকরে জুট ও তুলাজাত কাটপিস দ্রব্যে অগ্নিসংযোগ ঘটায়।

দূর্বৃত্তরা অগ্নি সংযোগ ঘটিয়ে যাওয়ার সময় ফাকা গোলাগুলী ও উচ্চ কণ্ঠে হুমকি ধামকি দেয় যে- জামায়েত বিএনপির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যেখানে পাবে সেখানেই অগ্নিপাত ধংস ঘটাবে।

এই বিষয় প্রতিষ্ঠানটির মালিক মাহমুদুল হাসান, টঙ্গী পৌর ওয়ার্ড নং-৪৭, যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ি হিসাবে পরিচিত। বিধায় তাহার সাথে ক্ষমতাশীন দলের নেতাদের দীর্ঘ চলমান রাজনৈতীক প্রতিহিংসা ও ব্যবসায়িক দন্দর কারনে সেই সন্ধায় দূর্বৃত্তরা তাহাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত এবং গোডাউনে অগ্নি সংযোগ ঘটায়।

মালিকের আত্নিয়সজনের সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তাহারা জানান, মাহমুদুল হাসান মুমূর্ষু অবস্থায় প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসারত আছেন। প্রতিনিধি অগ্নি সংযোগের বিষয়ে টঙ্গী থানায় ফোনে যোগাযোগে জানতে পারেন-থানা পুলিশ এখনো এইরুপ কোন অগ্নিকান্ডের অভিযোগ জানে না তবে ভিকটিম পক্ষ অভিযোগ জানালে থানা কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিদর্শক টিম পাঠাবেন এবং উপযুক্ত আইনি ব্যবসাস্থা গ্রহনের আশ্বাস জানায়।

চট্টগ্রাম রাঙ্গুনিয়াতে শ্রী নিরঞ্জন কান্তি পালকে নির্মম হত্যার রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম রাঙ্গুনিয় উপজেলায় মোগলের হাটে গত বুধবার ১৬ই ডিসেম্বর ২০২০ইং শ্রী নিরাঞ্জন কান্তি পালকে কিছু দুর্বৃত্তরা নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করেছে। এই নির্মম হত্যার বিষয় প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশীরা অবগত করেন-স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ পালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী মৃত শ্রী বিরেন্দ্র পালের পুত্র শ্রী নিরঞ্জন কান্তি পালের বংশীয় জমি সম্পত্তি এলাকার রাজনৈতীক ক্ষমতার প্রভাবে ভুমি দস্যূরা জাল দলিল পত্রের জোরে জোরদখল করলে নিরঞ্জন ও ছোট ভাই সুরেস তাহাদের বাধা দেয়। একপর্যায় উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ড ও মারামারি শুরুহলে সন্ত্রাসী ভূমি দস্যুরা দেশিয় হাতিয়ার দ্বারা নিরঞ্জন ও সুরেশকে নির্মম নির্যাতন করলে তাহারা গুরুতর আহত হয়ে লুটিয়ে পড়ে এবং তাহাদের আর্তনাদে প্রতিবেশীরা উপস্থিত হওয়ার আগেই সন্ত্রাসীরা মটোর সাইকেলে পালিয়ে যায়। লোকজন দু’জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করেন কিন্তু নিরঞ্জন মাথায় গুরুতর জখম ও রক্ত ক্ষরনের কারনে উন্নত চিকিৎসার জন্যে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অত্যন্ত দূঃজনক নিরঞ্জনের মস্তিকে গুরুতর আঘাৎ ও নিয়ন্ত্রনহীন রক্ত ক্ষরনের কারনে চিকিৎসরত রাত আনুমানিক ৯.০০ঘটিকায় মৃত্যু বরন করে ।এই নির্মম হত্যার বিষয় ভিকটিম পরিবার জানাযায় যে- শ্রী নিরঞ্জন কান্তি পাল মোগলের হাট রাস্তাবর্তী ২০শতাংশ পৈতৃক সম্পত্তির উপর এলাকার রাজনৈতীক ক্ষমতাশীন দলীয় কিছু ব্যক্তিরা লোভলালসা সৃষ্টি হয় এবং তাহারা সপিং সেন্টার তৈরীর জন্য সম্পত্তি ক্রয়ের চাপ সৃষ্টি করছিল । কিন্তু নিরঞ্জন মূল্যবান এই পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করতে রাজি না থাকায় ভূমি দস্যূ চক্ররা অনৈতীক পন্থায় ভূয়া দলিল ও রেকর্ড তৈরী করে বেআইনি ভাবে কারের বেড়া দিয়ে জমি দখল করে নেয়। সংবাদদাতা ভিকটিম পরিবার সদস্যদের কাছে হত্যাকারী ও সম্পত্তি জোর দখলদারদের পরিচয় জানতে চাইলে তাহারা অত্যন্ত ভীত ও আতঙ্ক প্রত্যহয়ে অপরাধীদের নাম পরিচয় জানাতে অসম্মতি জানায়। অতপর লাশ পরিদর্শক পুলিশ এবং রাঙ্গুনিয়া থানার ডিউটি অফিসারকে অপরাধের বিষয় জানতে চাইলে প্রশাসন তাৎক্ষনিক কোন মন্তব্য করতে রাজি নয় কিন্তু নিশ্চিত করেন যে প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য মোতাবেক ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের তৎপড়তা চলমান আছে এবং আরো নিশ্চিত করেন-ভিকটিম পরিবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে মামলার তদন্ত গুরুত্বসহ পরিচালোনার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও অপরাধীদের আইনের আওতায় নেওয়া হবে।

যুবলীগ নেতা জুয়েল রানা পল্লবী-কালশীর আতঙ্ক

ইমরান খান: রাজধানীর পল্লবী, রূপনগর ও কালশী এলাকায় মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছেন জুয়েল রানা। থানা যুুবলীগ সাধারণ সম্পাদকের অনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গোটা এলাকায় জুট ও মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, সরকারি জমি দখল করে বস্তি ও রিকশা গ্যারেজ বানানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সরকারি দলের নেতার নাম ভাঙিয়ে দলবলসহ অবৈধ অস্ত্র নিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়ান তিনি। সবশেষ বিনাকারণে দায়িত্বরত এক ট্রাফিক সার্জেন্টকে প্রকাশ্যে মারধর ও পিস্তুল উঁচিয়ে হত্যার হুমকি দেন জুয়েল।

শুধু তাই নয়, ওই পুলিশ কর্র্মকর্তার সরকারি বডিঅন ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে পোশাক ছিঁড়ে ফেলেন। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় মামলা হওয়ার পর পলাতক থাকলেও এবার তার রেহাই মিলবে না। এই যুবলীগ নেতাকে ধরতে সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় টানা অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ পুলিশ কর্মকর্তারা।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রমতে, মাত্র এক যুগ আগে পল্লবী-কালশী এলাকায় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা রিকশাচালক পিতার সন্তান জুয়েল রানার বিরদ্ধে এক মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ওই কিশোরী আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। এ ছাড়া বেশ কয়েক বছর আগে কালশী বিহারি পল্লীতে রহস্যজনক আগুনে পুড়ে ১১ জন মারা যাওয়ার ঘটনার মামলারও অন্যতম আসামি এই জুয়েল। বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর বনে যান পল্লবী থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। এরপর ক্যাডার বাহিনী গড়ে তোলার পর ধীরে ধীরে শুরু হয় তার তাণ্ডব। স্থানীয় এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি ও ঢাকা মহানগর উত্তরের এক শীর্ষ যুবলীগ প্রশ্রয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন জুয়েল রানা।

হামলার শিকার সার্জেন্ট আল ফরহাদ মোল্লা জানান, গত রবিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে দায়িত্ব পালনকালে পল্লবী থানাধীন কালশী পুলিশ বক্সের অদূরেই মূল সড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস বিকল হয়। এতে রাস্তায় যানজট লেগে গেলে সহকর্মীদের নিয়ে বাসটি রাস্তা থেকে সড়ানোর চেষ্টা করছিলাম। হঠাৎ কাছে এসে বাসচালককে গালাগালি করেন জুয়েল রানা।

এই ট্রাফিক কর্মকর্তা বলেন, তাকে শান্ত হতে বললে উল্টো আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন যুবলীগ নেতা জুয়েল। এ সময় তাকে মুখে মাস্ক লাগিয়ে কথা বলার অনুরোধ জানালে প্রচণ্ড ক্ষেপে গিয়ে আমাকে চড়থাপ্পড় মারতে থাকে ও প্যান্টের পকেট থেকে পিস্তল বের করে গুলি করার জন্য উদ্যত হন জুয়েল। সহকর্মী ও উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় রক্ষা পান।

ভুক্তভোগী সার্জেন্ট ফরহাদ জানান, ঘটনার পর আমি কালশী ট্রাফিক পুলিশ বক্সের ফিরে আসে। ওই সময় জুয়েল রানা মোবাইলে কল দিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ২৫-৩০ থেকে ৩৫ জন যুবককে ডেকে আনে। পরে পুলিশ বক্সের মধ্যেই আমার ও সহকর্মীদের ওপর দ্বিতীয় দফা হামলা চালায়। ছিনিয়ে নেয় তার বডিঅন সরকারি ক্যামেরা; ছিঁড়ে ফেলেন পরিধেয় পুলিশের পোশাক। তিনি জানান, ঊর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানিয়ে পরের দিন সোমবার পল্লবী থানায় জুয়েল রানাসহ অজ্ঞাত ৪০ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করেছি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে পল্লবীর বাউনিয়া বাঁধ একটি মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী জামেনা আক্তারকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগে পল্লবী থানায় জুয়েল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরে লোকলজ্জার ভয়ে আত্মহত্যা করেন ওই কিশোরী। পল্লবী থানা যুবলীগ সেক্রেটারি বনে গিয়ে পল্লবী, কালশী, বাউনিয়া বাঁধ, পলাশনগর, রূপনগর, বেগুনটিলা ও লালমাটি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন জুয়েল। সরকারি খাসজমি দখল করে দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রিকশা গ্যারেজ খোলেন। এ ছাড়া গোটা এলাকায় ঝুট ও মাদক কারবার এবং চাঁদাবাজিসহ যাবতীয় অপকর্মে জড়িত এই জুয়েল বাহিনী। তার বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। এমনকি এর আগে ওই এলাকায় বাসিন্দা একজন নারী সাংবাদিক ও তার বাবাকে নাজেহাল করে ক্ষমতার দাফট দেখান এই যুবলীগ নেতা।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমেদ বলেন, পুলিশ পেটানোর ঘটনায় জড়িত জুয়েল রানাসহ অচেনা ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামি ধরা পড়বে বলে আশা করছি। তার বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সার্জেন্ট ফরহাদের ওপর হামলা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তাপস কুমার কুণ্ডও একই কথা বলেন। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে যুুবলীগ নেতা জুয়েল রানার মোবাইলে ফোনে গতকাল সন্ধ্যায় একাধিকবার কল দিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়।