Home Blog

চট্টগ্রামের চকবাজারে ছাত্রলীগ-বিএনপি সংঘর্ষ

চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানা এলাকায় ছাত্রলীগের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (১৪ জুন) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম কলেজ এবং সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের প্রধান গেটের মাঝামাঝি সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

এসময় বিএনপির বহরে থাকা কয়েকটি বাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। কিছুক্ষণ উভয় পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে।

পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, বুধবার দুপুর থেকে নগরের কাজির দেউরি মোড়ে বিএনপির অঙ্গ-সংগঠন যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ চলমান রয়েছে।

সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগর, আশেপাশের জেলা-উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে যোগ দিতে থাকেন। এসময় গাড়িবহরসহ একটি মিছিল চট্টগ্রাম কলে

জ এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল। মিছিলটি কলেজের প্রধান ফটক এলাকায় পৌঁছালে সংঘর্ষের এ ঘটনাটি ঘটে। চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিএনপির মিছিল থেকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল। তাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাতে বাঁধা দিয়েছেন। এরপর তারা ছাত্রলীগের ওপর হামলা চালান।

তিন জেলায় নতুন এসপি নিয়োগ, পুলিশে বড় রদবদল

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের তিন জেলায় নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বুধবার (১২ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখা-১ থেকে এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দীনকে গাজীপুরের পুলিশ সুপার, সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মো. আমিনুক ইসলামকে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এবং পুলিশ স্টাফ কলেজের পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুককে খুলনার পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

একই প্রজ্ঞাপনে পুলিশের আরও তিন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া পৃথক একাধিক প্রজ্ঞাপনে পুলিশের অন্তত ১৭ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।

ফের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়াল ৩৭ বিলিয়ন ডলার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘরে ফিরেছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা ফেরায় রিজার্ভ ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১২ আগস্ট) দিন শেষে দেশের মোট (গ্রোস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ৩২ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার।

চলতি মাসের শুরুতে ২ আগস্ট রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার। বিপিএম-৬ ছিল ৩১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে চলতি মাসে উভয় সূচকেই রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।

তবে মোট রিজার্ভের পুরোটা ব্যবহারযোগ্য নয়। স্বল্পমেয়াদি দায় ও অন্যান্য বাধ্যবাধকতা বাদ দিলে যে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ থাকে, সেটিই অর্থনীতির জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরীণভাবে ‘ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ’ হিসাব করে, যেখানে আইএমএফের এসডিআর, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাব এবং আকুর বিলের মতো কিছু খাত বাদ দেওয়া হয়। যদিও এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ২৯ বিলিয়ন ডলারের মত আছে। প্রতি মাসে গড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় ধরা হলে, এ রিজার্ভ দিয়ে সাড়ে পাঁচ মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। সাধারণত অন্তত ৩ মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ রিজার্ভকে নিরাপদ ধরা হয়।

আওয়ামী লী‌গ সরকা‌রের শেষ সম‌য়ে অর্থ পাচার ও রেমিট্যান্স রপ্তানিতে ধীরগতির কারণে রিজার্ভ চাপে পড়ে। ওই সময় ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। সে সময় বৈদেশিক ঋণ ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালের আগস্টে দেশের রিজার্ভ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ছিল। তখন প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৪ টাকা ২০ পয়সা। তবে পরবর্তী সময়ে ঋণ অনিয়ম, অর্থপাচারসহ বিভিন্ন কারণে রিজার্ভে চাপ তৈরি হয় এবং তা কমতে থাকে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ নেমে আসে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে; আইএমএফের হিসাবে তা ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং ডলারের দাম ১২০ টাকার ওপরে উঠে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তখন আমদানিতে নানা বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়।

পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ধীরে ধীরে ডলারের বিনিময় হার বাজার ভিত্তিক করা হয়। পাশাপাশি প্রবাসী আয় বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং আমদানির ওপর বিধিনিষেধ ধাপে ধাপে শিথিল করা হয়। তুলনামূলক উদার বাণিজ্য নীতির ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে শুরু করে, যা রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে সহায়ক হয়েছে।

বর্তমন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার সময় রিজার্ভ ছিল ৩৪ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ৩০ বিলিয়ন ডলার।

বৃহস্পতিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক, চূড়ান্ত হবে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী চূড়ান্ত করা হতে পারে।

বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসহ সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে। বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘আমি এখনও কিছু জানি না। বৈঠকের সিদ্ধান্ত পেলে জানাব।’

স্থায়ী কমিটির একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী বিষয়ে চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন। কারণ, স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব চেয়ারম্যানের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন হওয়ায় বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হতে পারে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে এবং বিকেল ৩টার দিকে নির্বাচন কমিশন ভবনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে গত রোববার প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর জন্য দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

সরকারের নতুন নির্দেশনা: শপিংমল-মার্কেট-দোকান রাত ৮টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ এবং সব ধরনের আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।

এতে বলা হয়েছে, এদিন থেকেই দেশের বিভিন্ন শপিংমল, মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব মো. মামুন ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত স্মারকে বলা হয়, এর আগে ১১ জুন থেকে বিভিন্ন শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত বলবৎ ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২ আগস্ট থেকে এসব প্রতিষ্ঠান রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি সব ধরনের আলোকসজ্জা বন্ধ রাখতে হবে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান এবং অনুষ্ঠিতব্য মেলা, বাণিজ্য মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই সময়সীমা প্রযোজ্য হবে। এসব অনুষ্ঠানও রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তবে খাবারের দোকান, হাসপাতাল ও ওষুধের দোকানসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এ নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে।

শপিংমল, মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ, আলোকসজ্জা বন্ধ এবং মেলা, বাণিজ্য মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সিটি করপোরেশনের মেয়র বা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, ডিপিডিসি, ডেসকোসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে নির্দেশনার অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি ও ঢাকা দোকান মালিক সমিতিকেও এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

অনুমতি ছাড়া টাবুর ছবি-কণ্ঠ ব্যবহার করা যাবে না, আদালতের নির্দেশ

বিনোদন ডেস্ক: অনুমতি ছাড়া নিজের নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বা ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা যেকোনো কনটেন্টের অপব্যবহার বন্ধে বড় আইনি জয় পেয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী টাবু।

মূলত, অভিনেত্রীর ব্যক্তিত্ব ও প্রচার স্বত্ব সুরক্ষায় এক অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনায় গুগল, মেটা ও এক্সের মতো প্রধান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন দিল্লি হাইকোর্ট।

বিচারপতি জ্যোতি সিংয়ের একক বেঞ্চ এই রায় দেন। আদালতের নির্দেশনায় গুগল, মেটা (ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম), এক্স (সাবেক টুইটার) এবং রেডিটের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলোকে টাবুর নাম ও ছবি সংবলিত ১৫০টিরও বেশি অননুমোদিত ও বিভ্রান্তিকর লিংক (ইউআরএল) দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতের এই আদেশের ফলে টাবুর প্রকৃত নাম ‘তাবাসসুম ফাতিমা হাশমি’, তার মঞ্চ নাম ‘টাবু’, স্থিরচিত্র, সিনেমার দৃশ্য, কণ্ঠস্বর, স্বাক্ষর থেকে শুরু করে এআই প্রযুক্তি বা ডিপফেকের মাধ্যমে তৈরি যেকোনো বিকৃত কনটেন্ট বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না।

এ ছাড়া তার অনুমতি ছাড়া ছবি বা নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন পণ্য বা মার্চেন্ডাইজ বিক্রিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সম্প্রতি ইন্টারনেট মাধ্যমে টাবুর বিভিন্ন সিনেমার অংশ বা সাক্ষাৎকার এআই দিয়ে সম্পাদনা করে অশালীন ও বিকৃত কনটেন্ট তৈরি করার অভিযোগ ওঠে। এমনকি তার নামে ভুয়া ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট খুলে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিতির ভুয়া বুকিং দেওয়া এবং তার নামে মিথ্যা বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। বিষয়টি তার দীর্ঘদিনের তৈরি করা ভাবমূর্তি ও ব্যক্তিগত জীবনের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছে উল্লেখ করে অভিনেত্রী আদালতে আবেদন জানান।

ন্যাটোর আদলে মক্কা চুক্তি, মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যের আহ্বান পাকিস্তানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর আদলে একটি যৌথ সামরিক পরাশক্তি গড়ে তুলতে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে পাকিস্তান। অভ্যন্তরীণ মতভেদ ভুলে এই চুক্তিতে বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোকেও যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কোনো এক্সক্লুসিভ ক্লাব বা নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে আবদ্ধ থাকবে না।

তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের জন্য এই চুক্তির দরজা কখনোই বন্ধ রাখা হবে না। এই জোট কেবল নির্দিষ্ট কিছু দেশের কোনো ব্যক্তিগত গোষ্ঠীর হওয়া উচিত নয়; এটি আমার ব্যক্তিগত মতামত। এর পরিধি আরও বাড়াতে হবে।

‘‘আমার মনে হয়, ন্যাটোর মতো করে মুসলিম দেশগুলোর নিজেদের মধ্যকার ছোটখাটো মতভেদ, লেনদেনসংক্রান্ত ইস্যু কিংবা দ্বিপাক্ষিক সব বিরোধ দূরে সরিয়ে রাখা এবং সবাই মিলে এই একটি যৌথ প্ল্যাটফর্মে এসে দাঁড়ানো উচিত।’’

সূত্র: জিও নিউজ।

প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর শেষ হতেই হকারদের দখলে ফুটপাত

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও হকারদের দখলে চলে গেছে নগরের ফুটপাতগুলো।

উচ্ছেদের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় পুরোনো রূপে ফিরেছে ব্যস্ততম এলাকাগুলো। এতে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ পথচারীরা।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে চার দিন আগে থেকেই ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সাঁড়াশি অভিযান চালায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।

ওই সময় কাজীর দেউড়িসহ বিভিন্ন এলাকার ফুটপাতে থাকা অর্ধশতাধিক অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। নতুন রং ও তুলির আঁচড়ে সাজানো হয় পুরো এলাকা, যা নগরবাসীর মাঝে ব্যাপক স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছিল।

তবে সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরের পর থেকেই দৃশ্যপট পাল্টাতে শুরু করে। দুপুরের পর থেকে কাজীর দেউড়ি এলাকায় আবারও ফুটপাতের ওপর দোকানপাট খুলে বসতে শুরু করেন হকাররা।

বাংলাদেশ চায় হাসিনা এবং হা‌দির হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণ ত্বরান্বিত হোক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী খ‌লিলুর রহমা‌ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ভারতে অবস্থান করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্প‌ণ ত্বরা‌ন্বিত করতে দি‌ল্লিকে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণেরও অনুরোধ করা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স‌ঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সৌজন্য সাক্ষাত করতে গেলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে এ অনু‌রোধ করা হ‌য়।

সাক্ষাতের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খ‌লিলুর রহমা‌ন পররাষ্ট্র মন্ত্রণাল‌য়ে সাংবা‌দিকদের ব্রিফ করে এ তথ্য জানান।

খলিলুর রহমান বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করার জন্য বিষয়টি উঠে এসেছে। আমরা তাদের বলেছি, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য। আমরা আশা করি, ভারত এ ব্যাপার একটি ইতিবাচক দিকে এগোবে। এছাড়া, শহীদ হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীরা, আপনারা জানেন, ধরা পড়েছে। ভারত যেসব কাগজপত্র চেয়েছিল সবকিছু তাদের দিয়েছি।

‘আমাদের জন্য এটা অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় (হাদি ইস্যু)। আমরা বলেছি, হত্যাকারীদের যত দ্রুত সম্ভব আমাদের কাছে প্রত্যর্পণ করার জন্য’, বলেন তিনি।

আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব শুরুর দেড় মাসের মাথায় আজ প্রধানমন্ত্রীর স‌ঙ্গে প্রথম সাক্ষা‌ৎ পে‌লেন দী‌নেশ ত্রিবেদী। সেই সাক্ষাতে দু’দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার জন্য যে সহায়ক পরিবেশ দরকার, সেই ধরনের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য গুরত্বারোপ করা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সাক্ষাতে সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন নিয়ে আলোচনার প্রশ্নে খলিলুর রহমান বলেন, এগুলো আলোচনা হয়েছে। এগুলো খুব সংক্ষেপে আলোচনা হয়েছে। এগুলো তো প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনার নয়। গতকাল আমার সঙ্গে তার (দীনেশ ত্রিবেদী) এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

কী বার্তা দি‌তে হঠাৎ দি‌ল্লি গে‌লেন দীনেশ ত্রিবেদী?

কূটনৈতিক প্রতিবেদক: এক দি‌নের ব‌্যবধা‌নে বাংলা‌দেশ সরকা‌রের উচ্চ পর্যা‌য়ে তিন‌টি বৈঠক সম্পন্ন ক‌রে নয়া‌দি‌ল্লি‌ গে‌ছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে দি‌ল্লি‌র উদ্দেশে ঢাকা ছে‌ড়ে‌ছেন ভারত‌ীয় দূত।

এদিন, দুপু‌রে প্রথ‌মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ক‌রে‌ছেন ভারত‌ীয় দূত। এর আগে, রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খ‌লিলুর রহমা‌নের স‌ঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক ক‌রেন দীনেশ ত্রিবেদী।

ভারত‌ীয় দূতের দি‌ল্লি য‌াওয়ার তথ‌্য দিয়ে ঢাকার নির্ভর‌যোগ‌্য কূট‌নৈ‌তিক সূত্র বলছে, বাংলা‌দেশ সরকা‌রের উচ্চ পর্যা‌য়ের স‌ঙ্গে যে তিন‌টি বৈঠক হ‌য়ে‌ছে, সেগু‌লো থে‌কে প্রাপ্ত বার্তা ভার‌তের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়‌কে দ্রুত পৌঁ‌ছে দিতেই হয়ত আজই দিল্লি গেছেন দী‌নেশ ত্রিবেদী।‌ বাংলা‌দেশ সরকা‌রের অবস্থান ও ম‌নোভাব সম্পর্কে নিজ দে‌শের সদর দপ্তর‌কে জানা‌বেন তিনি।

ত‌বে ঢাকার ভারতীয় হাইক‌মিশন ভারত‌ীয় দূতের দি‌ল্লি যাওয়া নি‌য়ে ‘টু শব্দ’ কর‌তে নারাজ। আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব শুরুর দেড় মাসের মাথায় আজ প্রধানমন্ত্রীর স‌ঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ পে‌লেন দী‌নেশ ত্রিবেদী।

এমন সম‌য়ে তিনি শীর্ষ পর্যা‌য়ের সাক্ষাৎ পে‌লেন যখন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ভারতে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্প্রতি দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়কে কেন্দ্র করে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা তৈ‌রি ক‌রে‌ছে।

সাত বছরে সর্বনিম্ন, রাজশাহী বোর্ডে এসএসসির ফলে বড় ধস

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাত বছরের সর্বনিম্ন এসএসসির ফলাফল রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে। ২০২০ সালে যেখানে পাসের হার ছিল ৯০ দশমিক ৩৭ শতাংশ, সেখানে ২০২৬ সালে নেমে দাঁড়িয়েছে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে। শতাংশের হিসাবে ২০২০ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে পাসের হার কমেছে প্রায় ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাত বছরের তুলনামূলক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে। চলতি বছরের পাসের হার শুধু গত বছরের তুলনায়ই কমেনি, বরং এই সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানেই কমেছে ১৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

পাসের হারে ওঠানামা, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বড় পতন

বোর্ডের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০ সালে পাসের হার ছিল ৯০ দশমিক ৩৭ শতাংশ। করোনাকালীন ২০২১ সালে এটি বেড়ে সর্বোচ্চ ৯৪ দশমিক ৭১ শতাংশ হয়। এরপর ২০২২ সালে নেমে আসে ৮৫ দশমিক ৮৮ শতাংশে। ২০২৩ সালে সামান্য বেড়ে ৮৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ, ২০২৪ সালে আরও বেড়ে ৮৯ দশমিক ২৬ শতাংশ হয়। কিন্তু ২০২৫ সালে বড় ধাক্কায় তা নেমে আসে ৭৭ দশমিক ৬৩ শতাংশে। আর সবশেষ ২০২৬ সালে ১৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে।

অর্থাৎ পাসের হার প্রতিবছর ধারাবাহিকভাবে কমেনি; মাঝখানে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। তবে ২০২০ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত সাত বছরের সামগ্রিক হিসাবে প্রবণতাটি স্পষ্টতই নিম্নমুখী।

পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে, তবে ফলের পতন আরও বেশি

২০২০ সালে রাজশাহী বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ২ লাখ ২ হাজার ২২৯ জন। ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা কমে হয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৫২ জন। অর্থাৎ পরীক্ষার্থী কমেছে ২৩ হাজার ২৭৭ জন।

অন্যদিকে পাসের সংখ্যা ২০২০ সালে ছিল ১ লাখ ৮০ হাজার ৯০২ জন। ২০২৬ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র ১ লাখ ১২ হাজার ৮৬ জনে। অর্থাৎ ছয় বছরের ব্যবধানে পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৬৮ হাজার ৮১৬ জন।

২০২৬ সালে পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ২ হাজার ৯০৮ জন। ২০২৫ সালে অনুপস্থিত ছিল ২ হাজার ৪৮২ জন, ২০২৪ সালে ১ হাজার ৯২৪ জন, ২০২৩ সালে ২ হাজার ৭০৫ জন, ২০২২ সালে ২ হাজার ২১০ জন, ২০২১ সালে ২ হাজার ৪৮৩ জন এবং ২০২০ সালে ১ হাজার ৪৪ জন।

মেয়েদের পাসের হারও কমলেও ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে

মেয়েদের ফলাফলেও সাত বছরে উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। ২০২০ সালে মেয়েদের পাসের হার ছিল ৯১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। ২০২১ সালে তা বেড়ে ৯৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ হলেও ২০২২ সালে ৮৬ দশমিক ১৭ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৯০ দশমিক ০৮ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৯১ দশমিক ৯০ শতাংশ, ২০২৫ সালে ৮২ দশমিক ০১ শতাংশ এবং ২০২৬ সালে নেমে দাঁড়িয়েছে ৭০ দশমিক ৭৩ শতাংশে।

অন্যদিকে, ছেলেদের পাসের হার ২০২০ সালে ছিল ৮৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ, ২০২১ সালে ৯৪ দশমিক ০৪ শতাংশ, ২০২২ সালে ৮৫ দশমিক ৬২ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৮৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৮৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ, ২০২৫ সালে ৭২ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং ২০২৬ সালে মাত্র ৫৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

অর্থাৎ ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে মেয়েদের পাসের হার কমেছে ২১ দশমিক ১২ শতাংশ, আর ছেলেদের কমেছে ৩২ দশমিক ০৪ শতাংশ। চলতি বছরও মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে ১৩ দশমিক ৪০ শতাংশ এগিয়ে।