Home Blog Page 1624

কাপড় ও ফুল ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা পাচার

রাজধানীর হাজারীবাগ ও ধানমন্ডি এলাকায় ভ্যানে করে কাপড় আর ফুল বিক্রির আড়ালে ইয়াবা পাচার করতো মো. আব্দুল্লাহ মনির ওরফে পিচ্চি মনির। বৃহস্পতিবার রাতে পিচ্চি মনির ও তার সহযোগী জুবায়ের হোসেনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-২ এর সদস্যরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২টি বিদেশী পিস্তল, ম্যাগাজিন, ১২ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৮ হাজার ৭৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৬ গ্রাম আইস এবং মাদক বিক্রির ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকাজব্দ করা হয়েছে।

কক্সবাজার ও টেকনাফের মাদক চোরাচালানকারী চক্রের সঙ্গেপিচ্চি মনিরের যোগাযোগ রয়েছে। সম্প্রতি শরীয়তপুরে বাবা চাতক শাহ স্মরণে একটি মাজার নির্মাণ করে নিজেকে অন্য পরিচয়ে উপস্থাপনের চেষ্টাও করে মনির। মনির মাদক ও অস্ত্র কারবারের অন্যতম হোতা ও হত্যা মামলার আসামি। শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এসব তথ্য জানিয়েছেন সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, পিচ্চি মনিরের পরিবার জীবিকার সন্ধানে ১৯৯৫ সালে ঢাকায় চলে আসে এবং লালবাগের শহীদনগর এলাকায় বসবাস শুরু করে। বাবার ফলের ব্যবসায় সহায়তা করত মনির। একসময় সে এলাকার বখে যাওয়া ছেলেদের সঙ্গে যোগ দিয়ে চুরি, ছিনতাই শুরু করে।ধীরে ধীরে সে এলাকার বখাটেদের নিয়ে লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর ও কেরানীগঞ্জ এলাকায় একটি অপরাধ চক্র গড়ে তোলে। এই চক্রটি ব্যবহার করে সে মাদক ব্যবসা শুরু করে।

২০১২ সাল থেকে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় সে ও তার জনৈক বন্ধু মাদক ব্যবসায় জড়িত হয়। প্রথমে স্থানীয় মাদক ডিলারদের কাছ থেকে অল্প করে মাদকদ্রব্য কিনে মাদকসেবীদের কাছে বিক্রি করত। ২০১৬ সালে কক্সবাজারের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তার মাদক নেটওয়ার্ক তৈরি হয়।এরপর টেকনাফ ও কক্সবাজার থেকে তার কাছে নিয়মিত ইয়াবা আসত। মাঝেমধ্যে সে ও তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা ঢাকা থেকে কক্সবাজার গিয়ে মাদকের চালান নিয়ে আসত।
মূলত তারা মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যম ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন করত।

শতকরা ২০ শতাংশ হারে অ্যাডভান্স পেমেন্টের মাধ্যমে ইয়াবা ঢাকায় আনা হত।মাদকের ডেলিভারি ও লেনদেন মনিরের ভাড়া বাসায় বা সুবিধাজনক স্থানে সম্পন্ন হত। মনির ঢাকায় বিভিন্ন জায়গায় ভাড়াটে হিসেবে ছদ্মবেশে মাদকের কারবার করত। মনির প্রতিমাসে কয়েকটি চালান টেকনাফ, কক্সবাজার থেকে ঢাকায় আনত। মিরপুর-১৩, ইসলামবাগ, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, কেরানীগঞ্জ, কামরাঙ্গীরচর, আজিমপুরসহ আরও কয়েকটি স্থানে খুচরা ব্যবসায়ীদের মাদক সরবরাহ করত।

র‌্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন আরও বলেন, প্রত্যেক খুচরা বিক্রেতার জন্য ভিন্ন ভিন্ন মোবাইল ফোন ব্যবহার করত। কৌশলগত কারণে খুচরা বিক্রেতাদের কারও সঙ্গে কারও যোগাযোগ ছিল না। কেউ কাউকে চিনত না। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর তাকে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে। সে এক একটি এলাকায় এক-দুই বছরের বেশি অবস্থান করত না। সে শরীয়তপুরে নিজের বাড়িতে কোটি টাকার স্থাপনা নির্মাণ করেছে। সে তার বাবার নামে এলাকায় একটি মাজার নির্মাণ করছে।

মনির ২০১৮ সাল থেকে অস্ত্র ব্যবসা শুরু করে। এরপর সে অবৈধ পিস্তলসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয় এবং ৭ মাস কারাগারে থাকে। ২০২০ সালে সে অস্ত্র ও মাদক মামলায় আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়। এ সময় সে এক বছর কারাগারে ছিল। তার নামে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় অস্ত্র ও মাদক সংক্রান্ত তিনটি মামলা রয়েছে।

সার্চ কমিটিতে ২৪ রাজনৈতিক দলের নাম প্রস্তাব

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য সার্চ কমিটির কাছে নাম প্রস্তাব করেছে মোট ২৪টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। এ ছাড়া পেশাজীবীদের ৫টি সংগঠন নাম প্রস্তাব করেছে। বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল নতুন ইসি গঠনে কোনো নাম জমা দেয়নি। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আছে ৩৯টি। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিকাল ৫টা পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে নাম দেয়ার জন্য অনুরোধ করেছিল সার্চ কমিটি। সার্চ কমিটির সাচিবিক দায়িত্বে থাকা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব শফিউল আজিম সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, ২৪টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রস্তাব পেয়েছেন। এ ছাড়া ছয়টি পেশাজীবী সংগঠন থেকে প্রস্তাব এসেছে। এই পেশাজীবী সংগঠনের মধ্যে বিএমএ, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন ও ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউশনও আছে।
এর বাইরে ব্যক্তিগত পর্যায়ে দেশ ও বিদেশ থেকে অনেক বড় সংখ্যায় প্রস্তাব পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন যুগ্ম সচিব শফিউল আজিম। এগুলো এসেছে মূলত ই-মেইলে। তবে মোট কতজনের প্রস্তাব এসেছে, সেটি তাৎক্ষণিক জানাতে পারেননি তিনি। এ বিষয়ে শফিউল আজিম বলেন, নামগুলোর তালিকা করে এখন সার্চ কমিটির সামনে উপস্থাপন করা হবে। এর আগে ইসি গঠনে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে প্রথমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নাম প্রস্তাব করার অনুরোধ করেছিল সার্চ কমিটি। এরপর নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর ঠিকানায় গত বুধবার চিঠি দিয়ে নাম দেয়ার জন্য অনুরোধ করে কমিটি। চিঠিতে প্রতিটি দলকে বিকালের মধ্যে অনধিক ১০ জনের নাম পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনে দলগুলোর যে কার্যালয়ের ঠিকানা দেয়া আছে, সে ঠিকানায় ওই চিঠি দেয়া হয়েছিল। নাম জমা দেয়ার শেষ দিনে আওয়ামী লীগ নেতারা দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে গিয়ে নাম জমা দিয়ে আসেন। এ ছাড়া শেষ দিনে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, তরীকত ফেডারেশন, জাতীয় পার্টি (জেপি)সহ বেশির ভাগ দল নাম জমা দেয়। আগের দিন বৃহস্পতিবার জাতীয় পার্টি (জাপা), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)সহ অন্তত পাঁচটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল সার্চ কমিটির কাছে নাম প্রস্তাব করেছিল। এদিকে ইসি গঠনে যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ে আজ শনিবার দুই দফায় এবং আগামীকাল রোববার বিশিষ্টজনদের সঙ্গে বৈঠক করবে সার্চ কমিটি। ইতিমধ্যে বিশিষ্ট নাগরিক ও পেশাজীবীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মেয়াদ ১৪ই ফেব্রুয়ারি শেষ হচ্ছে। তার আগেই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন হবে। স্বাধীনতার পর এবারই প্রথম আইন অনুযায়ী ইসি গঠিত হচ্ছে। গত ২৭শে জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২ জাতীয় সংসদে পাস হয়। আর ইসি গঠনে যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ের জন্য ৫ই ফেব্রুয়ারি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি ১০ জনের নাম প্রস্তাব করার পর সেখান থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করবেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ।

বাংলাদেশে এক ভয়ানক এবং ব্যাপক দায়মুক্তির সংস্কৃতি বিরাজ করছে

বাংলাদেশে সাংবাদিক হত্যার বিচার না হওয়া নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা। সাংবাদিক সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যাকাণ্ডের ১০তম বর্ষপূর্তিতে এ নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন তারা। এতে এক দশকেও ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ না হওয়া ও দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের সম্মুখীন করতে ব্যর্থ হওয়ায় জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ জানান। তারা বলেন, দুজন সাংবাদিকের হত্যাকাণ্ডের পর এক দশক পার হলেও এখনও কোন বিচার হয়নি। বাংলাদেশে এক ভয়ানক এবং ব্যাপক দায়মুক্তির সংস্কৃতি বিরাজ করছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনিকে নিজ বাড়িতে তাদের পাঁচ বছরের ছেলের সামনে ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয় যে, বাংলাদেশের জ্বালানী খাতে দুর্নীতির অনুসন্ধানী প্রতিবেদন নিয়ে কার্যক্রম ও তা প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণের কারনেই এই দম্পতি ঘাতকদের টার্গেটে পরিণত হন। ২০১২ সালে উচ্চ আদালত র‍্যাবকে এই মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেন। এরপর ২০২১ সালের ২৪শে নভেম্বর উচ্চ আদালত ৮৪তম বারের মত র‍্যাবকে তাদের তদন্তের ফলাফল জমা দিতে বলেন।
যা এখনও সম্পন্ন হয়নি।
এ নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংগঠিত হওয়া অপরাধের বিচার না হলে তা অপরাধীদের উৎসাহিত করে। তারা গণমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে চুপ করাতে চায়। এই বিচারহীনতার কারণে পরে আরও হামলা, ভীতি ও হত্যার পথ প্রশস্থ হয়। আমরা বাংলাদেশে সেই গভীর উদ্বেগের নিদর্শন দেখতে পাচ্ছি। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১০ বছরে বাংলাদেশে কমপক্ষে ১৫ জন সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। একইসঙ্গে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে বিনা বিচারে আটক, হামলা, অপহরণ, অনলাইন ও অফলাইনে ভীতিপ্রদর্শন এবং আইনী হয়রানি চালানোর অসংখ্য প্রতিবেদন পেয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞগণ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হওয়া ঘটনাগুলির তদন্ত বা বিচার হয়নি বললেই চলে। কিছু আক্রমণের ঘটনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সরাসরি জড়িত বলে ধারনা করা হয়। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞগণ কর্তৃক বাংলাদেশ সরকারের সামনে নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ হাজির করলেও প্রায়ই তার কোন জবাব মেলে না। ২০১২ সালে সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যাকাণ্ডের পর জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের পাঠানো চিঠির কোন জবাব সরকারের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।
এছাড়া ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শাহজাদপুরের তৎকালীন মেয়রের বিরুদ্ধে গুলি করে সাংবাদিক ও মানবাধিকারর্মী আব্দুল হাকিম শিমুলকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু ওই মামলার বিচারকার্য বারবার বিলম্বিত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিশেষজ্ঞগণ। উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের আওতায় মামলাটির সকল আসামী বর্তমানে জামিনে আছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলায় সরকারের সমালোচনা করায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আটক করা হয়েছিল লেখক মুশতাক আহমেদকে। ৯ মাসের প্রাক-বিচারিক আটকাবস্থায় ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জেলখানায় তিনি মারা যান। তার মৃত্যু নিয়ে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। যদিও তার পরিবার মনে করে পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং অসুস্থ হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নিতে তিন ঘন্টা বিলম্ব করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতায় গঠিত অভ্যন্তরীণ একটি তদন্ত কমিটি পরিবারের দাবীর বিষয়ে তদন্ত না করেই তার মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে সাব্যস্ত করে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা সত্ত্বেও জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞগণ সরকারের কাছ থেকে কোন জবাব পায়নি।
বিবৃতিতে বিশেষজ্ঞরা বলেন, আক্রমণ, ভীতি ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার সহজাত ঝুঁকি থেকে সাংবাদিকতা মুক্ত থাকা উচিৎ। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত দোষীদেরকে বিচারের সম্মুখীন করতে না পারার সরকারি ব্যর্থতার কারনে সেটাই বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীর বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিবৃতির শেষে বিশেষজ্ঞরা সরকারের কাছে সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনিসহ বাংলাদেশের অন্যান্য সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সম্পূর্ণ, দ্রুত, বিশদ, স্বাধীন ও কার্যকর তদন্ত পরিচালনার মাধ্যমে দোষীদেরকে বিচারের সম্মুখীন করার আহবান জানান।

লেবার ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশ লুটন শাখার দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হলো লেবার ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশ লুটন শাখার ভার্চুয়াল দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন ২০২২। নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বদরুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন মমিনুর মুরাদ ও কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হয়েছেন সাজারুল ইসলাম সাজন।
লেবার ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশ লুটন শাখার সভাপতি প্রফেসর ফরিদ আহমেদ এর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুর মুরাদ এর পরিচালনায় গত ০৭.০২.২২ তারিখে এক ভার্চুয়াল দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্টানের সর্ব প্রথমে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সাধারণ সম্পাদক শাহিন আহমেদ।
সভায় পরিচিতিপর্ব ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর লেবার ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশ লুটন শাখার সভাপতি প্রফেসর ফরিদ আহমেদের স্বাগতিক বক্তব্যে কমিটির বিগত দিনের কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং সবাইকে এক সাথে লেবার পার্টির জন্য কাঁদে কাদ মিলিয়ে কাজ করায় কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি এই সংগঠন লুটনে প্রতিষ্ঠার যাদের কঠোর পরিশ্রম আর সহযোগিতার হাত ছিল প্রসারিত তাদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং পাশাপাশি নতুন সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান। উক্ত আলোচনা সভায় বিগত দিনের লেবার পার্টির কার্যক্রমের উপর বক্তব্য রাখেন বদরুল আমিন, ডক্টর আনোয়ারুল হক, সেলিম আহমেদ, সাজারুল ইসলাম সাজন, বেলাল আহমেদ, দেলোয়ার চৌধুরী হিরো, শাহীন উদ্দিন, শাহনাজ চৌধুরী, লেকচারার ইয়ারুন বেগম, শাহানারা নাসের।
ভার্চুয়াল মিটিংয়ের আলোচনা শেষে নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হয়, নিম্নে নির্বাচিত কমিটির সদস্যদের বিবরণ দেয়া হলো। নির্বাচনে সভাপতি বদরুল আমিন, সহ-সভাপতি ফরিদ আহমেদ, সহ-সভাপতি ডক্টর আনোয়ারুল হক, সহ-সভাপতি সেলিম আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মমিনুর মুরাদ, সহ- সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার চৌধুরী হিরো, কোষাধ্যক্ষ সাজারুল ইসলাম সাজন, ব্রাঞ্চ অডিটর বেলাল আহমেদ, মেম্বারশিপ সেক্রেটারি আবু মুকিত, ক্যাম্পেইন সেক্রেটারি শাহীন উদ্দিন, ট্রেড ইউনিয়ন সেক্রেটারি রুহুল আমিন, ইয়ুথ সেক্রেটারি মেহরিন মুরাদ, ওম্যান সেক্রেটারি শাহনাজ চৌধুরী, কালচারাল সেক্রেটারি জেবুন নাহার শিবলী, সোশ্যাল সেক্রেটারি লেকচারার ইয়ারুন বেগম, ডিসেবিলিটি অফিসার শাহানারা নাসের, সোশ্যাল মিডিয়া ও আইটি অফিসার তাজ উদ্দিন আহমেদ, পলিটিকাল এন্ড এডুকেশন অফিসার সাদিকুর রহমান। ডেলিগেটস টু ন্যাশনাল কমিটি বদরুল আমিন, মমিনুর মুরাদ ও কাউন্সিলর উমি আলী।
পরিশেষে সুন্দরভাবে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করার জন্য লেবার ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশ লুটন শাখার বিদায়ী সভাপতি প্রফেসর ফরিদ আহমেদ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ও নব গঠিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে মিটিংয়ের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।-বিজ্ঞপ্তি

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড : ঝুলে আছে ফরেনসিক ও ডিএনএ রিপোর্টে

রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে ভাড়া বাসায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি নৃশংসভাবে খুন হওয়ার ১০ বছর পার হয়েছে। এতো বছরেও এই হত্যাকাণ্ডে দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত কাজ শেষ হয়নি। বিগত ১০ বছরে ৮৫ বার সময় নিয়েও আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তারা।

তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মামলাটির তদন্ত শেষ হওয়ার বিষয়টি এখনো ঝুলে আছে ফরেনসিক ও ডিএনএ রিপোর্টের ওপর। ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই দুই পরীক্ষার প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত শেষ হবে না তদন্ত। এদিকে আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জানুয়ারি ছিল মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ৮৫তম তারিখ। কিন্তু এই তারিখেও অভিযোগপত্র জমা দিতে পারেননি কর্মকর্তা। তাই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তরিকুল ইসলামের আদালত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরবর্তী সময় ধার্য করেছেন ২৩ ফেব্রুয়ারি।

আরও জানা যায়, মামলাটির অভিযোগপত্র জমা না দেওয়ায় নিয়মতান্ত্রিকভাবে কোনো পিপি নিয়োগ দেওয়া যায়নি। আদালতে মামলাটি এখন দেখছেন জেনারেল রেকর্ড অফিসার (জিআরও)। মামলাটির জিআরও পরিদর্শক জালাল উদ্দিন এ বিষয়ে বলেন, আদালত থেকে ৮৫ বার সময় নিয়েও তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্র জমা দিতে পারেননি। মামলাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় হয়তো সময় বেশি লাগছে।

উল্লেখ, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি খুন হন। এ সময় বাসায় ছিল সাংবাদিক দম্পতির ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ।

‘এগুলো মিথ্যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে’

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থিতাবস্থা জারি করা হয়েছে। অর্থাৎ এর আগে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসতে পারবেন না জায়েদ খান বা নিপুণের কেউ। ১৩ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে সিদ্ধান্ত আসবে কে হবেন শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু তার আগেই নাকি আদালতের আদেশ অমান্য করে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসেছেন চিত্রনায়িকা নিপুণ। সরিয়ে দিয়েছেন আগের মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করা জায়েদ খানের নেমপ্লেট। এই পদে নিজের নামে নেমপ্লেটও বানিয়েছেন।

এফডিসিপাড়াসহ সিনেপ্রেমীদের মাঝে বৃহস্পতিবার থেকেই চলছে এই গুঞ্জন। তবে এসব গুঞ্জনকে গুজব, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে জানালেন নিপুণ। আদালত অবমাননার প্রশ্নই উঠে না বলে জানালেন তিনি। সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিপুণ বললেন, ‘এগুলো মিথ্যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আদালত অবমাননা করে ক্ষমতায় বসার কোনো কারণ নেই। বৃহস্পতিবার আমি কোনো দায়িত্ব পালন করিনি। সমিতির একজন সদস্য হিসেবে সারাদিন ছিলাম। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়েছি৷ কমিটির কেউ হিসেবে নয়। সমিতির একজন সদস্য হিসেবে গতকাল সাংগঠনিক সম্পাদক শাহনূরের জন্মদিন উদযাপন করেছি। কিন্তু একটা এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে আমাকে নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে।’

নিপুণ আরও বলেন, ‘আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি আদালত যে রায় দেবে তার দিকেই তাকিয়ে আছি।’ নেমপ্লেট বানানোর বিষয়ে নিপুণ বলেন, আমি যেদিন শপথ নেই সেদিনই আমার নেমপ্লেট তৈরি করা হয়েছিল। গত ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২২-২৪ মেয়াদের নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হন জায়েদ খান। কিন্তু নিপুণের অভিযোগের ভিত্তিতে জায়েদের প্রার্থিতা বাতিল করে শিল্পী সমিতির নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আপিল বিভাগ। গত শনিবার সন্ধ্যায় নির্বাচনের আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহান এক সভা শেষে নায়িকা নিপুণকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ঘোষণা করেন।

পরদিনই নিপুণসহ নতুন কমিটি শপথ নেয়। কিন্তু নিজের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন জায়েদ খান। নিপুণের সাধারণ সম্পাদক পদ স্থগিত করে জায়েদের পদ বহাল রাখে হাইকোর্ট। সেই আদেশের বিপক্ষে আপিল করলে পদটিতে স্থগিতাদেশ দেন আদালত। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হবে কে বসবেন শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে।

‘সংবিধান অনুযায়ী এমপি থাকতে পারবেন না হাজী সেলিম’

ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আদালত তাকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন।

পূর্ণাঙ্গ রায় বিচারিক আদালতে পৌঁছার পর থেকে ৩০ দিন গণনা শুরু হবে। আজ বৃহস্পতিবার দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম জানান, হাইকোর্ট বিভাগ ১০ বছরের কারাদণ্ড বহাল রাখায় তিনি সংবিধানের (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আর সংসদ সদস্যের পদে থাকতে পারবেন না।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিচারিক আদালত আত্মসমর্পণের পর হাজী সেলিমকে কারাগারে পাঠাবেন। কারাগারে যাওয়ার পর হাজী সেলিমকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের কাছ থেকে জামিন চাইতে হবে। নিম্ন আদালতের বিচার বহাল রেখে হাইকোর্ট ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুদকের দায়ের করা মামলায় হাজী সেলিমকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন এবং তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

হাজী সেলিমের আইনজীবী সায়েদ আহমেদ রাজা জানান, তার মক্কেল হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। সেলিম শারিরীকভাবে অসুস্থ। এ কারণে তিনি আত্মসমর্পণের পর বিচারিক আদালতের কাছে জামিনের আবেদন জানাবেন।

তিনি জানান, তার মক্কেলের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে, কারণ এ বিষয়ের নিষ্পত্তি সর্বোচ্চ আদালতে হবে। বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হক গত বছরের ৯ মার্চ মৌখিকভাবে এ মামলার রায়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

রায়ে নিম্ন আদালতের দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বহাল রাখা হয়। ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি জ্ঞাত উৎসের বাইরে ১৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকার অর্থ সংগ্রহ করেছেন।

তবে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায়ের অন্য একটি অংশ বাদ দিয়েছেন। হাজী সেলিমকে দুদকের কাছ থেকে সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ লুকানোর অভিযোগে আরও ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। হাজী সেলিমের আপিলের পর দেওয়া রায়ে হাইকোর্ট আরও জানিয়েছিল, তার (হাজী সেলিমের) ২৭ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত অবস্থায় থাকবে।

সিইসি নূরুল হুদার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা

হাইকোর্টের নির্দেশনার প্ররও গণসংহতি আন্দোলনকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন না দেয়ায় সিইসি কেএম নূরুল হুদার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করেছেন দলটির সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী। বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারী) হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় তার প্রক্ষে ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া মামলাটি করেন। মামলায় নূরুল হুদার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার কারণে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চাওয়া হয়েছে।
মামলা দায়ের প্র্রসঙ্গে জ্যোতির্ময় বড়ুয়া জানান, গণসংহতি আন্দোলন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন চেয়ে বিগত ২৮.১২.২০১৭ নির্বাচন কমিশনের নিকট আবেদন করে। ওই আবেদন নির্বাচন কমিশন ১৯.০৬.২০১৮ইং তারিখে প্র্রেরিত প্রত্রের মাধ্যমে নিবন্ধন করা যাবে না মর্মে অবহিত করে। প্ররবর্তীতে গণসংহতি আন্দোলনের প্রক্ষে প্র্রধান সমন্বয়ক মো. জোনায়েদ সাকি উচ্চ আদালতে রিট মামলা দায়ের করেন। উভয়প্রক্ষের শুনানি অন্তে উক্ত রিট মামলায় উচ্চ আদালত রায় ও আদেশের কপ্রি প্র্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে নিবন্ধন প্রদানের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ প্রদান করেন। গণসংহতি আন্দোলনের প্রক্ষ থেকে উক্ত রায় ও আদেশের সত্যায়িত কপি যথাসময়ে নির্বাচন কমিশনকে দাখিল করা হয়। আদালত থেকেও নিয়ম অনুযায়ী রায় ও আদেশের কপি প্রেরণ করা হয়।
কিন্তু আদালতের সুস্পষ্ট রায় ও নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশন কোনো প্রকার প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এরপ্রর বিভিন্ন সময়ে উক্ত রাজনৈতিক দলের পক্ষে বারবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো ফল না পাওয়ায় বিগত ১০.১০.২০২১ইং তারিখে নিয়োজিত বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে আদালত অবমাননার নোটিশ প্রেরণ করা হয়। উক্ত নোটিশ প্রাপ্তির পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নির্বাচন কমিশন কোনো প্রদক্ষেপ গ্রহণ না করায় বৃহস্পতিবার গণসংহতি আন্দোলনের পক্ষে মো. জোনায়েদ সাকী প্র্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার কারণে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চেয়ে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেছেন।

পাইলটের ভুল : অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন সিলেটগামী বিমানের যাত্রীরা


মধ্য আকাশে কোনো কারণ ছাড়াই বিমানের একটি ফ্লাইটের ইমার্জেন্সি পাওয়ার কার্যকর করেন পাইলট। ১৩ সেকেন্ড ধরে এই ইমার্জেন্সি পাওয়ার কার্যকর করা হয়। পাইলটের এমন কান্ডে যাত্রীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। শঙ্কা ছিল বিমানের ইঞ্জিন জ্বলে যাওয়ার। তবে নিরাপদেই অবতরণ করে ফ্লাইটটি।
মূলত বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে শেষ পন্থা হিসেবে ব্যবহার হয় ইমার্জেন্সি পাওয়ারের। এভিয়েশনের পরিভাষায় এটি মেটাল-টু-মেটাল থ্রাস্ট নামে পরিচ
ঘটনাটি গত ১ ফেব্রুয়ারির ঢাকা থেকে সিলেটগামী বিজি-৬০১ ফ্লাইটের। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নতুন কেনা ড্যাশ ৮-৪০০ উড়োজাহাজ ধ্রুবতারার (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: এস২-একেডি) ফ্লাইটটিতে ইমার্জেন্সি পাওয়ার কার্যকর করেছিলেন পাইলট ক্যাপ্টেন রুবাইয়াত।
বিমানের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ইমার্জেন্সি পাওয়ার কার্যকরের পরেও বিমানটি নিরাপদে সিলেটে অবতরণ করে। ঝুঁকি নিয়েই ফিরতি ফ্লাইটে সিলেট থেকে ১ শিশুসহ ৪৯ যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরে এয়ারক্রাফটি। আর অবতরণের ৮ দিন পরও বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেননি পাইলট রুবাইয়াত।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা জানান, যদি আকাশে কোনো ফ্লাইট জরুরি অবস্থায় পড়ে কিংবা একটি ইঞ্জিন ফেল করে কিংবা এয়ারক্রাফটের সামনে হঠাৎ পাহাড় চলে আসে, তখনই জরুরি ভিত্তিতে পাইলট ইমার্জেন্সি পাওয়ার কার্যকর করেন। বিমানের ধ্রুবতারায় ইমার্জেন্সি পাওয়ার যদি আরও বেশি সময় কার্যকর থাকত, তাহলে আকাশেই এয়ারক্রাফটির পুরো ইঞ্জিন জ্বলে যাওয়ার শঙ্কা ছিল।
ওই ঘটনার পর এয়ারক্রাফটি বর্তমানে গ্রাউন্ডেড করা হয়েছে। ইঞ্জিন মেরামত গ্রাউন্ডেড বিবেচনায় বিমানটির প্রায় ৬০ থেকে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতি হতে পারে বলে জানা গেছে।
এদিকে বিমান কর্তৃপক্ষকে জানানো তো দূরের কথা, এতো বড় ঘটনা নিজের রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে লগ বইয়েও লিপিবদ্ধ করেননি ক্যাপ্টেন রুবাইয়াত। আর এবিষয়ে পাইলট বা বিমানের দায়িত্বশীল কেউ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিমান দুর্ঘটনা বিশেষজ্ঞ ক্যাপ্টেন (অব.) সালাহ উদ্দিন এম রহমতুল্লাহ বলেন, অবতরণের পর নিয়ম অনুযায়ী বৈমানিককে অবশ্যই ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়াও এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা লগ বইতে লেখার কথা। অনেক পাইলটই তা করেন না। এটা দুঃখজনক। এটা একটা বদভ্যাস, ডিপার্টমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট ফেইলিয়র।
ড্যাশ-৮কিউ ৪০০ মডেলের এ উড়োজাহাজটি সম্পূর্ণ নতুন। গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি এটি ঢাকায় আনা হয় কানাডার ডি হ্যাভিলেন্ড অ্যারোস্পেস থেকে। কানাডা ও বাংলাদেশ সরকারের জিটুজি চুক্তিতে উড়োজাহাজটি ক্রয় করা হয়। ৭৪ আসনের উড়োজাহাজটির নাম ধ্রুবতারা রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আমার মেয়েকে খুন করছি আমার ফাঁসি হোক : নাজমিন


স্বামীর প্রতি ক্ষোভ ও অভিযোগের শেষ নেই তার। স্বামীর কাছ থেকে পেয়েছেন ‘অযত্ন, অবহেলা আর অপবাদ’। সব মিলিয়ে নিজেকে ‘সিক’ (অসুস্থ) দাবি করলেন নিজের সন্তানকে হত্যাকারী মা নাজমিন জাহান (২৮)।
নাজমিন সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বাদেপাশা ইউনিয়নের কালিকৃষ্ণপুর গ্রামের মো. জিয়া উদ্দিনের মেয়ে। তিনি সিলেটের একটি বেসরকারি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষিকা। গতকাল বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারী) নিজের গর্ভে ধরা ১৬ মাস বয়েসি সন্তানকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে পুলিশের কাছে লোমহর্ষক বর্ণনার মাধ্যমে এ হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিশুর নাম নুসরাত জাহান সাবিহা। তার বাবা সাব্বির আহমদ সিলেট দক্ষিণ সুরমার বলদি এলাকার বাসিন্দা ও কাতার প্রবাসী। সম্প্রতি সাব্বির দেশে ছুটিতে এসেছেন। কিন্তু সাব্বিরের সঙ্গে নাজমিনের বনিবনা না থাকায় তিনি (নাজমিন) শাহপরাণ এলাকার নিপোবন-৪৯ এ আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। সঙ্গে তার ছোট বোন ও আগের স্বামীর ঘরের ১১ বছরের এক সন্তান থাকতেন। স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের এক পর্যায়ে বুধবার বেলা ২টার দিকে ১৬ মাস বয়েসি শিশু সাবিহার মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন নাজমিন। এসময় বিষয়টি দেখতে পেয়ে নাজমিনের কবল থেকে তার বোন ও প্রতিবেশী এক মহিলা শিশুটিকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাবিহাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এসময় হাসপাতাল থেকে নাজমিন পালাতে চেষ্টা করলে উপস্থিত লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে কোতোয়ালি থানার একদল পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে
থানায় আসার পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাংবাদিকদের সামনে নিজের শিশুমেয়েকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন নাজমিন। এসময় তিনি বলেন, ২০১৫ সালের মে মাসে সাব্বির হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। বিয়ের ৬ মাস পর সাব্বির বিদেশে চলে যান। পরে তিনি শাহপরান এলাকার নিপোবন-৪৯ নং বাসায় থেকে সিলেটের একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতে থাকেন।
নাজমিনের অভিযোগ, বিদেশের যাওয়ার পর থেকে স্বামী সাব্বির আর তার খোঁজ নেননি। ভরণ-পোষণও করেননি। বিদেশে থাকা অবস্থায় সাব্বির পরিচিতজনদের মাধ্যমে নাজমিনকে ডিভোর্স দেওয়ার কথা বলতেন। এমন অবস্থায় চার বছর পর ২০২০ সালে দেশে আসেন সাব্বির। দেশে এসে নাজমিনকে বুঝিয়ে আবার সংসার শুরু করেন তিনি। তখন নাজমিন গর্ভবতী হন। তাকে গর্ভবতী রেখে সাব্বির আবারও কাতার চলে যান। তবে প্রবাসে যাওয়ার পরপরই গর্ভের সন্তান নিজের নয় বলে দাবি করেন সাব্বির।
নাজমিন বলেন, আমি তখন ডিএনএ টেস্ট করার কথা বলি। কিন্তু এরপরও সাব্বির আমার বিরুদ্ধে পরিচিত সকলের কাছে কুৎসা রটাতে থাকে এবং আমাকে অপবাদ দিতে থাকে। তবে জন্মের পর মেয়ের চেহেরা অবিকল তার বাবার মতো হওয়ায় মানুষের প্রশ্ন থেকে আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন।
নাজমিন আরও বলেন, সাব্বির ১৫ দিন আগে দেশে এসেছেন। কিন্তু আমার কাছে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি। চার-পাঁচ দিন পর পর শুধু কয়েক মিনিটের জন্য মেয়েকে দেখতে যান। কিন্তু আমি স্ত্রী হিসেবে তাকে কাছে পাইনি।
স্বামীর বিরুদ্ধে চরিত্রহীনতার অভিযোগ এনে নাজমিন বলেন, ও পরকীয়া করে না। বহু নারীর কাছে যায়। একজনের সঙ্গে পরকীয়া করলে হয়তো তাকে ফেরাতে পারতাম।
কিন্তু সবকিছুর পরে নিজের সন্তানকে হত্যা করলেন কেন? সে তো নির্দোষ ছিলো? পুলিশের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার তো সব শেষ। আমার জীবনকে একেবারে নষ্ট করে দিয়েছে সাব্বির। নিজের সন্তানকে- আমাকে সময় দেয় না। আমাকে জিন্দা লাশ করে ফেলছে সে। তাই আমার মাথা কাজ করেনি। তার প্রতি ক্ষোভে-কষ্টে মেয়েকে বালিশচাপা দেই। আমি ইমোশন থেকে আমার বাচ্চাটাকে মারছি। কিন্তু বালিশাচাপা দেওয়ার পর আমার আবেগ জেগে ওঠে। আমি আমার মেয়েকে মারার পর তাকে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরি এবং অনেক্ষণ কান্না করি। এসময় আমার বাচ্চার হৃদস্পন্দন আমি বুঝতে পারি। ওইসময় বাড়িওয়ালি এসে আমার কাছ থেকে আমার মেয়েকে নিয়ে নেন। এর পরপরই আমার মেয়ে হড়হড়িয়ে বমি করে। পরে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিজের মেয়েকে হত্যার দায় স্বীকার করে নাজমিন বলেন, আমি কাউকে ফাঁসাবো না। সাব্বিরকেও ফাঁসাবো না। সব দোষ আমার। আমি আমার মেয়েকে খুন করছি। আমার ফাঁসি হোক। আপনারা আমাকে ফাঁসি দিন। অথবা কেউ আমার দুটো হাত কেটে ফেলুন। আপনারা যদি আমাকে শাস্তি না দেন তবে আমি যে কোনো সময় সুইসাইড করতে পারি।
এদিকে, নাজমিনের স্বামী সাব্বির আহমদকেও গতকাল বিকালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর সাব্বির বাদি হয়ে নাজমিনকে আসামি করে শাহপরাণ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-১১।
বিষয়টি আজ (বৃহস্পতিবার- ১০ ফেব্রুয়ারী) সকালে নিশ্চিত করেছেন মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আনিসুর রহমান।
তিনি বলেন, নাজমিনকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। আজ তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।