আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুদ্ধ বন্ধে সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচ শর্ত দিয়েছিল ইরান। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামনে ওই শর্তের বিপরীত নিজস্ব পাঁচটি শর্ত দিয়েছে।
মার্কিন এই পাঁচ শর্ত দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় বলে মনে করছে ওয়াশিংটন প্রশাসন। রোববার (১৭ মে) ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ভূখণ্ডে বোমা হামলায় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি নয় যুক্তরাষ্ট্র।
এছাড়া ওয়াশিংটনের দাবি, ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নিতে হবে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র মাত্র একটি কার্যকর পারমাণবিক স্থাপনা রাখতে পারবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের জব্দ করা সম্পদের ২৫ শতাংশের বেশি মুক্ত করতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে বলেও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ওয়াশিংটন।
ফার্স-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যে পাঁচটি শর্ত দিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে-
১. সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা (বিশেষ করে লেবাননে)
২. ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
৩. জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা
৪. যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও
৫. হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার স্বীকৃতি দেওয়া।
সূত্রটি আরও জানায়, যুদ্ধবিরতির পরও আরব সাগর ও ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারে তেহরানের অবিশ্বাস আরও বেড়েছে। পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের কাছে এমন বার্তা পাঠিয়েছে ইরান।
উল্লেখ্য, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন।
এর প্রতিবাদে টানা ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান। এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
ইরানের তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ৪০ দিনের যুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ৩ হাজার ৩৭৫ জন ইরানি নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।



