ক্রমশই জটিল হয়ে পড়ছে ইউক্রেন পরিস্থিতি। সংকট ঘনিয়ে আসার সতর্ক বার্তা দিলেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও। সামরিক জোট ন্যাটোর হেডকোয়ার্টার্সে দেয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ইউক্রেন সংকট এখন সবথেকে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে প্রবেশ করেছে। নিজেদের গোয়েন্দা তথ্যের উপর ভিত্তি করেই এই সতর্ক বার্তা দিয়েছেন তিনি। যদিও সাংবাদিকদের কাছে জনসন কিছুটা আশার বানীও শুনিয়েছেন। ব্রাসেলসে তিনি বলেন, সত্যিকার অর্থে আমি মনে করি যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুুতিন এখনো ইউক্রেনে হামলার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেননি। এ খবর দিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
খবরে জানানো হয়, ক্রমশ ইউক্রেন সীমান্তে যুদ্ধের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে রাশিয়া। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন সেখানে এরইমধ্যে ১ লাখ ৩৫ হাজার রুশ সেনা মোতায়েন করা হয়
এছাড়া আরও যেসব অস্ত্র মোতায়েন প্রয়োজন তার সবই সেরে ফেলেছে দেশটি। এখন শুধু পুতিনের একটি ইশারার প্রয়োজন। এ নিয়ে জনসন বলেন, খুব সম্ভবত এখনই এই সংকটের সবথেকে ভয়ানক সময়। আগামি কয়েক দিনের মধ্যেই গত কয়েক দশকের মধ্যে সবথেকে বড় নিরাপত্তা সংকটে পরতে যাচ্ছে ইউরোপ। একই ধরনের সতর্ক বার্তা দিয়েছেন ন্যাটোর মহাসচিব জেনস স্টল্টেনবার্গও। তিনি বলেন, ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক সময় পার করছি আমরা। ইউক্রেন সীমান্তের রুশ সেনার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। যে কোনো সময় হামলা হতে পারে।
বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাশিয়া যদি ইউক্রেনে হামলা করে তাহলে সামরিকভাবে তা মোকাবেলা করবে না বৃটেন কিংবা ন্যাটো। তবে এ জন্য রাশিয়াকে ভয়াবহ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় পরতে হবে। এখানে একটি সংঘাত দুই দেশের জন্যেই ভয়ানক হবে। বক্তব্যে রুশ প্রেসিডেন্টকে সংঘাত এড়ানোর আহবান জানান জনসন। বলেন, আমি জানি যে রাশিয়া এখনো এমন একটি বিপর্যয়কর যুদ্ধে রুশ সেনাদের রক্ত ঝরানো নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। আমি বলতে চাই, এটিই সময় অন্য উপায় খুঁজে বের করার।
এসময় তাকে প্রশ্ন করা হয় যে, রাশিয়া আক্রমণ করলে বৃটেন ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেবে কিনা। উত্তরে জনসন ইঙ্গিত দেন যে বৃটেন হয়ত ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠাবে যাতে তারা রুশ আগ্রাসন মোকাবেলা করতে পারে। তিনি বলেন, অস্ত্র পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে, আমি এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছি না।
সবথেকে বিপজ্জনক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে ইউক্রেন সংকট : জনসন
এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে রোববার
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি। বৃহস্পতিবার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ সালের এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি ভোকেশনাল, এইচএসসি ব্যবসা ব্যবস্থাপনা (বিএম) ও ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হবে। এর আগে দুপুরে রাজধানীর গুলশান শুটিং ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেদিন সময় দেবেন, সেদিনই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে।
জানা গেছে, ফল প্রকাশের দিন শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে সকাল ১০টায় সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর সারসংক্ষেপ তুলে ধরবেন। এরপর দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করা হবে। করোনা পরিস্থিতির কারণে ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন।
করোনার কারণে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে নেওয়া হয় ২০২১ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৩ লাখ ৯৯ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নেন। চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ বা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ফল প্রকাশের কথা থাকলেও দেশের বাইরের বিভিন্ন কেন্দ্রের খাতা মূল্যায়নে দেরি হয়। শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, সব জটিলতার অবসান ঘটিয়ে ফলাফল প্রস্তুত করা হয়েছে।
খোলেমেলা ছবি শেয়ার করেন স্বস্তিকা দত্ত
পর্দা আর সোশ্যাল মিডিয়ার ফারাক অনেকখানি। পর্দায় সাধারণ পোশাকে অভিনয় করলেও অন্তর্জালে নিজেকে মেলে ধরেন খোলস ছাড়িয়ে। প্রতিনিয়ত খোলেমেলা ছবি শেয়ার করে নেটিজেনের নজর নিজের দিকে নিয়ে নেন অবলীলায়। তিনি স্বস্তিকা দত্ত। টালিউডের এই প্রজন্মের অভিনেত্রী।
টিভি সিরিয়ালে ব্যাপক জনপ্রিয়তার পর বড় পর্দায়ও নাম লিখিয়েছেন স্বস্তিকা। তবে এখন কোনো কাজের সূত্রে নয়, অভিনেত্রী খবরের শিরোনাম হয়েছেন ফেসবুকে পোস্ট করা একটি ছবিকে ঘিরে।
বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ছবিটি পোস্ট করেন স্বস্তিকা। সেখানে দেখা যায়, ছেঁড়া জিনসের শার্ট পরেছেন তিনি। তবে শার্টের মাত্র একটি বোতাম লাগানো। ফলে তার অন্তর্বাস ও বক্ষ বিভাজিকা বাধাহীন হয়ে দৃশ্যমান। এ নিয়েই অনুসারীদের আপত্তি। নানা রকম আপত্তিকর মন্তব্যে ভরে গেছে ছবিটির কমেন্ট বক্স।
একজন লিখেছেন , ‘এমনিই তো যথেষ্ট সুন্দর। এসব ছবি না দিলেও হয়।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘ভদ্র পোশাক নেই? কোথায় কী পোশাক পরতে হয় সেই জ্ঞানটুকুও বোধহয় স্বস্তিকা হারিয়ছেন!’
তারকারা সাধারণত এমন মন্তব্যের জবাবে কিছু বলেন না। তবে স্বস্তিকা চুপ থাকলেন না। তিনি ক্ষোভের সুরে দিলেন জবাব। অভিনেত্রী পাল্টা মন্তব্যে লেখেন, ‘আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে আমি খুব বড় কোনো অপরাধ করে ফেলেছি ছবিটা ফেসবুকে আপলোড করে। এসব ছবি বলতে আপনি ঠিক কী বোঝাতে চাইলেন সেটা আমার কাছে স্পষ্ট হল না। চোখ, কান, নাক, মুখ, হাত, পা-এর মতো ক্লিভেজটাও মানুষের শরীরের একটা অংশ। সুন্দর একটা ছবি তোলা হয়েছে, আমি সেটা শেয়ার করেছি। পছন্দ না হয়, দেখবেন না।’
আরেকটি মন্তব্যের জবাবে স্বস্তিকা লেখেন, ‘কোথায় বিকিনি বা সাঁতারের পোশাক পরতে হয় আর কোথায় ঢাকাই জামদানি, এটা বুঝি বলেই টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের ধারাবাহিকতা বজায় করে একজন সফল অভিনেত্রী হিসেবে নিজের অভিনয়ের ক্ষমতা দিয়ে কাজ করে চলেছি।’
প্রসঙ্গত, স্বস্তিকাকে সর্বশেষ দেখা গেছে ‘উত্তরণ’ নামের ওয়েব সিরিজে। যেখানে তার সঙ্গে আছেন মধুমিতা ও রাজদীপ গুপ্ত। এটি হইচইতে মুক্তি পেয়েছে।
বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়ন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকের সভা অনুষ্টিত,পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
লন্ডন অফিস: সিলেটের বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়ন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকের নির্বাচন পরবর্তী প্রথম সভা অনুষ্টিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার লন্ডন শহরের ব্রিকলেইনের মসলা রেস্টুরেন্টে এ সভা অনুষ্টিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মানিক মিয়া।সাধারণ সম্পাদক গোলজার খাঁনের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন,ট্রাস্টি শাহ জয়নাল আবেদীন,গৌছ খান,নাসির উদ্দিন আহমদ,আসাদুর রহমান,মোহাম্মদ আলী মজনু,আব্দুল বাসিত বাদশাহ,মদরিছ আলী মফজ্জুল। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ট্রাস্টি নাসির উদ্দিন আহমদ।সভায় বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা শেষে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সভায় বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়ন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট এর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।কমিটির দায়ীত্বশীলরা হলেন,চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মানিক মিয়া,ভাইস চেয়ারম্যান মিছবাহ উদ্দিন,সেক্রেটারী গোলজার খাঁন,অ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারী আসাদুর রহমান,ট্রেজারার মদরিছ আলী মফজ্জুল,অরগেনাইজিং সেক্রেটারী আব্দুল বাসিত বাদশা,ইসি মেম্বার হলেন,শাহ জয়নাল,আলাউদ্দিন বাবুল,জয়নাল আবেদীন,নাসির উদ্দিন,ফজলুর রহমান।এডিশনাল মেম্বার,গৌছ খান,নজরুল ইসলাম,জাকেল বক্স চৌধুরী,মোহাম্মদ মজনু।
বাংলাদেশ দলের সঙ্গে থাকবেন না প্রিন্স
উন্নতির ছাপটা স্পষ্ট হচ্ছিল ধীরে ধীরে। মাউন্ট মঙ্গানুইতে তার অধীনে বাংলাদেশ জিতেছিল দারুণ এক টেস্ট, তাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ব্যাটাররা। এর মধ্যে বিসিবি ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে নিয়ে আসে জেমি সিডন্সকে। অবশ্য বলা হচ্ছিল, ব্যাটিং কোচ থাকবেন অ্যাশওয়েল প্রিন্সই। তবে এই দায়িত্বে আর থাকছেন না তিনি। এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে বুধবার তার পদত্যাগের খবর দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার পত্রিকা ইন্ডিপেন্ডেট। তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারকে সময় দিতে দায়িত্ব ছেড়েছেন প্রিন্স।
দক্ষিণ আফ্রিকার পত্রিকাটি জানিয়েছে, আগামী মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে থাকবেন না প্রিন্স। প্রোটিয়াদের হয়ে ১১৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা প্রিন্স বাংলাদেশের কোচিং স্টাফে যোগ দেন স্বদেশি হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর সঙ্গে। গত বছর শেষ হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত শুরুতে চুক্তি করেন প্রিন্স। পরে ছিলেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজেও।
সাকিব আল হাসান-তামিম ইকবালের মতো সিনিয়র ক্রিকেটারদের ছাড়া লম্বা সময় পরিকল্পনা করতে হয়েছে প্রিন্সকে। এর মধ্যেই উন্নতির ছাপটা স্পষ্ট ছিল। বিশেষত লিটন দাস দারুণ ব্যাটিং করছিলেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠের পর সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের মাটিতেও। ভালো করছিলেন অন্য তরুণরাও। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ম্যাচ জয়ে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ তুলেছিল ৪৫৮ রান। এই রানই মূলত গড়ে দিয়েছিল কিউইদের মাঠে তাদের বিপক্ষে প্রথম জয়ের ভিত।
এর আগে প্রিন্সের স্বদেশি ওটিস গিবসনের সঙ্গেও বিসিবির সম্পর্কের অবসান ঘটে। আগামী মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দুই টেস্ট ও তিন ওয়ানডের সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। এই দুই কোচের অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারত টাইগারদের জন্য। কিন্তু এখন আর তা হচ্ছে না।
‘বিএনপি ভোট চুরি করতে জানে’
রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনের অর্থ (মানে) বোঝে না। জনগণের ভোটের অধিকার স্বীকার না করলেও তারা ভোট চুরি করতে জানে। বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও নবনির্বাচিত কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে নবনির্বাচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
শেখ হাসিনা বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীর হাতেই বিএনপির সৃষ্টি। জনগণের কাছে ভোট চাইতে যাওয়ার কোনো অভ্যাসই তাদের ছিল না বরং কেড়ে নেওয়া, চুরি করে নেওয়াই তাদের অভ্যাস ছিল। তারা গণতন্ত্রের অর্থও বোঝে না, সে শিক্ষাই তাদের নেই। বিএনপির প্রশ্নবিদ্ধ শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়ে জনগণের কাছে তারা কীভাবে ভোট চাইতে যাবে- সে প্রশ্ন উত্থাপন করে তিনি বিএনপির নানা অপপ্রচারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিএনপি বোঝে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ আর বাংলা ভাই সৃষ্টি, মানুষ হত্যা আর নির্যাতন, মানুষের ঘর-বাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল। আর সে সুযোগ পাচ্ছে না বলেই তাদের খুব আক্ষেপ।
বিএনপির নেতৃত্ব বলে কিছু নেই উল্লেখ করে খালেদা জিয়া ও তার বড় ছেলে তারেক রহমান প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বলেন, একজন এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করে জেলে বন্দি। যদিও তাকে দয়া করে ঘরে থাকতে দেয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। অন্যজন ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাকারবারি, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা এবং দুর্নীতির মামলার সাজাপ্রাপ্ত ফিউজিটিভ। আমেরিকার এফবিআইয়ের তদন্তে যার দুর্নীতি প্রমাণিত এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে আর রাজনীতি না করার মুচলেকা দিয়ে যে দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিল।
তিনি বলেন, বিদেশ থেকে একজন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয় জনগণ কেন তাকে ভোট দেবে। আর তারা জনগণের ভোটাধিকারে বিশ্বাসও করে না, এটা হলো বাস্তবতা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দেশের মানুষের ভোটাধিকার ক্ষমতা ছিল না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের ৭৭ সালের হ্যাঁ/না ভোট, ৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ৭৯ সালের সংসদ নির্বাচন এবং ৮১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন- সবই ছিল প্রহসন।
একই ধারা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অব্যাহত রেখে ’৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন আয়োজন করে তৃতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হলেও ৩০ মার্চ গণ-আন্দোলনের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন।
শেখ হাসিনা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, জনগণ যে আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে ভোট দিয়েছে, তার মূল্যায়ন করতে হবে। আর উন্নয়নের গতিধারাটা অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি বলেন, আপনারা জনগণের কল্যাণে কাজ করবেন বলে যে শপথ নিয়েছেন সেই শপথটা ভুলবেন না। যে ওয়াদা জনগণের কাছে দিয়েছেন তাও ভুলবেন না। মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন। কেননা যতটুকু আপনি দিতে পারবেন- তাতেই আপনার তৃপ্তি। ভোগ বিলাসে কোনো তৃপ্তি নেই। আর রাজনৈতিক নেতা হতে হলে জনকল্যাণে নিবেদিত প্রাণ হয়েই আপনাদের কাজ করতে হবে।
জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তিনি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করার পাশাপাশি তার সরকার জনকল্যাণে যেসব পরিকল্পনা ও প্রকল্প গ্রহণ করেছে- তা যথাযথভাবে বাস্তবায়নেও তিনি জনপ্রতিনিধিদের লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানান।
রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, মানুষ কিন্তু খুব সচেতন। কাজেই সেটা মাথায় রেখেই আপনারা আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে একটানা ১৩ বছর রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকার সুযোগ পাওয়াতেই দেশকে আজ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নিয়ে যেতে সমর্থ হয়েছেন। করোনার মধ্যেও জিডিপি ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে এবং মাথাপিছু আয় বেড়েছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে দেশের উন্নয়নের খণ্ডচিত্রও বক্তব্যে তুলে আনেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে পারায় এটিই প্রতীয়মান হয়েছে, জনগণ কখনো ভুল করে না। তিনি বলেন, জনগণ কখনো ভুল করে না, এটা হল বাস্তবতা। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেটাই প্রতিভাত হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, গণতন্ত্রে এবং জনগণের ভোটের অধিকারে। জনগণই ভোট দিয়ে তাদের পছন্দমতো প্রার্থী নির্বাচন করবে, যারা তাদের জন্য কাজ করবে। কারণ, জনগণ কখনো ভুল করে না, এটা হলো বাস্তবতা। কাজেই জনগণের ওপর আস্থা রেখেই আমরা সব রকম কাজ করি।
নারায়ণগঞ্জে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মানুষ তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দের প্রার্থীদের নির্বাচিত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের সব মানুষকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে একটা বিরাট দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো।
নারায়ণগঞ্জবাসী নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে দলের প্রার্থীকে জয়যুক্ত করায় তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিজের ভোগ-বিলাসের কথা না ভেবে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে কাজ করারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। আর বিএনপি আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখে না বলেই সবসময় অপপ্রচার চালায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কাউন্সিলরদের শপথ বাক্য পাঠ করান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।
গত ১৬ জানুয়ারির নির্বাচনে টানা তৃতীয়বারের মতো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন সেলিনা হায়াৎ আইভী।
২০১১ এবং ২০১৬ সালের নির্বাচনেও মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন আইভী। এবারের নির্বাচনে ২৭টি ওয়ার্ডে ২৭ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৯ জন নির্বাচিত হন। ২৭ জানুয়ারি বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশিত হয়।
নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং বিএনপি নেতা তৈমুর আলম খন্দকার হাতি প্রতীকে পান ৯২ হাজার ৫৬২ ভোট।
প্রতিবাদী মুসকানকে ৫ লাখ রুপি পুরস্কার
কর্ণাটকে হেনস্তার শিকার হওয়া বোরকা ও হিজাব পরা মুসলিম ছাত্রীর প্রতিবাদী অবস্থান ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। মুসকান খান নামের ওই ছাত্রীর সাহসীকতার জন্য ৫ লাখ রুপি পুরস্কার দিয়েছে ভারতের নেতৃস্থানীয় সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ।
বুধবার সংগঠনটির কর্নাটক রাজ্য সভাপতি মুফতি ইফতেখার আহমদ মুসকান খান ও তার পরিবারের কাছে এ চেক হস্তান্তর করেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে জমিয়তের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ আসআদ মাদানী এ পুরস্কারের ঘোষণা দেন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
জমিয়তের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে মুসকানকে অভিনন্দন জানিয়ে এবলা হয়, কর্ণাটক পিইএস কলেজ মান্ডিয়ার সাহসী ছাত্রী মুসকান খানকে তার সাহসী প্রতিবাদের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন। তিনি সাহসের মাধ্যমে নিজের সাংবিধানিক ও ধর্মীয় অধিকারের পক্ষে আওয়াজ তুলেছেন। তার উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করে জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের পক্ষ থেকে এই সাহসী কন্যাকে উৎসাহের জন্য নগদ পাঁচ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করা হলো।
ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার জমিয়তের কর্নাটক রাজ্য সভাপতি মুফতি ইফতেখার আহমদ একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে মুসকান খানের বাসায় গিয়ে এ পুরস্কার হস্তান্তর করেন।
প্রসঙ্গত, হিজাব ইস্যুতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের কর্ণাটক। হিজাব পরে কয়েকজন ছাত্রীকে স্কুলে ঢুকতে না দেওয়া নিয়ে সেখানে সৃষ্টি হয় বিক্ষুদ্ধ পরিস্থিতির। ক্লাসে ছাত্রীরা হিজাব পরতে পারবে কী না, তার সমাধানে কর্ণাটক হাইকোর্টে পিটিশন দাখিল করেন কর্ণাটক সরকারি কলেজের পাঁচ ছাত্রী। কিন্তু হাইকোর্টও এ ব্যাপারে কোনো সমাধানে আসতে পারেননি। বিষয়টি সমাধানের ভার প্রধান বিচারপতির হাতেই ছেড়ে দিয়েছেন কর্ণাটক হাইকোর্ট।
গত এক মাসের বেশি সময় ধরে কর্ণাটকের বিভিন্ন স্কুল কলেজেহিজাব পরে ক্লাস করার অনুমতির দাবিতে আন্দোলন করছে মুসলিম ছাত্রীরা।
অন্যদিকে হিন্দু শিক্ষার্থীরা গেরুয়া ওড়না পরে হিজাববিরোধী আন্দোলন শুরু করেছে।
মঙ্গলবার উগ্র হিন্দত্ববাদীদের ভয় উপেক্ষা করে হিজাব পরে কর্ণাটকের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হন মুসকান নামের ওই ছাত্রী। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রবেশ করার পর ওই ছাত্ররা তাকে ভয়-ভীতি দেখানোর চেষ্টা করে।
কিন্তু মুসকান একা থাকা স্বত্ত্বেও সেই ছাত্রদের সামনে প্রতিবাদ করে। উগ্রপন্থীরা নানা স্লোগানে তাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু ছাত্রী ভড়কে না গিয়ে উল্টো সাহসী এক প্রতিবাদ করেছেন। ‘আল্লাহু আকবার’ বলতে বলতে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন ওই ছাত্রী।
প্রসঙ্গত, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ ভারতীয় মুসলমানদের সর্ববৃহৎ পুরোনো প্লাটফর্ম। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে এ সংগঠনটির জন্ম। উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে এ দলটির ব্যাপক অবদান রয়েছে।
মাওলানা মাহমুদ মাদানী ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের প্রাণপুরুষ সাইয়্যেদ হুসাইন আহমদ মাদানীর দৌহিত্র ও সাইয়্যেদ আসআদ মাদানীর ছেলে। তার বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টা ও সৃজনশীল কর্মপন্থায় ভারতীয় মুসলমানরা এক অভিন্ন প্লাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
মাহমুদ মাদানির রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ভারতের সর্বমহলে স্বীকৃত। আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি, মত পথ ভুলে এক কাতারে সবাইকে নিয়ে চলার মানসিকতা ও উদ্যোগ তাকে পৌঁছে দিয়েছে এক অনন্য উচ্চতায়।
মৃধা শোর ১০০তম পর্বে কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীর হাতে পুরুস্কার তুলে দেওয়া হয়
মো. রেজাউল করিম মৃধা
মৃধা শো ব্রিটেনের অনলাইন টিভি শোর মধ্যে দর্শক নন্দিত জনপ্রিয় এবং নিয়মিত একটি টক শো প্রোগ্রাম। গত ১লা জানুয়ারি ২০২২ এ ১০০ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। মৃধা শের ১০০ তম পর্ব পূর্তি উপলক্ষে কৌতুক, ধাঁ ধাঁ এবং ছি লো কুইজ প্রতিযোগিতা। এই পর্বের কুইজে অংশ নেন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কুইজ প্রেমিরা।
১০০ তম পর্বে কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন লন্ডন প্রবাসী এম কামরুজ্জামান। অবশ্য তাকে খুঁজে পেতে বেশ সময় লেগে যায়। অবশেষে গত মংগলবার হুয়াইট চ্যাপেল রোড়ের সোনার গাঁও রেস্টুরেন্টে ছোট্ট পরিসরে এক অন্বারম্বর অনুস্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীর হাতে £১০০ পাউন্ড ক্যাস উপহার তুলে দেওয়া হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন এমএএইচ লন্ডন টিভির সিইও আইনজীবি আব্দুল হামিদ টিপু, লন্ডন বাংলা ভয়েজ পেইজ এর কর্নধার সাংবাদিক জাকির হোসেন কয়েস, সাংবাদিক আহসানুল আম্বিয়া সুভন এবং মৃধা শোর উপস্থাপক মো. রেজাউল করিম মৃধা।
উল্লেখ্য মৃধা শোর ১০০ পর্বে অতিথি হিসেবে অংশ গ্রহন করেছিলেন সাংবাদিক , দেশ পত্রিকার সম্পাদক এবং লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ ও আমরা কজন এর চেয়ারপারসন ও কমিউনিটি এ্যাক্টিভিস্ট মুন কুরাইশি।
মৃধা শোর বিরামহীন পথচলা এবং ব্যাতিক্রম ধর্মী অনুষ্ঠানে আপনাদের সবার সহযেগিতা ও দোওয়া একান্ত কাম্য। প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি, সমাজের অসংগতি এবং আমাদের ইতিহাস ঐতিয্য, আমাদের ব্যার্থতা এবং সফলতা তুলে ধরতে প্রতি শনিবার মৃধা শোর সাথেই থাকুন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হেফাজত নেতাদের বৈঠক
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন হেফাজতে ইসলামের নেতারা। বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারী) বিকাল তিনটায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সচিবালয়ে যান হেফাজতের ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল। সেখানে প্রায় এক ঘন্টা সময় অতিবাহিত করেন হেফাজত নেতারা। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে কারাবন্দী আলেম-ওলামা ও হেফাজত নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
হেফাজতের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ পর্যন্ত যে সকল বন্দীর মুক্তি হয়েছে, তাদের মুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতা করায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট অনান্যদের শুকরিয়া আদায় করছি। একইসঙ্গে এখনো যে সকম ওলামায়ে কেরাম, হেফাজতের নেতা-কর্মী ও ইসলাম প্রিয় জনতা বন্দী রয়েছে, তাদের সকলের দ্রুত মুক্তি দানের আহবান জানাচ্ছি। তাদের বন্দিত্বের সময়কাল ১০ মাসেরও বেশি হয়ে গেছে। একেকজন বন্দীর কারণে একেকটি পরিবার, কোনো ক্ষেত্রে একটি প্রতিষ্ঠান সমস্যাগ্রস্ত অবস্থায় আছে। কেউ একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছে।
এই অবস্থায় অবিলম্বে তাদের মুক্তি দেয়ার জন্য আমরা সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।
এছাড়াও বৈঠক থেকে হেফাজত নেতাকর্মীদের নামে ২০১৩, ২০১৬ ও ২০২১ সালের সকল মামলা প্রত্যাহারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানানো হয়।
এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল দীর্ঘসময় নিয়ে হেফাজত নেতৃবৃন্দের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনেন এবং ওলামায়ে কেরামের মুক্তির বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কারাবন্দীদের সাথে পরিবারের লোকজনের সাক্ষাৎ ও যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন বলে হেফাজতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমানের নেতৃত্বে বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন- হেফাজতের নায়েবে আমীর আল্লামা শাহ আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, নায়েবে আমীর ও হাটহাজারী মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা ইয়াহিয়া, নায়েবে আমীর দেওনার পীর অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মীর ইদরীস নদভী ও প্রচার সম্পাদক মাওলানা মহিউদ্দীন রাব্বানী।
ভূমধ্যসাগরে নিহত ৭ বাংলাদেশীর লাশ দেশে আসছে
ইউরোপে অভিবাসনের প্রত্যাশায় নৌকায় করে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া ৭ বাংলাদেশীর মৃতদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ওই ৭জনের মধ্যে জয় তালুকদারের মরদেহ দেশে আসছে আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারী। মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে রোমের বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিজ্ঞপ্তি মতে, জয় তালুকদারের মরদেহ ১০ই ফেব্রুয়ারী ইতালি থেকে রওনা দেবে। আগামী শনিবার বেলা ৩টা ৩৫ মিনিটে তার লাশবহনকারী ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করার কথা রয়েছে। এ ছাড়া কামরুল হাসান বাপ্পীর মরদেহ দেশে আসছে আগামী রোববার। এই দু’জনের স্বজনদের সঙ্গে দূতাবাসের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। জয় তালুকদার ওরফে রতনের বাড়ি মাদারীপুরের সদর উপজেলার পিয়ারপুর গ্রামের।
কামরুল হাসান বাপ্পীর বাড়িও মাদারীপুর সদর উপজেলায়। বাকি পাঁচজনের মরদেহ শিগগিরই দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়াও চলছে জানিয়ে রোমের বাংলাদেশ দূতাবাস বলেছে, ২৫ শে জানুয়ারী লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইতালির ল্যাম্পেদুসা দ্বীপে যাওয়ার পথে অতিরিক্ত ঠান্ডায় ৭ বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়। দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, মারা যাওয়া ৭জন হলেন- পশ্চিম পিয়ারপুর গ্রামের ইমরান হোসেন, পিয়ারপুর গ্রামের জয় তালুকদার ওরফে রতন, ঘটকচর গ্রামের সাফায়েত, মোস্তফাপুর গ্রামের জহিরুল, কামরুল হাসান বাপ্পী, মাহমুদপুর গ্রামের সাজ্জাদ, ভৈরবের সাইফুল। এর আগে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, অবৈধভাবে নৌকাযোগে লিবিয়া থেকে ইতালির ল্যাম্পেদুসা দ্বীপের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন একদল অভিবাসনপ্রত্যাশী। যাত্রাপথে ঠান্ডায় প্রাণ হারান ৭জন। ইতালির বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, ওই নৌকায় যাত্রী ছিলেন ২৮৭ জন, তাদের মধ্যে ২৭৩ জনই বাংলাদেশী। ইতালিয়ান বার্তা সংস্থা এএনএসএ’র প্রতিবেদনে বলা হয়, জনবসতিহীন ইতালিয়ান দ্বীপ ল্যাম্পেদুসার উপকূল থেকে প্রায ৫০ কিলোমিটার দূরে নৌকাটিকে দেখতে পান কোস্টগার্ড সদস্যরা। নৌকায় ৩জনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। পরে নৌকাটি বন্দরে ভেড়ানোর আগেই আরও ৪জনের মৃত্যু হয়।


