Home Blog Page 1623

মেসির বিদায়

ঘটনাটা সবার জন্যই ছিল আকস্মিক। খবরটা আনুষ্ঠানিকভাবে আসার আগেও কেউ কেউ বিশ্বাস করেননি। আসলে চাননি। শোনা যাচ্ছিল, লিওনেল মেসির সঙ্গে সবকিছুই পাকাপাকি বার্সেলোনার। কয়েকদিনের মধ্যেই স্বাক্ষরও হবে নতুন চুক্ত। কিন্তু হুট করেই পাশার দান উল্টে যায়।

অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতায় লিওনেল মেসিকে ছাড়তে বাধ্য হয় বার্সেলোনা। ক্লাবটির সঙ্গে ২১ বছরের সম্পর্কের অবসান হয় আর্জেন্টাইন তারকার। ওই ঘটনা সবার কাছে চমকপ্রদ হলেও বার্সেলোনার কাছে ছিল বাস্তবতা। এমনটি জানিয়েছেন ক্লাবটির স্পোর্টিং ডিরেক্টর ম্যাথিউ আলেমানি।

এলএসই স্পোর্টস বিজনেসের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘মেসির বিদায় দুভার্গ্যবশত চমক ছিল না। এটা ওই সময়ের বাস্তবতা ছিল। সে একমাত্র থাকতে পারতো যদি আমরা এমন কিছুতে যোগ দিতাম, যেটাতে দিতে চাই না। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সবার উপরে ক্লাব। বাণিজ্যিকভাবেও বার্সেলোনা তার বিদায়ে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

বার্সেলোনার জন্য ঘরের ছেলেই ছিলেন মেসি। ক্লাবটির অনেক সাফল্য ও ব্যর্থতার সাক্ষী তিনি। জিতেছেন সম্ভাব্য সব শিরোপাও। মেসির প্রভাব কেবল খেলার মাঠেই নয়, ছিল বাণিজ্যিকভাবেও। সেটা স্বীকার করেছেন আলেমানিও। বলেছেন, বিশ্বের অন্যতম বড় তারকা চলে যাওয়ায় বাণিজ্যিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

তিনি বলেছেন, ‘মেসির বিদায়ে আমরা পরিষ্কারভাবেই কিছু বাণিজ্যিক আগ্রহ হারিয়েছি। সে আমাদের ক্লাবের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ছিল। খেলার দিক থেকে চিন্তা করলে, সে যে ধরনের খেলোয়াড় এটা তো স্বাভাবিকভাবেই ক্ষতির। যাই হোক, এখন অথবা পরে তার বিদায় নিতেই হতো। আমরা পুর্নগঠন প্রক্রিয়াতে ঢুকেছি, এটা করতেই হতো।’

মেসিকে যে অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতার কারণে রাখতে পারেনি বার্সা, আলেমানি কথা বলেছেন সেটা নিয়েও, ‘অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতা ইউরোপের ক্লাবগুলোর জন্য থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। স্পেনে এটা খুব কঠিন ও কঠোর। কিন্তু ইউরোপেই, অন্য অনেকগুলো ক্লাব আমাদের মতো ক্রাইটেরিয়া ফলো করে না। আমি একটা স্ট্যান্ডার্ড নিয়ম চাই, যেটা সবাই মেনে চলবে।’

মৌসুমের মাঝপথে এসে রোনাল্ড কোম্যানকে বরখাস্ত করেছে বার্সেলোনা। এরপর হেড কোচের দায়িত্ব দিয়েছে ক্লাবের আরেক কিংবদন্তি জাভিকে। তিনি ক্লাবে আসার পর কয়েকজন নতুন খেলোয়াড়কে দলে ভিড়িয়েছে বার্সা। আলেমানি জানিয়েছেন, জাভির পছন্দেই এসেছেন তারা।

তিনি বলেছেন, ‘জাভি নিজের প্রথম মাসে খুব ভালো করেছে। আমরা তার কাজে খুশি। যখনই আমরা কোনো খেলোয়াড়কে সাইন করাই, এটা কোচের ওপর নির্ভর করে। শীতকালীন দলবদলেও তার সিদ্ধান্তই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

রেমিট্যান্স নির্ভরতায় ঝুঁকি বাড়ছে অর্থনীতিতে

ঘটনাটা সবার জন্যই ছিল আকস্মিক। খবরটা আনুষ্ঠানিকভাবে আসার আগেও কেউ কেউ বিশ্বাস করেননি। আসলে চাননি। শোনা যাচ্ছিল, লিওনেল মেসির সঙ্গে সবকিছুই পাকাপাকি বার্সেলোনার। কয়েকদিনের মধ্যেই স্বাক্ষরও হবে নতুন চুক্ত। কিন্তু হুট করেই পাশার দান উল্টে যায়। অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতায় লিওনেল মেসিকে ছাড়তে বাধ্য হয় বার্সেলোনা। ক্লাবটির সঙ্গে ২১ বছরের সম্পর্কের অবসান হয় আর্জেন্টাইন তারকার। ওই ঘটনা সবার কাছে চমকপ্রদ হলেও বার্সেলোনার কাছে ছিল বাস্তবতা। এমনটি জানিয়েছেন ক্লাবটির স্পোর্টিং ডিরেক্টর ম্যাথিউ আলেমানি।

এলএসই স্পোর্টস বিজনেসের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘মেসির বিদায় দুভার্গ্যবশত চমক ছিল না। এটা ওই সময়ের বাস্তবতা ছিল। সে একমাত্র থাকতে পারতো যদি আমরা এমন কিছুতে যোগ দিতাম, যেটাতে দিতে চাই না। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সবার উপরে ক্লাব। বাণিজ্যিকভাবেও বার্সেলোনা তার বিদায়ে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ বার্সেলোনার জন্য ঘরের ছেলেই ছিলেন মেসি। ক্লাবটির অনেক সাফল্য ও ব্যর্থতার সাক্ষী তিনি। জিতেছেন সম্ভাব্য সব শিরোপাও। মেসির প্রভাব কেবল খেলার মাঠেই নয়, ছিল বাণিজ্যিকভাবেও। সেটা স্বীকার করেছেন আলেমানিও। বলেছেন, বিশ্বের অন্যতম বড় তারকা চলে যাওয়ায় বাণিজ্যিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তার।

তিনি বলেছেন, ‘মেসির বিদায়ে আমরা পরিষ্কারভাবেই কিছু বাণিজ্যিক আগ্রহ হারিয়েছি। সে আমাদের ক্লাবের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ছিল। খেলার দিক থেকে চিন্তা করলে, সে যে ধরনের খেলোয়াড় এটা তো স্বাভাবিকভাবেই ক্ষতির। যাই হোক, এখন অথবা পরে তার বিদায় নিতেই হতো। আমরা পুর্নগঠন প্রক্রিয়াতে ঢুকেছি, এটা করতেই হতো।’

মেসিকে যে অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতার কারণে রাখতে পারেনি বার্সা, আলেমানি কথা বলেছেন সেটা নিয়েও, ‘অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতা ইউরোপের ক্লাবগুলোর জন্য থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। স্পেনে এটা খুব কঠিন ও কঠোর। কিন্তু ইউরোপেই, অন্য অনেকগুলো ক্লাব আমাদের মতো ক্রাইটেরিয়া ফলো করে না। আমি একটা স্ট্যান্ডার্ড নিয়ম চাই, যেটা সবাই মেনে চলবে।’ মৌসুমের মাঝপথে এসে রোনাল্ড কোম্যানকে বরখাস্ত করেছে বার্সেলোনা। এরপর হেড কোচের দায়িত্ব দিয়েছে ক্লাবের আরেক কিংবদন্তি জাভিকে। তিনি ক্লাবে আসার পর কয়েকজন নতুন খেলোয়াড়কে দলে ভিড়িয়েছে বার্সা। আলেমানি জানিয়েছেন, জাভির পছন্দেই এসেছেন তারা।

তিনি বলেছেন, ‘জাভি নিজের প্রথম মাসে খুব ভালো করেছে। আমরা তার কাজে খুশি। যখনই আমরা কোনো খেলোয়াড়কে সাইন করাই, এটা কোচের ওপর নির্ভর করে। শীতকালীন দলবদলেও তার সিদ্ধান্তই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

সাফা আন্তর্জাতিক অ্যাওয়ার্ড পেল বাংলাদেশ ফাইন্যান্স

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সেরা আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স লিমিটেড জিতে নিল সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্টেন্টস্ (সাফা) অ্যাওয়ার্ড। এর ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করলো প্রতিষ্ঠানটি।
দ্য ইন্সটিটিউট অব চার্টার্ড একাউন্টেন্টস্ অব শ্রীলঙ্কা, কলম্বো থেকে ভার্চুয়ালি সাফা বেস্ট প্রেজেন্টেড অ্যানুয়াল রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০২০ এর আয়োজন করে। সাফা’র পক্ষ থেকে আইসিএবি’র সভাপতি মো. শাহাদৎ হোসেন এফসিএ পুরস্কার প্রদান করেন।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সিএ ভবনের অডিটরিয়ামে সীমিত পরিসরে সেরার স্বীকৃতি তুলে দিতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন প্রতিষ্ঠানটির স্বতন্ত্র পরিচালক ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মো. রোকনুজ্জামান এফসিএ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কায়সার হামিদ। কায়সার হামিদ বলেন, আইসিএবি ও আইসিএসবি অ্যাওয়ার্ডের পর সাফার মতো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি তাদের এগিয়ে যাওয়ার দৃপ্ত পথচলাকে আরও গতিশীল করবে।
এই অর্জনে দেশ সেরা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার জন্য যে টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে তারও উন্মেষ ঘটবে বলে জানান কায়সার হামিদ।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সাফা’র উপদেষ্টা এ.কে.এম. দেলোয়ার হোসাইন এফসিএমএ, মাহমুদুল হাসান খসরু, সাবেক সভাপতি,আইসিএবি এবং আইসিএবি’র কাউন্সিল সদস্য মো. হুমায়ুন কবীর এফসিএ। এবার আর্থিক সেবা খাতে সেরার পুরস্কার গেছে আইডিএলসির ঘরে, বাংলাদেশ ফাইন্যান্স হয়েছে ফার্স্ট রানার আপ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের গ্রুপ সিএফও মো: সাজ্জাদুর রহমান ভূইয়া এবং হেড অব ফাইন্যান্স অমিতাভ দেবনাথ এফসিএ।

আবারও ‘আলোচনায়’ সিলেটের সেই লেডি বাইকার রিয়া

আবারও আলোচনায় এসেছেন সিলেটের আলোচিত লেডি বাইকার রিয়া। রিয়াকে নিয়ে নানা জল্পনা সিলেটের সর্বত্র। সবচেয়ে আপডেট কয়েক লাখ টাকা দামের ‘আর ওয়ান ফাইভ’ মডেলের মোটরসাইকেল চালান রিয়া।
স্মার্ট, সুদর্শন এ তরুণী এবার তার বাইক দিয়ে ধাক্কা দিয়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে। শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪ টায় ঘটনাটি ঘটেছে নগরীর দরগাহ গেইট এলাকায়।
সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকের দাবি, লেডি বাইকার রিয়া বেপরোয়াভাবে বাইক চালিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশার পেছনে ধাক্কা দেন। এতে অটোরিকশার ক্ষতি হয়। একই সাথে তার বাইকেরও ক্ষতি হয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনদের কারণে এবার জনতার হাত থেকে রক্ষা পান লেডি বাইকার রিয়া।
এ সময় রিয়া নিজের পরিচয় দিয়ে চিৎকার করে বলেন, এটা কি পসিবল? বাইক সিএনজির ক্ষতি করবে। এই দেখেন আমার বাইক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে-বলে জনতাকে বাইকের সেইটের কিটি ভাঙা টুকরো দেখান।
এর আগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলা হয় রিয়ার বিরুদ্ধে। সিলেটের আলোচিত লেডি বাইকার রিয়া রায়কে গত ২ ডিসেম্বর ১০ সপ্তাহের আগাম জামিন দেন হাইকোর্ট।
নগরের কুমারপাড়ার মন্দিরগলির ঝর্ণারপাড় এলাকার বাসিন্দা রিয়া রায়। অনলাইন জগতে লেডি বাইকার নামে পরিচিত তিনি। তরুণীদের মোটরসাইকেল চালাতে তিনি উদ্ধুদ্ধ করেন ভিডিও বার্তায়। নিজে টিকটক ভিডিও তৈরি করে ছড়িয়ে দেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
তার বয়ফ্রেন্ড আরমান সামিকে নিয়ে মাদক কারবারে নামার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এক সময় পুলিশের হাতে তার বয়ফ্রেন্ড গ্রেফতার হন। প্রাইভেটকার থেকে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় রিয়া ও তার বয়ফ্রেন্ড সামির বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে পুলিশ।
সিলেট মেট্রোপলিট্ন পুলিশের (এসএমপি) বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির তখন জানান, রিয়া বয়ফ্রেন্ড আরমান সামিকে নিয়ে সিলেটের এয়ারপোর্ট-সংলগ্ন এলাকায় যান। নীল রঙের একটি গাড়ি (ঢাকা মেট্রো খ ১৪-০৫১২) নিয়ে এদিক-সেদিক ঘুরছিলেন তারা। টহল পুলিশের সন্দেহ হলে গাড়িটি থামানোর সংকেত দেওয়া হয়। একটু দূরে গিয়ে থামে গাড়িটি। তখন গাড়ি থেকে এক তরুণী দ্রুত নেমে যান। এ সময় পুলিশ গাড়ি তল্লাশি করে একটি পানির বোতলে রাখা ৫০০ মিলিগ্রাম বিশেষ মদ, ১০ পিস ইয়াবা ও সামান্য গাজা উদ্ধার করে।
এক সপ্তাহ পলাতক থাকা রিয়া রায় পরে হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন।

ব্রিটেনে বোমারু বিমান মোতায়েন করলো যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন বিমান বাহিনী বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক ঘোষণায় বলেছে, ইউক্রেন নিয়ে ন্যাটো ব্লক ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই নির্ধারিত ন্যাটো মহড়ায় যোগ দিতে বি-৫২ কৌশলগত বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে দেশটি। এই বোমারু বিমানের একটি সেট ব্রিটেনে অবতরণ করেছে।
ইউরোপে মার্কিন বিমান বাহিনীর কমান্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, নর্থ ডাকোটা-ভিত্তিক বিমান, সহায়তা সরঞ্জাম এবং বিমান সেনাদের নিয়ে লন্ডনের ১৫০ কিলোমিটার (৯০ মাইল) পশ্চিমে ফেয়ারফোর্ডে রয়েল এয়ার ফোর্স বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করেছে।
এই মহড়ায় কয়টি মার্কিন বিমান অংশ নেবে, এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দীর্ঘ পরিকল্পিত’ বোম্বার টাস্ক ফোর্স মিশনের লক্ষ্য হচ্ছে মিত্রদের মধ্যে ‘সহযোগিতা ও অপারেশনাল সক্ষমতা এবং আন্ত:ক্রিয়াশীলতা’ জোরদার করা।
এতে বলা হয়, বোমারু বিমান মোতায়েন আমাদের সম্মিলিত নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার জন্য ন্যাটো মিত্র ও জোট অংশীদারদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিকে শক্তিশালী করেছে।
ওাশিয়া তার প্রতিবেশী পশ্চিমা-পন্থী ইউক্রেন আক্রমণ করার পরিকল্পনা নিয়ে দেশটির সীমান্তে হাজার হাজার সৈন্য সমাবেশ করছে, এমন খবরের মধ্যে এই বোমারু বিমান মোতায়েন করা হলো।
এদিকে মার্কিন নৌবাহিনী বৃহস্পতিবার বলেছে, তারা তাদের চারটি ডেস্ট্রয়ার গত মাসে ষষ্ঠ নৌবহরের অধীনে মহড়ায় অংশ নেয়ার জন্য ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করেছে।

লন্ডনের পুলিশ প্রধান ক্রেসিডা ডিক পদত্যাগ করছেন

পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন লন্ডনের ইতিহাসের প্রথম নারী পুলিশ প্রধান ডেম ক্রেসিডা ডিক। বেশবিছু বিতর্কের পর পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন তিনি। দীর্ঘ পাঁচ বছর দায়িত্বে থেকে মেট্রোপলিটন পুলিশের দায়িত্ব পালন করছেন ক্রেসিডা।
এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, লন্ডনের মেয়র সাদিক খান যখন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তার নেতৃত্বে তিনি কোনো আত্মবিশ্বাস পাচ্ছেন না, তখন আর এই পদে থাকার কোনো উপায় নেই।
এর আগে গত সপ্তাহে মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তাদের মধ্যে অপমানজনক দুর্বব্যহার, বৈষম্য এবং যৌন হয়রানির প্রমাণ পায় পুলিশের তদন্তদল।বিবিসিকে ক্রেসিডা ডিক জানান, তদন্তদলের প্রতিবেদন দেখে তিনি বেশ ‌‘রাগান্বিত হয়েছেন’ এবং তার পদত্যাগের কোনো ইচ্ছেই ছিল না।
তবে মেয়র সাদিক খান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ডেম ক্রেসিডার জবাবে তিনি সন্তুষ্ট নন, আর এ কারনেই তিনি সরে যাচ্ছেন।বিবৃতিতে সাদিক খান পুলিশ কমিশনার ডেম ক্রেসিডা ডিককে ৪০ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ার এবং প্রথম নারী কর্মকর্তা হিসেবে ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় পুলিশ বাহিনীকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান।পুলিশ প্রশাসনে বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে তিনি এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কাজ করছেন বলেও জানান মেয়র সাদিক খান।
২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে বৃটিশ সরকার সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে অভিজ্ঞ নারী পুলিশ কর্মকর্তা ক্রেসিডা ডিককে লন্ডন পুলিশ প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। ১৮৮ বছরে লন্ডন পুলিশ ফোর্সের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে এই পদে বসানো হয়।
সূত্র: রানার মিডিয়া

পরীক্ষায় নকল: ইংরেজি ভাষার পরীক্ষায় প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে বিবিসির চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

ইংরেজি ভাষাজ্ঞানের পরীক্ষায় নকল করেছে এই অভিযোগে ব্রিটেনে আসা কয়েক হাজার মূলত শিক্ষার্থীকে ব্রিটেন থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে যে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে, বিবিসির এক অনুসন্ধানের পর তা নিয়ে নতুন করে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
বিবিসি টিভির সংবাদ অনুষ্ঠান নিউজনাইট তাদের অনুসন্ধানী রিপোর্টের জন্য ভেতরের খবর দেওয়া একজন হুইসলব্লোয়ারের সাক্ষ্যপ্রমাণ নিয়েছে এবং সরকারি যেসব নথিপত্র পেয়েছে, তা থেকে তারা দেখেছে বিদেশ থেকে ব্রিটেনে পড়তে আসা ব্যক্তিদের ইংরেজি ভাষার পরীক্ষা নেবার সংস্থা ইটিএস-এর দাবির ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনও এদের ব্রিটেন থেকে বের করে দেবার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।
অথচ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানে যে ইটিএস-এর পরীক্ষা পদ্ধতি, কর্মকাণ্ড ও তাদের তথ্যের গাফিলতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে।
আড়াই হাজারের ওপর ভিসা-প্রত্যাশী শিক্ষার্থীকে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং আরও অন্তত ৭,২০০ জনকে ব্রিটেন ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। ইটিএস তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে যে সংস্থার আয়োজিত পরীক্ষা পাশের জন্য তারা প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। অভিযুক্ত যারা এখনও ব্রিটেনে রয়ে গেছেন, তারা এই দুর্নাম ঘোচাতে সর্বস্ব পণ করে কয়েক বছর ধরে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন।
পরীক্ষায় নকল ও প্রতারণার আশ্রয় নেয়ার বিষয়টি ২০১৪ সালে প্রথম সামনে আনে বিবিসির প্যানোরামা নামে একটি অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানে লন্ডনের দুটি পরীক্ষা কেন্দ্রের কথা ফাঁস করা হয়, যারা জাল পরীক্ষার একটা চক্র গড়ে তুলেছিল। তারা অর্থের বিনিময়ে ইংরেজি ভাষা পরীক্ষায় পাশ করার সনদ দিত, যাতে তা ব্যবহার করে ভিসার আবেদন করা যায়।
সরকারের অভিযান
ওই অনুষ্ঠানের পরই এদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। সরকার ইটিএস সংস্থাকে বলে শতাধিক যেসব বেসরকারি পরীক্ষা কেন্দ্রকে পরীক্ষা আয়োজনের জন্য সরকার চুক্তি দিয়েছে, ব্রিটেনে পড়তে আসা শিক্ষার্থীরা সেখানে কী মাত্রায় নকল করছে বা জালিয়াতির আশ্রয় নিচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে।
ইটিএস প্রতারকদের এক বিশাল তালিকা সরকারকে দেয়। কিন্তু এতে বেশ কিছু নিরাপরাধ শিক্ষার্থীর নামও ঢোকানো হয়, যাদের বিরুদ্ধে ভুয়া অভিযোগ আনা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেটা জানার পরেও ইটিএস-এর তথ্যপ্রমাণকেই সঠিক বিবেচনা করে তাদের দেশছাড়া করার প্রক্রিয়া চালায়।
লেবার পার্টির এমপি স্টিফেন টিমস্ বলছেন: “ইটিএস-এর তথ্যপ্রমাণে স্বভাবতই গলদ ছিল। তা স্বত্ত্বেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের তথ্যের ওপরই সম্পূর্ণ নির্ভর করেছে।”
বিবিসির চাঞ্চল্যকর তথ্যপ্রমাণ
নিউজনাইট আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্যপ্রমাণ হাজির করেছে। সরকার ও ইটিএস-এর মধ্যে অতীতে এই পরীক্ষা নিয়ে বেশ কয়েক বছর আগেই কথাবার্তা হয়েছে–তারপরেও পরীক্ষায় প্রতারণার আশ্রয় নেয়া হচ্ছে কিনা সেই তদন্তের ভার কেন এই সংস্থাকে দেয়া হলো, সেই প্রশ্ন তোলা হয়েছে অনুষ্ঠানে।
যে সাংবাদিকরা পরীক্ষায় জালিয়াতির কথা প্রথম প্রকাশ করেছিলেন, তারাই নতুন এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে বিবিসি জানাচ্ছে:
প্যানোরামা অনুষ্ঠানে ইংরেজি ভাষা পরীক্ষায় জালিয়াতির কথা প্রথম ফাঁস হওয়ার প্রায় দুবছর আগেই ইটিএস-এর সাবেক এবং বর্তমান কর্মীরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সংগঠিত জালিয়াতি চক্র সম্পর্কে ব্যাপক তথ্যপ্রমাণ পাবার কথা জানিয়েছিলেন
তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারীদের বলেছিলেন এসব জাল পরীক্ষা কেন্দ্র বন্ধ করে দেবার তাদের উদ্যোগে ম্যানেজাররা বাধা দিচ্ছেন, কারণ ইংরেজি পরীক্ষার ফি থেকে আয় কমে যাবে বলে তাদের দুশ্চিন্তা রয়েছে
সেসময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানতে পারে, গোটা ব্যাপারটা সম্পর্কে তাদের পুরো অন্ধকারে রেখেছিল সংস্থাটি
প্রত্যক্ষদর্শীরা তদন্তকারীদের কাছে দেয়া সাক্ষ্যে এটাও জানান যে কিছু পরীক্ষায় “রিমোট পরীক্ষা” পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে পরীক্ষার্থী আসলে কে সে বিষয়ে ধোঁকা দেয়া যায়।
সরকারি জবাবদিহিতা বিষয়ক কমিটির সভাপতি লেবার পার্টির এমপি মেগ হিলিয়ার বিবিসিকে বলেছেন: “যেসব তথ্য বিবিসি উদঘাটন করেছে, তার ভিত্তিতে আমার মনে হয় না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইটিএস-এর তথ্যের ওপর আর নির্ভর করা উচিত।”
‘বিশাল অবিচার’
মেগ হিলিয়ার বলেছেন, সরকারের এই পদক্ষেপ একটা “বিশাল অবিচার”। এদের বেশিরভাগই বিদেশ থেকে ব্রিটেনে পড়তে আসা শিক্ষার্থী। তিনি বলছেন, অভিযুক্ত যারা এখনও আইনি লড়াই চালাচ্ছেন সরকার যেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নেয় এবং তাদের নতুন করে ভিসা আবেদনের জন্য আবার নতুন ইংরেজি ভাষা পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেয়।
ওয়াহিদুর রহমান তাকে ব্রিটেন থেকে বের করে দেবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সাত বছর মামলা লড়ে জিতেছেন। তিনি বলছেন: “আমার কাছে ক্ষমা না চাওয়ার জন্য লজ্জায় তাদের মাথা হেঁট করা উচিত। শুধু আমিই নই, অন্য সব নিরাপরাধ শিক্ষার্থীদের কাছে তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।”
প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত যাদের ব্রিটেন থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে, তাদের অনেকেই সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানানোর সুযোগ পাননি–এমনকি তাদের বিরুদ্ধে কী সাক্ষ্যপ্রমাণ হাজির করা হয়েছে, তাও তারা জানতে পারেননি।
হোম অফিস সোজা তাদের ভিসা বাতিল করে দিয়েছে। বলেছে এর বিরুদ্ধে আপিলের কোন সুযোগ তাদের নেই।
নোমি রাজা ছাত্রদের যে বাসায় থাকতেন, সেখানে ২০১৪ সালের জুনে অভিবাসন কর্মকর্তারা যখন হানা দেন তখন তার বয়স ছিল ২২।
“ওরা আমার পরিচয়পত্র দেখতে চাইল। তারপর একজনের কাছে একটা রেডিওর মত যন্ত্র ছিল। সে বলল: ‘টার্গেট ধরেছি।’”
নোমি রাজাকে কেন ধরা হয়েছে বলা হয়নি। গ্যাটউইক বিমানবন্দরের আটক কেন্দ্রে নেয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করার কারণ জানান এক কর্মকর্তা: “তুমি TOEIC পরীক্ষা দিয়েছিলে, সেখানে নকলের আশ্রয় নিয়েছিলে। তাই তোমাকে আমরা পাকিস্তানে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছি।” TOEIC হল টেস্ট অফ ইংলিশ ফর ইন্টারন্যাশানাল কমিউনিকেশন- আন্তর্জাতিক যোগাযোগের জন্য ইংরেজি ভাষার মান যাচাই পরীক্ষা, যা আয়োজন করে ইটিএস নামে প্রতিষ্ঠানটি।
অভিযুক্তরা পরিবারেও অবাঞ্ছিত
মি. রাজা তার ফেরত পাঠানো ঠেকাতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং ছাড়া পেয়েছিলেন ১২৫ দিন আটক থাকার পর। কিন্তু নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে প্রতিবাদ করায় সরকার তার কাজ করা, লেখাপড়া করা এবং ব্রিটেনের স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থার ব্যবহার নিষিদ্ধ করে দেয়।
অনেক অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর পরিবারের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ হয়ে যায়। কারণ ব্রিটিশ সরকার বিনা অপরাধে উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া কারোর বিরুদ্ধে এরকম লজ্জাজনক অভিযোগ আনবে, সেটা তাদের পরিবাররা বিশ্বাসই করতে চাননি।
ব্রিটেনে এবং নিজের দেশে ফিরে গিয়ে পরিবারের কাছেও অবাঞ্ছিত হয়ে ওঠা এই শিক্ষার্থীদের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে গেছে, বলছেন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান মাইগ্রেন্ট ভয়েসের পরিচালক নাযেক রামাদান।
“বেশিরভাগই মানসিক সমস্যায় ভুগছেন, অনেককে আত্মহত্যার প্রবণতা ঠেকাতে নিয়মিত ওষুধ নিতে হচ্ছে,” তিনি বলছেন।
Short presentational grey line
জাল পরীক্ষা প্রথম ধরা পড়ে যেভাবে
বিবিসির প্যানোরামা অনুষ্ঠান ২০১৪ সালে গোপন সূত্রে খবর পায় যে কিছু তরুণ ভুয়া শিক্ষার্থী সেজে ব্রিটেনে ঢুকেছে যারা একেবারেই ইংরেজি বলতে পারে না। লন্ডনে দুটি পরীক্ষা কেন্দ্র তৈরি হয়েছে যারা TOEIC ইংরেজি পরীক্ষায় তাদের পাশ করিয়ে দেবার “গ্যারান্টি” দিচ্ছে।
বিবিসির একজন অনুষ্ঠান গবেষক, পূর্ব লন্ডনে এরকম একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে গা ঢাকা দিয়ে গোপনে পরীক্ষা নেয়ার ছবি তোলেন। সেখানে দেখা যায় পরীক্ষা কেন্দ্রের কর্মীরা প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে একজন করে বিকল্প পরীক্ষার্থী দিচ্ছেন। তারা ভাল ইংরেজি বলে এবং এ কাজের জন্য তাদের অর্থ দেয়া হয়।
এরপর পরীক্ষার কাগজপত্র নম্বর দেবার জন্য আমেরিকায় ইটিএস-এর সাইটে তুলে দেয়া হয়।
প্যানোরামার গোপনে তোলা ভিডিও ফুটেজ দেখে সেসময়কার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেরেসা মে স্তম্ভিত হয়ে যান। তিনি বলেন, “আমাকে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।”
যেসব শত শত কলেজ বিদেশী শিক্ষার্থীদের ব্রিটেনে আসার জন্য পৃষ্ঠপোষকতা করত, ব্রিটিশ সরকার তখন তাদের লাইসেন্স বাতিল করে দেয়। কারণ সন্দেহ করা হয়, এসব কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেক ধরে শিক্ষার্থীদের অভিবাসন ভিসা পেতে সাহায্য করছে। তখন এই TOEIC ইংরেজি পরীক্ষায় জালিয়াতি নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়।
সেসময় ইটিএস-ও নজরদারিতে ছিল। কিন্তু তারা তখন বলে যে কণ্ঠস্বর চিনতে পারার সফটওয়্যার ব্যবহার করে তারা তদন্তে সাহায্য করবে। তারা কণ্ঠস্বর যাচাই করে দেখবে একাধিক পরীক্ষায় একজনের কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে কিনা। অর্থাৎ একজন বিকল্প পরীক্ষার্থী কয়েকজনের হয়ে ভুয়া পরীক্ষা দিয়েছে কিনা।
যদি একটা পরীক্ষাকে যন্ত্র ভুয়া বলে ধরে, এবং ইটিএস-এর দুজন কর্মী তাতে সম্মতি দেন, তাহলেই ওই পরীক্ষা “বাতিল” বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ পরীক্ষার্থী অবশ্যই প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে বলে বিবেচিত হবে।
ইটিএস সরাসরি ‘জালিয়াতি’ না বললেও, যদি কোন পরীক্ষা সেন্টারের অনেকগুলো পরীক্ষার ফল বাতিল গণ্য হয়, তাহলে সেই সেন্টারের যে কোন ফলকে “প্রশ্নসাপেক্ষ” রায় দিতে পারবে ইটিএস।
আসলেই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা জালিয়াতি?
পরীক্ষ সংস্থা চূড়ান্ত যে ফল ঘোষণা করে তা ছিল চাঞ্চল্যকর: ২০১১ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ব্রিটেনে ইংরেজি ভাষা জ্ঞানের এই পরীক্ষা দিয়েছিল ৫৮ হাজার পরীক্ষার্থী। এদের মধ্যে ৯৭%এর ফল সন্দেহজনক বলে ঘোষণা করা হয় – বলা হয় ৩৩,৬৬৩টি ফল বাতিল বা অগ্রহণযোগ্য রায় দেয়া হয় এবং ২২,৪৭৬ টি পরীক্ষার ফল ‘প্রশ্নসাপেক্ষ’ বলে জানানো হয়।
এই ফল যদি সত্য হয়, তাহলে এটা ব্রিটিশ ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা জালিয়াতি কেলেংকারির ঘটনা।
লেবার পার্টির এমপি স্টিফেন টিমস মনে করেন, এই পরিসংখ্যানকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়নি, কারণ অবৈধ অভিবাসীদের জন্য একটা “বৈরি পরিবেশ” সৃষ্টি করার সরকারের অ্যাজেন্ডার জন্য এটা উপযুক্ত একটা হাতিয়ার হয়েছিল। “সরকার, দুঃখজনক হলেও, এই পদক্ষেপ নেয়াকে একটা সুযোগ হিসাবে দেখে এবং এর চড়া মূল্য দিতে হয় হাজার হাজার নির্দোষ শিক্ষার্থীকে,” তিনি বলেন।
লর্ড উইলেটস্, যিনি ২০১৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মন্ত্রী ছিলেন, তিনি বলছেন, ৯৭ শতাংশ যদিও ছিল “অবিশ্বাস্যরকম চড়া হার” কিন্তু কর্মকর্তারা সেটা বিশ্বাস করেন। “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ধারণা করে যে এই পরীক্ষা পদ্ধতির অপব্যবহার হচ্ছে এবং তা পুরো দুর্নীতিগ্রস্ত। কাজেই তারা এনিয়ে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হয়নি,” বলছেন তিনি।
মিসেস মে এনিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন।
শাকিল রাঠোরের গল্প
ইটিএস, শিক্ষার্থীদের নামের একটা বিশাল তালিকা তুলে দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে। যাদের পরীক্ষার ফল বাতিল বলে গণ্য হয়েছে, মন্ত্রণালয় তাদের ভিসা সাথে সাথে বাতিল করে দেয়। এই পরীক্ষায় জালিয়াতির কারণে ভিসা বাতিলের বিরুদ্ধে ব্রিটেন থেকে আপিল করার সুযোগ তারা পান প্রায় তিন বছর পর ২০১৭ সালে।
তাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবার দু বছর পর, ২০১৬ সালে, ইটিএস অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণের সময় রেকর্ড করা কণ্ঠস্বর দেবার প্রক্রিয়া শুরু করে।
এই অতি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডিংকে সাক্ষ্যপ্রমাণ হিসাবে ব্যবহার করে নিজেকে নিরাপরাধ প্রমাণ করেন শাকিল রাঠোর।
বিবিসির অনুষ্ঠানে প্রশ্ন তোলা হয়, এই রেকর্ডিং সময়মত হাতে পেলে আর কত জন শিক্ষার্থী নিজেদের নিরাপরাধ প্রমাণ করতে পারতেন?
শাকিল রাঠোরের কণ্ঠস্বরের এই রেকর্ডিং থেকেই ইটিএস বলেছিল ৫০ বছর বয়সী সিভিল এঞ্জিনিয়ার ইংরেজি ভাষা জ্ঞানের পরীক্ষায় জালিয়াতি করেছেন। কিন্তু মি. রাঠোর শেষ পর্যন্ত প্রমাণ করেন যে, এটা আসলে তারই কণ্ঠস্বর -কোন ভাড়া করা পরীক্ষার্থীর নয়।
তিনি সামান্য তোতলা- কণ্ঠস্বরে তা পরিষ্কার। “হ্যাঁ এটা তো আমারই গলা,” উচ্ছ্বসিত শাকিল জানান।

সাফা আন্তর্জাতিক অ্যাওয়ার্ড পেল বাংলাদেশ ফাইন্যান্স

সেরা আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স লিমিটেড জিতে নিল সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্টেন্টস্ (সাফা) অ্যাওয়ার্ড। এর ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করলো প্রতিষ্ঠানটি।

দ্য ইন্সটিটিউট অব চার্টার্ড একাউন্টেন্টস্ অব শ্রীলঙ্কা, কলম্বো থেকে ভার্চুয়ালি সাফা বেস্ট প্রেজেন্টেড অ্যানুয়াল রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০২০ এর আয়োজন করে। সাফা’র পক্ষ থেকে আইসিএবি’র সভাপতি মো. শাহাদৎ হোসেন এফসিএ পুরস্কার প্রদান করেন। বুধবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সিএ ভবনের অডিটরিয়ামে সীমিত পরিসরে সেরার স্বীকৃতি তুলে দিতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন প্রতিষ্ঠানটির স্বতন্ত্র পরিচালক ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মো. রোকনুজ্জামান এফসিএ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কায়সার হামিদ। কায়সার হামিদ বলেন, আইসিএবি ও আইসিএসবি অ্যাওয়ার্ডের পর সাফার মতো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি তাদের এগিয়ে যাওয়ার দৃপ্ত পথচলাকে আরও গতিশীল করবে।

এই অর্জনে দেশ সেরা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার জন্য যে টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে তারও উন্মেষ ঘটবে বলে জানান কায়সার হামিদ।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সাফা’র উপদেষ্টা এ.কে.এম. দেলোয়ার হোসাইন এফসিএমএ, মাহমুদুল হাসান খসরু, সাবেক সভাপতি,আইসিএবি এবং আইসিএবি’র কাউন্সিল সদস্য মো. হুমায়ুন কবীর এফসিএ। এবার আর্থিক সেবা খাতে সেরার পুরস্কার গেছে আইডিএলসির ঘরে, বাংলাদেশ ফাইন্যান্স হয়েছে ফার্স্ট রানার আপ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের গ্রুপ সিএফও মো: সাজ্জাদুর রহমান ভূইয়া এবং হেড অব ফাইন্যান্স অমিতাভ দেবনাথ এফসিএ।

চার্জারের ভেতর ইয়াবা মালদ্বীপ প্রবাসী আটক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১ হাজার ৭৯১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মালদ্বীপ প্রবাসীআল আমিনকে আটক করেছেএভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) সদস্যরা। শুক্রবার দুপুরে মোবাইল ফোনের চার্জারের ভেতরে এই ইয়াবা লুকিয়ে নেওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার মালদ্বীপ এয়ারলাইনের একটি ফ্লাইটে মালদ্বীপ যাওয়ার জন্য শাহজালাল বিমানবন্দরে আসেন আল আমিন। বহিরাগমন এলাকার ৪ নম্বর প্রি-বোর্ডিং গেটে এভসেক সুপারভাইজার শামীম হোসেনের নেতৃত্বে স্ক্যানার মো. এনামুল হক ওই যাত্রীর ব্যাগের ভেতরে থাকা একটি মোবাইল চার্জারের ভেতরে ইয়াবাগুলোশনাক্ত করেন। পরে আল আমিনকে ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, তার পরিচিত এক ব্যক্তি এই চার্জারটি মালদ্বীপে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাকে দিয়েছেন।

এদিকে, ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) মো. ফারুক হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবারসকাল ৬টা পর্যন্ত রাজধানীতে মাদক বিরোধী অভিযানে ৬৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে ১৪ হাজার ১৯২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩৫৯ গ্রাম ৫৭০ পুরিয়া ৫০ পাতা হেরোইন, ২৭ কেজি ৫২৫ গ্রাম গাঁজা ও ১২০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধারমূলে জব্দ করা হয়। মাদক আইনে তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় ৪৫টি মামলাকরা হয়েছে।

অনলাইন ক্লাসে শিক্ষিকাকে বিয়ের প্রস্তাব

করোনা মহামারির এই সময়ে শিক্ষা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে অনলাইন ক্লাস। অনলাইনে ক্লাসে ঘটে যাওয়া বিব্রতকর ঘটনা প্রায়ই শিরোনামে আসে। সম্প্রতি অনলাইন ক্লাসে বিড়াম্বনায় পড়েছেন এক শিক্ষিকা। ক্লাস চলাচালে এক ছাত্র তাকে দিয়ে বসেছে বিয়ের প্রস্তাব। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ওই ঘটনার ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষিকা বলছেন, তোমাদের কোনো প্রশ্ন থাকলে করতে পারো? তখন এক ছাত্র বলেন, ম্যাডাম আপনি কি বিবাহিত? শিক্ষিকা উত্তর দেন, না। তখন ছাত্র বলেন, আমি আপনাকে ভালোবাসি ম্যাম। শুনে শিক্ষিকা বলেন, আমিও তোমাদের সবাইকে ভালোবাসি।

এরপর ছাত্র বলেন, না ম্যাম, আপনি আমাকে বিয়ে করবেন ম্যাম? তখন শিক্ষিকা বলেন, না না। এ সময় পাশ থেকে হাসির শব্দ শোনা যায়। অবশ্য বিষয়টি সামলে নেন শিক্ষিকা। তাৎক্ষণিকভাবে ওই ছাত্রকে মিউট করে দেন তিনি।

হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, ভিডিও দেখে বন্ধুদের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ করেই ওই ছাত্র এই কাণ্ডে ঘটিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সম্ভবত ভারতের কোনো কোচিং সেন্টারের ভিডিও এটি। ভিডিওটি ইউটিউবে ১ লাখ ৪৫ হাজারেও বেশি বার দেখা হয়েছে।