Home Blog Page 2

পাকিস্তানে সেনা অভিযানে কমান্ডারসহ ২৩ জঙ্গি নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ার দক্ষিন ওয়াজিরিস্তান ও বান্নু জেলায় অভিযান চালিয়েছে সামরিক বাহিনী। এতে নিহত হয়েছেন নিষিদ্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) এর এক কমান্ডারসহ ২৩ জন জঙ্গি।

নিহত ওই কমান্ডারের নাম জান মীর ওরফে তুর সাকিব। সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং বেসামরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত বেশ কয়েকটি হামলায় সংশ্লিষ্টতার জন্য পাকিস্তানের পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওয়ান্টেড তালিকায় ছিলেন জান মীর। তার মাথার দামও ঘোষণা করেছিল পাকিস্তানের সরকার।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী টিটিপিকে ‘ফিৎনা আল খারিজি’ নামে উল্লেখ করে থাকে।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর আন্তঃবিভাগ সংযোগ দপ্তর (আইএসপিআর) এ অভিযান সম্পর্কে বলা হয়েছে, “গত ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান জেলার দাত্তা খেল, স্পিনওয়াম উপজেলা এবং বান্নু জেলার বিভিন্ন খারিজি ঘাঁটিতে পরিচালিত সেনা অভিযানে ফিৎনা আল খারিজি কমান্ডার জান মীর ওরফে তুর সাকিবসহ ২৩ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।”

“জান মীর ওরফে তুর সাকিব ছিল ফিৎনা আল খারিজিদের একজন রিং লিডার এবং পাকিস্তানের অন্যতম মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী। দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনী এবং সাধারণ বেসামরিকদের লক্ষ্য করে ফিৎনা আল খারিজির বেশ কয়েকটি অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছে সে।

তার মাথার দামও ঘোষণা করেছিল পাকিস্তানের সরকার। জান মীরের নিহতদ হওয়া দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের ফিৎনা আল খারিজিপন্থিদের জন্য একটি বড় আঘাত।”

অভিযানে টিটিপির বিভিন্ন গোপন ঘাঁটি থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অস্ত্র, গোলাবারুদ, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, এবং বেশ কয়েকটি প্রস্তুত অবস্থায় থাকা শক্তিশালী বোমা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী।

এছাড়া দাত্তা খেল, স্পিনওয়াম এবং বান্নু জেলার ঘাাঁটি অঞ্চলগুলোতে জটিল ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ এবং বাঙ্কার তৈরি করেছিল টিটিপি। সেগুলো খুঁজে খুঁজে বের করে ধ্বংস করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে আইএসপিআরের বিবৃতিতে।

সূত্র : জিও টিভি

রামিসা হত্যার প্রতিবাদ: ৪ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক কালশী সড়ক

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের পর প্রায় চার ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর কালশী সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর কালশী রোডের ফুলকলি ও আধুনিক মোড়ে সড়ক অবরোধ করে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান বাসির। বলেন, কালশী সড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছি।

এর আগে সন্ধ্যা থেকেই ‘জাস্টিস ফর রামিসা’, ‘ফাঁসি চাই’, ‘আমার বোন খুন হলো কেন?’ এবং ‘অপরাধীর আস্তানা, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, শিশু রামিসা হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের দীর্ঘসূত্রতা মেনে নেওয়া হবে না। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানান তারা।

তারা বলছেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও দীর্ঘসূত্রতার কারণেই দেশে একের পর এক নৃশংস ঘটনা ঘটছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত কার্যক্রম চলমান।

কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতকরণে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ডিএনসিসি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশু জবাই, মাংস প্রস্তুতকরণ, চামড়া সংরক্ষণ এবং কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ইমাম ও মাংস প্রস্তুতকারীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

শুক্রবার (২২ মে) রাজধানীর ভাটারা এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতকরণ বিষয়ে ইমাম ও মাংস প্রস্তুতকারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। ডিএনসিসির আওতাধীন সকল এলাকায় নিয়মিত এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

আয়োজকরা বলেন, কোরবানির সঙ্গে সঙ্গেই রক্ত পানি দিয়ে পরিষ্কার করলে দুর্গন্ধ থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব হবে। কোরবানির বর্জ্য নির্ধারিত ব্যাগে ভরে বাসার সামনে রেখে দিলে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা তা দ্রুত অপসারণ করবে। কোরবানির ঈদে উৎপন্ন বিপুল পরিমান চামড়া ও মাংসের গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রাখতে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানান তারা।

পশু কোরবানির ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ নিলে মাংসের মান ঠিক থাকে এবং চামড়ার গুণগত মান বজায় রাখতে কী করতে হবে, প্রশিক্ষণে তা হাতে-কলমে দেখানো হচ্ছে।

এছাড়া, হালাল পদ্ধতিতে ও সহিহভাবে পশু কুরবানি করার বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পশু জবাইয়ের পর পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে যাতে রক্ত সম্পূর্ণ বের হয়ে যায়। এরপর পানি ঢেলে পরিষ্কার করলে রক্ত জমাট বাঁধবে না বলে প্রশিক্ষণে জানানো হয়।

এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলায় জামায়াতের নিন্দা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: ঝিনাইদহে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাতে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আজ ২২ মে বাদ জুমার নামাজের পর ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও ডিম নিক্ষেপের ঘটনার আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি ও উদ্বেগ প্রকাশ করছি।’

তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক সমাজে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তাই বলে ভিন্নমতের কারণে হামলা, সহিংসতা ও অপমানজনক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ঘটনা রাজনৈতিক সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থি।’

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক অঙ্গনে সহিংসতা, উস্কানি ও প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। প্রত্যেক রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আমি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল রাখার জন্য সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সচেতন নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

ধর্ষণ-হত্যার বিচারের দাবিতে এনসিপির মশাল মিছিল

বিনোদন ডেস্ক: ‘তনু-রামিসা-আছিয়া, বিচার থাকে ঝুলিয়া’ স্লোগানে সকল হত্যা ও ধর্ষণের বিচারের দাবিতে মশাল মিছিল করেছে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে বাংলামোটরের দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া মশাল মিছিল শেষ হয় শাহবাগ পর্যন্ত গিয়ে। এই মশাল মিছিলের নেতৃত্ব দেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।

মশাল মিছিলের আগে একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব সাদিয়া ফারজানা দিনা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ।

এ সময় আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, আজ মিরপুরে রামিসা, ক্যান্টনমেন্টে তনু, বসুন্ধরায় মুনিয়া কিংবা ঢাবির ছাত্রী নিপীড়ন ও হত্যার শিকার হন। একই সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নেতাকে খুশি করার নামে যৌন নিপীড়ন ঘটে।

এই এনসিপি নেতা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বলবো, এই বিষয়ে দলের থেকে তদন্ত করে সকলকে আটক করতে হবে। ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে দ্রুত বিচার বাস্তবায়ন করতে হবে। সকল রাজনৈতিক দলে ‘যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল’ গঠন করতে হবে।

শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডএমন ঘৃণ্যতম অপরাধের পুনরাবৃত্তি হতে দেব না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীঢাকা পোস্ট ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো ঘৃণ্যতম অপরাধের যাতে আর পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার শিকার ৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তারের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার অগ্রগতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশ্বস্ত করেছি, পুলিশ ডিপার্টমেন্ট দ্রুততার সাথে আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং আসামি তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী ১৬৪ ধারায়, ১৬৪ স্টেটমেন্ট যেটা বলি সেটা করেছে। এখন চার্জশিট দেওয়ার পালা।

আমরা রোববার বিকেলের মধ্যে ইনশাল্লাহ আদালতে চার্জশিট দাখিল করতে পারবো এবং তারপর অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে যাতে বিচারকার্য সম্পন্ন হয়, সেজন্য আমরা চেষ্টা করবো। যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা যায়, সেজন্য প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আমাদের জোর চেষ্টা থাকবে।’

ভবিষ্যতে এসব অপরাধ দমনে আইনি সংস্কারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই রকম ঘৃণ্যতম অপরাধের শিশু ধর্ষণ এবং হত্যা অথবা শুধুমাত্র শিশু ধর্ষণ যাই হোক, এই সমস্ত অপরাধের ক্ষেত্রে যাতে খুব দ্রুততার সাথে এবং সংক্ষিপ্ত সময়ে চার্জশিট দেওয়া যায় এবং বিচারকার্য সম্পন্ন করা যায়, সেজন্য যদি আইনে আরও কিছু পরিবর্তন আনতে হয়, সে বিষয়ে আইনমন্ত্রী এখানে আছেন। তিনি আজকে কথা দিয়েছেন, ক্যাবিনেট মিটিংয়ে আমাদের এটা আলোচনা হয়েছে, তিনি সেই বিষয়ে আইনি সংস্কারও সাধন করবেন। যেখানে প্রয়োজনীয় সংশোধন দরকার, সেটা আমরা করবো। এইভাবে আমরা দেশে এরকম ঘৃণ্যতম অপরাধের যাতে আর পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ।’

হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ: ডোনাল্ড ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে হরমুজে ইরানের টোল আরোপ নিয়েও জিজ্ঞেস করেন। তিনি বলেন, হরমুজ আন্তর্জাতিক জলসীমা। সেখানে টোল আদায় গ্রহণযোগ্য নয়।

ট্রাম্প বলেন, “হরমুজ প্রণালির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আমরা। আপনারা জানেন, আমাদের নৌ-অবরোধ, আমাদের অবরোধ ১০০ শতাংশ কার্যকর। কেউ এই অবরোধ ভাঙতে পারেনি। এটি অনেকটা লোহার দেওয়ালের মতো।”

হরমুজে টোল গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা এটি মুক্ত চাই। আমরা টোল চাই না। এটি একটি আন্তর্জাতিক জলসীমা, আন্তর্জাতিক জলপথ।”

ট্রাম্প এমন মন্তব্য করার আগে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বলেছিল, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ দিয়ে ২৪টি জাহাজ পার হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পরই হরমুজ বন্ধ করে দেয় ইরান। এরপর থেকে সেখানে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

সূত্র: আলজাজিরা

চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণ: অভিযুক্ত ডিবি কার্যালয়ে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে র‍্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে আটক করাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ জনতার মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে যোগ দিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

এদিকে, ঘটনার পর এলাকায় বিক্ষোভ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে অভিযুক্তকে আটক করে সিএমপির ডিবি (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ডিবি সূত্র।

র‍্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) এমদাদুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘শহরে র‍্যাবের নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির খবর পেয়ে র‍্যাবের পেট্রোল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি।

যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে র‍্যাব সদস্যরা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।’ র‍্যাব-৭ এর উপসহকারী পরিচালক (অপস) মুফিদুল ইসলামও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ বিকেলে চেয়ারম্যানঘাটার বিসমিল্লাহ ম্যানশন নামের একটি ভবনের সিঁড়িঘরে তিন বছরের এক শিশুকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত স্থানীয় বাসিন্দা রাস্তায় নেমে আসেন এবং অভিযুক্তকে আটকে ভবনটি ঘিরে ফেলেন। খবর পেয়ে বাকলিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে।

উত্তেজনার সূত্রপাত হয় সন্ধ্যা নামার পর, যখন পুলিশ অভিযুক্তকে ভবন থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের গাড়িটি অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং অভিযুক্তকে গণপিটুনি দেওয়ার জন্য তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে পিছু হটে অবস্থান নেয় এবং পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে রাত ৮টার দিকে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। জবাবে এলাকাবাসীও পুলিশকে লক্ষ্য করে চারদিক থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। সংঘর্ষের সময় গুলিতে একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

রামিসার বাবার কাঁধে হাত রেখে আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার শিকার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারের বাবার কাঁধে হাত রেখে ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ১০টার দিকে মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে স্কুলছাত্রী রামিসার পল্লবীর বাসায় গিয়ে শোকাহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।

এ সময় তিনি হত্যার শিকার ৭ বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারের বাবার কাঁধে হাত রেখে ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

নিহত শিশু রামিসা আক্তারের বড় বোনের দায়িত্ব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার বাবা-মাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এই অন্যায়ের সাথে যে জড়িত, তার বিচার আমরা আগে করতে চাই।

এক সন্তানকে আল্লাহপাক নিয়ে গেছেন, আরেক সন্তান আপনাদের কাছে আছেন। ওর দিকে তাকিয়ে আপনাদেরকে শক্ত থাকতে হবে, ধৈর্য ধরতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমানসহ আরও অনেকে।

যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার আমাদের চাইবে, মাঠে থেকে কাজ করে যাব: সেনাবাহিনী প্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক: যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার সেনাবাহিনীকে চাইবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেনাসদস্যরা মাঠে কাজ করে যাবেন বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে কুমিল্লা সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর ফায়ারিং প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

সেনাপ্রধান বলেন, আমরা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে এখনো ডেপ্লয়েড আছি। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই থেকে আমরা এ কাজ করে যাচ্ছি, এখনো আছি। এখনো ১৬-১৭ হাজার সারা বাংলাদেশের ৬২টা জেলায় আছে। আমরা অনেক সৈনিক আমরা উইথড্রো করেছি, বাট এখনো সম্পূর্ণ উইথড্রো হয়নি।

ইনশাআল্লাহ আমরা আশা করছি যে কিছু সময়ের মধ্যে আমরা সবাই ব্যারাকে ফেরত আসতে পারবো। তারপরও দেশের প্রয়োজনে আমাদের কিছু কাজ করে যেতেই হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার আমাদের চাইবে, মাঠে থেকে বিভিন্ন কাজ করে যাব। যেমন এখন ফিউল ডিপোগুলোতে আমাদের ডিপ্লয়মেন্ট আছে। এ রকম টাইম টু টাইম বিভিন্ন কাজে আমাদের হয়তো সরকারকে সহায়তা করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের যে প্রধান কাজ ক্যান্টনমেন্টে ফেরত এসে প্রশিক্ষণগুলো করে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি, আমাদের নিজস্ব যে পদ্ধতি আছে, নিজস্ব ওয়ে আছে সেগুলো আস্তে আস্তে আমাদের শুরু করতে হবে। এজন্য ফায়ারিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এতদিন ফায়ারিং সেভাবে করতে পারিনি।

এখন ফায়ারিং কমপ্রেশন হলো। আমি রেজাল্ট দেখলাম, দক্ষতা দেখলাম, আমি অত্যন্ত আশান্বিত যে এতদিন ফিল্ডে থাকার পরেও আমাদের ফায়ারিং সক্ষমতা কমেনি। এটা একটা ভালো লক্ষণ। আমাদের আস্তে আস্তে ট্রেনিং ইভেন্টগুলো শুরু করতে হবে। আমাদের যে কাজ সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখা, ডিসিপ্লিন ঠিক রাখা সেগুলো আমরা শুরু করছি।

পরে সেনাপ্রধান বিজয়ী ও রানারআপ দলের সদস্যদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৬ মে সদর দপ্তর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এ ফায়ারিং প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এতে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ফরমেশন, লজিস্টিকস এরিয়া, পাঁচটি স্বতন্ত্র ব্রিগেড এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডসহ মোট ১৭টি দল অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় ১৭ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও বিভিন্ন পর্যায়ের সেনাসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।