Sunday, May 3, 2026
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
Homeবাংলাদেশপ্রতারক জুয়েল কারাগারে: মাদক ও নারী বাণিজ্যের হোতারা নজরদারিতে

প্রতারক জুয়েল কারাগারে: মাদক ও নারী বাণিজ্যের হোতারা নজরদারিতে

বনানীর নারী ও সিসা সিন্ডিকেটের হোতা জুয়েল মুন্সি সুমনকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটের নামে চাঁদাবাজি, অবৈধভাবে সিসা লাউঞ্জ পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তার লাউঞ্জে সিসা-মাদক ও নারীদের অনৈতিক ব্যবসা করা হয়। সম্প্রতি এসব অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধে বনানীতে অভিযান পরিচালনা করে গোয়েন্দা পুলিশ। তারপর থেকেই পলাতক ছিলেন জুয়েল ও তার সিন্ডিকেটের হোতা একাধিক জালিয়াতি ও প্রতারণা মামলার আসামি জহিরুল ইসলাম জহির। বৃহস্পতিবার এই চক্রের জুয়েল মুন্সিকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, জুয়েল মুন্সিকে প্রতারণার অভিযোগে জেলে পাঠানো হয়েছে। তার আগে বুধবার তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। জুয়েল মুন্সি আইনজীবী পরিচয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের নামে চাঁদাবাজি করেছেন বলে জানান ওসি। প্রতারণার অভিযোগে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিনের আদালতে তাকে আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে কোতয়ালী থানায় পাঠানো হয়।

যৌতুক মামলা থেকে বাদ দেয়া হবে জানিয়ে আবিরুল ইসলাম চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে চার লাখ ৬৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন জুয়েল। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম ও শফি উদ্দিনকে টাকা দিতে হবে বলে এই টাকা নেন তিনি। বনানীর একটি হোটেলে নগদ এক লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন তিনি। এসময় ম্যাজিস্ট্রেটের নামে ভুয়া কাগজ সরবরাহ করেন। পরে ৩০ আগস্ট মামলার দরখাস্তের খরচ বাবদ আসামির কাছ থেকে আরও ১৫ হাজার টাকা নেন জুয়েল মুন্সি। এরপর গত ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলামের আদালত থেকে জামিন করানো ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে (সিএমএম) ম্যানেজ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিনের আদালতে মামলাটি স্থায়ী জামিন করানোর কথা বলে আরও তিন লাখ টাকা নেন। তারপর শুনানির জন্য ২০ হাজার টাকা নেন।

সূত্র বলছে, আইনজীবী পরিচয়ে দীর্ঘদিন থেকে প্রতারণা ও সিসা লাউঞ্জের নামে মাদক এবং অনৈতিক বাণিজ্য করছিলেন জুয়েল। বনানীর ডি-ব্লকের ১০ নম্বর রোডের ৬৬ নম্বরে রয়েছে আরগিলা নামে তার সিসা লাউঞ্জ। গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, আরিগলাসহ কয়েক লাউঞ্জে অবৈধ সিসা, মাদক ও অনৈতিক কার্যকলাপ হয়। যে কারণে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই লাউঞ্জে নিয়মিত আসর জমাতো বনানী, গুলশান এলাকার নারী বাণিজ্যের হোতা জহিরুল ইসলাম জহির। তার সঙ্গে থাকতো এক ঝাঁক সুন্দরী তরুণী। তাদের কেউ কেউ মডেল হিসেবে পরিচিত। সন্ধ্যার পর আরগিলা নামের লাউঞ্জ এবং লাউঞ্জ সংলগ্ন জহিরের অফিস থেকে অর্থের বিনিময়ে এসব তরুণীদের বিভিন্ন ধনাঢ্যদের কাছে পাঠানো হয়। আরগিলার আগে টিজিএস লাউঞ্জে অভিযান চালায় ডিবি। খবর পেয়ে আরিগলা বন্ধ করে পালিয়ে যান জহির ও জুয়েল।

এসব বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, কোথাও অবৈধভাবে মদ বিক্রি হলে ও অসামাজিক কার্যকলাপ হলে ডিবি অভিযান চালাবে। সিসা লাউঞ্জের নামে অবৈধ, অনৈতিক ব্যবসা পরিচালনাকারীদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments