ডাচেস অব কর্নওয়াল ক্যামিলা একসময় ছিলেন লেডি ডায়ানার বৈবাহিক জীবনের সবথেকে বড় ‘কাঁটা’। সেই ক্যামিলাকে ‘রানি কনসর্ট’ হিসেবে চান রানি এলিজাবেথ। ব্রিটিশ সিংহাসনে আরোহনের ৭০তম বছর উদযাপনের দিন এই ঘোষণা দেন তিনি।
রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ১৯৫২ সালে সিংহাসনে বসেছিলেন। ৯৫ বছর বয়সী রানি প্রথম শাসক হিসেবে ব্রিটেনের সিংহাসনে ৭০ বছর কাটালেন।
এলিজাবেথ বলেন, তিনি আশা করেন চার্লস যখন সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হবেন তখন তার পুত্রবধূ রানি কনসোর্ট হিসেবে পরিচিত হবেন।
চার্লস রাজা হলে ব্রিটেনের রানি হবেন ক্যামিলা, জানালেন এলিজাবেথ
উল্লেখ্য ডায়ানার সঙ্গে চার্লসের বিচ্ছেদে ভূমিকার জন্য নিন্দার পাত্রী ক্যামিলা। চার্লস ও ক্যামিলা ২০০৫ সালে বিয়ে করেছিলেন। ওই সময় একটি রাজকীয় ঘোষণার মাধ্যমে জানানো হয়েছিল যে ক্যামিলা প্রিন্সেস কনসর্ট হিসেবে পরিচিত হবেন। কিন্তু তিনি ধীরে ধীরে ভবিষ্যত রাজার অনুগত স্ত্রী হিসেবে প্রশংসা অর্জ করেছেন।
সিংহাসনে বসার ৭০তম বর্ষপূর্তিতে রানি ব্রিটিশ নাগরিকদের উদ্দেশে এক বার্তায় লিখেছেন, এটা আমার আন্তরিক ইচ্ছা যে সময় যখন আসবে, ক্যামিলা কুইন কনসর্র্ট হিসেবে পরিচিতি পাবেন।
চার্লস রাজা হলে ব্রিটেনের রানি হবেন ক্যামিলা, জানালেন এলিজাবেথ
রানি এলিজাবথ ব্রিটিশদের কাছে আশা প্রকাশ করে লেখেন, আমাকে যেভাবে সমর্থন করেছেন আপনারা, আমার আশা চার্লস ও ক্যামিলাকেও একইভাবে সমর্থন জানানো হবে।
ব্রিটেনে ক্ষমতাসীন রাজার স্ত্রীকে বলা হয় ‘কুইন কনসর্ট’। সে কারণে স্বামী রাজা হওয়ার পর ক্যামিলার পদবি হবে ‘রানি’ ক্যামিলা।
সূত্র: বিবিসি
চার্লস রাজা হলে ব্রিটেনের রানি হবেন ক্যামিলা, জানালেন এলিজাবেথ
আরেকটি হুদা কমিশন করার জন্যই সার্চ কমিটি কাজ করছে : ফখরুল
ঢাকা সংবাদদাতা: আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে আরেকটি ‘হুদা কমিশন’ করার জন্যই সার্চ কমিটি কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারী) সকালে রাজধানীর পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা সভাপতি আব্দুল আজিজ দেখতে এসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সার্চ কমিটি আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করছে। এ কমিটি নিয়ে কোনো আগ্রহ বা প্রত্যাশাও নেই। তিনি আরও বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনার নিয়োগে গঠিত সার্চ কমিটিকে কোনো নাম বিএনপির পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হবে না।
সার্চ কমিটিতে যারা রয়েছেন, তারা সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, সার্চ কমিটি লোক দেখানো, এতে কোনো নাম প্রস্তাব করবে না বিএনপি। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনও জনগণ হতে দেবে না। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচন দিতে হবে।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বিএনপি চেয়ারপাসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খানসহ নাটোর বিএনপি নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বনাথে সূচনার প্রদর্শনী ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক:: ‘সূচনা: বাংলাদেশে অপুষ্টির চক্র প্রতিরোধে একটি প্রয়াস’ প্রতিপাদ্যে সিলেটের বিশ্বনাথে আরডিআরএস বাংলাদেশ, সূচনা কর্মসূচির আয়োজনে সরকারি-বেসরকারি সেবা প্রদানকারী এবং জনসাধারণের সাথে সূচনা প্রকল্পের ভাল অভ্যাস সমূহের প্রদর্শনী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
রামপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য মিনা বেগমের সভাপতিত্বে আরডিআরএস বাংলাদেশ-রামপাশা ইউনিয়নের কো-অর্ডিনেটর তাজমিন সুলতানার সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায়। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. শামীমা সুলতানা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহবুব আলম সরকার, ইউপি সদস্য আবুল খয়ের, পালেরচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাহার। শুরুতে সূচনার বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আরডিআরএস বাংলাদেশ, সূচনা প্রকল্পের প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর মো. ফরাজদুক ভূঞা।
সূচনার বিভিন্ন কর্মসূচির উপকারভোগীদের মধ্যে বক্তব্য দেন ফুলবি বেগম, স্বপ্না বেগম, ফারজানা বেগম, আকলিমা বেগম, জাহিরুন বেগম, পিয়া বেগম, কৃষ্ণা রাণী ও লিপি সরকার প্রমুখ। তারা তাদের বক্তব্যে কিভাবে সবজি চাষ, ডার্মি কম্পোস্ট ও পোল্ট্রি সহযোগিতা পেয়ে, কিভাবে মাছ-হাঁসমুরগী চাষ করে লাভবান হয়েছেন। ভ্যাকসিনেটর হিসেবে কিভাবে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এলাকায় সফল হয়েছেন এবং কিভাবে বাল্যবিয়ে, ইভটিজিং রোধ ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এলাকার কিশোরীদের এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তা তুলে ধরেন।
ডাইনি অপবাদে ১ হাজার মানুষকে পিটিয়ে হত্যা
প্রতিদিন গড়ে তিনজন ডাইনি শিকারের ঘটনা রেকর্ড করা হয়। গত ২২ বছরে এক হাজার মানুষকে ডাইনি সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে ভারতের ঝাড়খণ্ডে। চলতি বছরে এ পর্যন্ত পাঁচজন, এই কুসংস্কারের কারণে আক্রান্ত হয়েছেন, এদের মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আইএএনএসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ঝাড়খণ্ড পুলিশের রিপোর্টে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেয়েছে।
রিপোর্ট বলা হয়েছে, ডাইনি অপবাদে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় এক হাজার জনের মধ্যে ৯০ শতাংশই মহিলা। একবিংশ শতাব্দীতে রাজ্যে ডাইনি অপবাদে পিটিয়ে খুন। এই কুসংস্কারে সবচেয়ে বেশি ঘটে ঝাড়খণ্ডে। ২০০০ সালে বিহার থেকে পৃথক হয়ে স্বতন্ত্র রাজ্য হিসাবে ঘোষণা করা হয় ঝাড়খণ্ডকে। প্রতিবেদনের তথ্য থেকে জানা যায়, ২০২১ সালে ২৪ জন এই কুসংস্কারের শিকার হয়েছেন।
চলতি বছরের গত ২ জানুয়ারি ঝাড়খণ্ডের গুমলা জেলার লুকিয়া গ্রামে এক মহিলাকে ডাইনি অপবাদে মারধর করেন স্থানীয়রা। মৃত্যু হয় সেই মহিলার। মাকে রক্ষা করতে ছুটে যান দুই ছেলে। রক্ষা পায়নি তারাও। তাদের দড়ি দিয়ে বেঁধে চলে নির্মম প্রহার করা হয়। দুই ভাই গুরুতর আহত হন। এখন অজয়ের চোখটাই নষ্ট হওয়ার পথে। এ ঘটনায় পুলিশ যে অভিযোগ করে সেখানে মূল অভিযুক্তের তালিকায় রয়েছেন স্বয়ং পঞ্চায়েতপ্রধান। সব মিলিয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ।
খুনতি জেলার অদকি থানার তিরলা গ্রামে ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি এক দম্পতিকে পিটিয়ে খুন করেন প্রতিবেশীরা। অভিযোগ, তারা ‘কালাজাদু’ জানতেন। পর এই খবর পাঁচ দিন পর প্রকাশ্যে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১২ জানুয়ারি, আবারো ডাইনি সন্দেহে মারধরের ঘটনা ঝাড়খণ্ড রাজ্যে। থেতাই থানার অন্তর্গত কুড়পানি গ্রামে এক মহিলাকে ডাইনি অপবাদে বেধড়ক মারধর করা হয়।
অভিযুক্তের বয়ান অনুযায়ী, ঝড়িয়ো নামে এক প্রতিবেশীর কুনজরে অকালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তার স্ত্রী। এখনও রাঁচির এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ওই মহিলা। ডাইনি সন্দেহে ২৭ জানুয়ারি আবারও একটি খুনের ঘটনা ঝাড়খণ্ডে। খুনের বীভৎসতা চমকে দেওয়ার মতো।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মহিলাকে খুনের পর গাড়িতে তার দেহ লুকিয়ে রাখেন অভিযুক্তরা। তার পর গাড়িটিকে খুনতি থানা এলাকার একটি নির্জন জঙ্গলে ফেলে রেখে আসেন চার অভিযুক্ত। আর এই খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত পেশায় নার্স! পুলিশি জেরায় সালোমি মিজ নামে ওই নার্স জানান হঠাৎ তার ছেলের মৃত্যু হয়। নার্সের ঘোর সন্দেহ, নোরা লকড়া নামে তার ভাড়াটে ডাকিনী বিদ্যা করে তার ছেলেকে মেরে ফেলেছেন।
২০২০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। গুমলা জেলায় পাঁচজনকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে খুনের অভিযোগ ওঠে আট জনের বিরুদ্ধে। সেখানেও কারণ সেই এক ডাইনি অপবাদ। তার আগের দুমাসে তিন জন এই কুসংস্কারের বলি হন। ঝাড়খণ্ড পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত সাত বছর ধরে প্রতি বছর গড়ে ডাইনি সন্দেহে খুনের ঘটনা ৩৫টি। সিআইডি-র রিপোর্ট থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালে ডাইনি সন্দেহে ৪৬ জন মহিলাকে পিটিয়ে মারা হয়। ২০১৬ সালে ৩৯, ২০১৭ সালে ৪২, ২০১৮ সালে ২৫, ২০১৯ সালে ২৭ এবং ২০২০ সালে ২৮ জন এই কুসংস্কারের বলি হয়েছেন। ২০২১ সালের পুরো তালিকা এখনও আসেনি। তবে পুলিশের খাতায় এমন ২৪ খুনের মামলা রুজু হয়েছে। গত সাত বছরে ঝাড়খণ্ডে ২৩০ জনের মৃত্যুর কারণ হল ডাইনি অপবাদ। গত ২২ বছরে সংখ্যাটা এক হাজারের বেশি।
গুম নিয়ে দুই মন্ত্রীর বক্তব্যে ক্ষুব্ধ মান্না
দেশে গুমের ঘটনা ও গুম হওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের দেওয়া ৫ ফেব্রুয়ারি বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেছেন, সরকারের মন্ত্রিসভার দুইজন শীর্ষ মন্ত্রীর কাছ থেকে এই ধরনের জলজ্যান্ত মিথ্যা কথা এবং গুম হওয়া ব্যক্তি ও পরিবারের প্রতি উপহাসমূলক বক্তব্য অমার্জনীয়।
আজ সংবাদ মাধ্যমে নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাকিব আনোয়ারের পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। মান্না বলেন, বিরোধী শক্তিকে দমন করতে অবৈধ ক্ষমতাসীন সরকারের গুম, খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, নিপীড়নের কথা আজকে বিশ্ব দরবারে প্রমাণিত। গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার বছরের পর বছর ধরে হারানো স্বজনদের ফিরে পাবার জন্য আর্তনাদ করছে। এই স্বজন হারানো অসহায় পরিবারগুলোকেও দিনের পর দিন হয়রানি করা হচ্ছে। সর্বশেষ জাতিসংঘ সরকারের কাছে গুমের বিষয়ে জানতে চাওয়ার পর এই পরিবারগুলোর প্রতি পুলিশি হয়রানি আরও বেড়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, সরকারের নির্দেশেই পুলিশ এই হয়রানি করছে।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই শীর্ষ নেতা বলেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের ভূমধ্যসাগরে সলিল সমাধি হয়েছে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে উপহাস করেছেন, এর বিচার জনতার আদালতে একদিন হবে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে এই বিষয়টি স্পষ্ট যে, গুম হওয়া বা তার ভাষায় ভূমধ্যসাগরে সলিল সমাধি হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা তার কাছে আছে। অবিলম্বে সেই তালিকা প্রকাশ করা হোক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বয়ান অনুযায়ী দেশে এরকম কোনো ঘটনাই ঘটেনি। দুই মন্ত্রীর ভিন্ন বক্তব্যের বিষয়টিও স্পষ্ট করতে হবে। অবৈধভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে ভয়ের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতেই সরকার গুম, খুন, ক্রসফায়ার নাটক করে আসছে। দেশের জনগণের সাথে সাথে এখন আন্তর্জাতিক মহলও এই সরকারের অপকর্মের প্রতি ধিক্কার জানাচ্ছে। ফ্যাসিবাদী সরকারের বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে। ক্ষমতা হারানোর ভয়ে সরকারের মন্ত্রীরা হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে এসব অবিবেচনা প্রসূত, ঘৃণ্য বক্তব্য দিচ্ছে।
দুই মন্ত্রীকে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার তথা জনগণের কাছে প্রকাশ্য ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি করেন ডাকসুর সাবেক এই ভিপি। তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং আমার দল নাগরিক ঐক্যের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি এবং তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সেই সাথে ন্যূনতম সময়ের মধ্যে গুম হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
৮২ বছরের বৃদ্ধের বিরুদ্ধে ৭৮ বছরের স্ত্রীর যৌতুকের মামলা!
স্বামীর বয়স ৮২। স্ত্রীও ৮০ ছুঁইছুঁই। অশীতিপর বৃদ্ধ স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক না পেয়ে অত্যাচার করার অভিযোগ করলেন স্ত্রী। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের কানপুরের চাকেরি এলাকায়। বৃদ্ধার এমন পদক্ষেপে চমকে গিয়েছেন তার সন্তানও। ভারতের স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, স্বামী, জামাইসহ মোট ছয় জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ওই বৃদ্ধা। তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তার।
যৌতুকবিরোধী আইনে মামলার পর পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। গণেশনারায়ণ শুক্ল নামে ওই বৃদ্ধের সন্তান রজনীশ জানিয়েছেন, তার মা কোনো আত্মীয়ের প্রভাবেই এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন। তিনি বলেন, যৌতুকবিরোধী আইনে মামলা দায়ের হয়েছে শুনে আমার বাবা অবাক হয়েছেন।
প্রতিবেশীদের বক্তব্য, গণেশ লাঠি ছাড়া চলতে পারেন না। সেই গণেশের বিরুদ্ধে এমন মামলা দায়ের হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। গণেশের আইনজীবী শিবেন্দ্রকুমার পাণ্ডের দাবি, এ ক্ষেত্রে যৌতুকবিরোধী আইনের অপব্যবহার করা হয়েছে। এই আইনজীবী বলেন, বিয়ের এত বছর পর যৌতুক নিয়ে অভিযোগ তোলার কোনো মানে হয় না। বর্তমানে বিষয়টি বিচারাধীন। এই সমস্যা যাতে সমঝোতার মাধ্যমেই মেটে তার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংগীতের দেবী পাড়ি জমালেন অনন্তলোকে
সংগীতের দেবী লতা মঙ্গেশকর পাড়ি জমালেন অনন্তলোকে। কেবল ভারত নয়, উপমহাদেশজুড়ে আজ তাই শোকের বাতাস বহমান। রোববার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সুরসম্রাজ্ঞী। বিকেলে তার শেষ যাত্রার আয়োজন করা হয়। লতা মঙ্গেশকরের অন্তিমযাত্রায় দেখা গেছে মানুষের ঢল। হাজার হাজার ভক্ত, অনুরাগী ছুটে এসেছেন প্রিয় শিল্পীকে শেষবারের মতো দেখতে, শ্রদ্ধা জানাতে। মানুষের চাপ সামলাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও হিমশিম খেতে হয়েছ।
মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে রাখা হয় লতা মঙ্গেশকরের মরদেহ। সেখানে তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রয়াত শিল্পীর মরদেহে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পাশাপাশি মাথা নিচু করে প্রণাম করেন তিনি। এরপর ভারতের রাজনীতি, সিনেমা ও সংগীতাঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। ছিলেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান, লেখক জাভেদ আখতার, ক্রিকেট ঈশ্বর খ্যাত শচীন টেন্ডুলকার, আমির খান, রণবীর কাপুরের মতো তারকারা।
জানা গেছে, লতা মঙ্গেশকরের শেষকৃত্যের আচার পালন করেছেন আটজন পুরোহিত। ভারতীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
এদিকে লতার প্রয়াণে ভারতে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার মহারাষ্ট্র রাজ্যে ঘোষণা করা হয়েছে সরকারি ছুটি। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গেও অর্ধদিনের ছুটি দিয়েছে রাজ্য সরকার।
১৯২৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর লতা মঙ্গেশকরের জন্ম ভারতের মধ্যপ্রদেশের এক মারাঠি পরিবারে। বাবার হাত ধরে গান ও অভিনয়ের জগতে প্রবেশ করেন তিনি। ১৩-১৪ বছরে প্রথম গান গেয়েছিলেন মারাঠি সিনেমায়। হিন্দিতে প্রথম প্লেব্যাক করেন ‘মজবুর’ সিনেমায়।
চার সপ্তাহ ধরে করোনা, নিউমোনিয়া আর বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতার সঙ্গে লড়াই করেছেন লতা মঙ্গেশকর। গত ৯ জানুয়ারি তার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে। সেখানে অবস্থার অনেকটাই উন্নতি হয়েছিল লতার। ৩০ জানুয়ারি তার করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। ভেন্টিলেশন থেকে বের করে নিয়ে আসা হয় সুরসম্রাজ্ঞীকে। কিন্তু দুদিন আগে পুনরায় তার অবস্থার অবনতি হয়। অবশেষে রোববার সকালে সবাইকে কাঁদিয়ে চলে যান না ফেরার দেশে।
বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ চুরি: ১৩ কর্মকর্তা সনাক্ত
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরিতে এখন পর্যন্ত আট দেশের অন্তত ৭৬ ব্যক্তির জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এছাড়া হ্যাকিংয়ের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে ও ইচ্ছাকৃতভাবে আর্থিক লেনদেনের বার্তা প্রদানব্যবস্থা সুইফট সিস্টেমের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে ফেলতে গাফিলতি বা দায় ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরের এমন ১৩ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে শনাক্ত করেছে তারা। তবে পুলিশ ওই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করেনি।
সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, ৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার বা ৫৬১ কোটি টাকা উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সাউদার্ন জেলা আদালতে রিভিউ মামলার নিষ্পত্তির জন্য অপেক্ষা করছে সিআইডি। এ মামলার রায়ের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়ের করা মতিঝিল থানার সেই রিজার্ভ চুরি মামলার অভিযোগপত্র ‘ওপরের’ নির্দেশে দেয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল কোর্টের মামলার নিষ্পত্তির আগে সিআইডি মামলার অভিযোগপত্র দিলে টাকা ফেরত পেতে বেগ পোহাতে হতে পারে। ওই মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার পর সিআইডি তাদের তদন্ত করা মামলার অভিযোগপত্র দেবে।
গত ছয় বছর আগে ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়ে যায়। এ অর্থ যায় ফিলিপাইনের মাকাতি শহরে রিজাল ব্যাংকের একটি শাখায় চারটি ভুয়া হিসাবে। সেখান থেকে দ্রুত অর্থ উত্তোলন করা হয়। পরে চুরি হওয়া অর্থের মধ্যে মাত্র দেড় কোটি ডলার পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়। এখনো ৫৬১ কোটি টাকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা চলছে। ঘটনার ৩৯ দিন পর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে মতিঝিল থানায় বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরি, মানি লন্ডারিং ও সাইবার অপরাধ দমন আইনের ধারায় মামলা করা হয়। পরে ওই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডিকে।
সিআইডি বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্তত ১৩ কর্মকর্তার গাফিলতি রির্জাভ চুরির সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। তাদের মধ্যে তৎকালীন গভর্নর, তৎকালীন একজন নির্বাহী পরিচালক, তৎকালীন একজন মহাব্যবস্থাপক, তৎকালীন তিনজন উপপরিচালক, তৎকালীন চারজন যুগ্ম পরিচালক, তৎকালীন তিনজন উপমহাব্যবস্থাপক পর্যায়ের কর্মকর্তা ছিলেন। এদের দু’জন বর্তমানে অবসরে গেছেন আবার পদোন্নতি পেয়ে কেউ কেউ ডেপুটি গভর্নর পর্যন্ত হয়েছেন।
এ ছাড়া এ ঘটনায় বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, জাপান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন ও হংক – এই আট দেশের ৭৬ নাগরিক জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি।
সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. হুমায়ুন কবির জানান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বাকি পাঁচ দেশ অভিযুক্ত নাগরিকদের বিষয়ে সিআইডিকে তথ্য দিয়েছে। সিআইডির তদন্তের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমান বলেন, একজন গভর্নর একা সিদ্ধান্ত নেন না। তাছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক তো আমার বিরুদ্ধে মামলা করেনি।
সিআইডির অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মাহবুবুর রহমান বলেন, চুরির ৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার বা ৫৬১ কোটি টাকা উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সাউদার্ন জেলা আদালতে রিভিউ মামলার রায় হলে মতিঝিল থানায় দায়ের করা রিজার্ভ চুরির মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। এখন অভিযোগপত্র দিলে টাকা ফেরত আনতে বেগ পোহাতে হতে পারে।
ভোজ্য তেলের দাম ঊর্ধ্বগতি : লিটারে ৭ থেকে ১৫ টাকা বাড়লো
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই আরেক দফা বাড়ানো হলো ভোজ্য তেলের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত সয়াবিনের দাম বাড়ায় নতুন করে মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খোলা সয়াবিনের দাম লিটারে ৭ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন লিটারে ৮ টাকা এবং পাম তেলে কেজিতে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া সয়াবিনের পাঁচ লিটারের বোতলে ৩৫ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। রোববার বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বৈঠক করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
সোমবার থেকে নির্ধারিত দাম কার্যকরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ৮ টাকা বাড়িয়ে ১৬৮ টাকা এবং খোলা সয়াবিনে ৭ টাকা বাড়িয়ে ১৪৩ টাকা র্নিধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বোতলজাত সয়াবিনের ৫ লিটারের দাম ৩৫ টাকা বৃদ্ধি করে ৭৯৫ এবং পাম তেলের দাম কেজিতে ১৫ টাকা বৃদ্ধি করে ১৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মূল্য অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বাংলাদেশ ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী ও বনস্পতি উৎপাদক সমিতির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও জানানো হয়েছে
সর্বশেষ গত বছরের ১৯শে অক্টোবর সরকার ভোজ্য তেলের দাম নির্ধারণ করে দেয়।
সেই অনুযায়ী প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৬০ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল দাম ১৩৬ টাকা, বোতলজাত সয়াবিনের ৫ লিটারের ৭৬০ টাকা এবং পাম তেলের দাম প্রতি লিটার ১১৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।
ধামরাইয়ে একঘরে দুই স্বামী নিয়ে তরুণীর বসবাস : তোলপাড়
ঢাকা: ঢাকার ধামরাইয়ে এক স্ত্রী তার দুই স্বামী নিয়ে এক ছাদের নিচে বসবাস করছেন। এটি কোনো বাংলা সিনেমার নাম নয়। এমনি ঘটনা ঘটেছে গাঙ্গুটিয়া গ্রামে। এ ঘটনায় গণপিটুনির পর এক স্বামী পালিয়ে যেতে পারলেও আরেক স্বামী স্ত্রীসহ আছেন পুলিশ হেফাজতে।
জানা গেছে, উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নে এক তরুণী (১৯) গোপনে দুই ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। রাত্রি যাপনও করেন একইসঙ্গে।
স্থানীয়রা বেশ কয়েক দিন ধরে গোপনে নজর রাখেন ওই তরুণীর ওপর। পরে শনিবার সন্ধ্যায় এলাকাবাসী দুই স্বামীসহ ওই তরুণীকে একটি কক্ষে আটক করেন। এ সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাদের গণপিটুনিও দেন। এক পর্যায়ে রেজাউল করিম রাজা নামের এক স্বামী কৌশলে পালিয়ে যান।
পরে এলাকাবাসী অপর স্বামী রনি মিয়াসহ ওই তরুণীকে পুলিশে সোপর্দ করেন।
স্থানীয় রাসেল মিয়া জানান, স্থানীয়রা আটকের পর ওই তরুণী দুজনকেই তার স্বামী দাবি করেন। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
ধামরাই থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মফিজুর রহমান মফিজ বলেন, এক বধূর দুই স্বামী এমন কথা স্থানীয়রা বলছেন। এলাকাবাসী এক তরুণ ও এক তরুণীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে।


