Home Blog Page 1633

এই নোংরামির মধ্যে আর আমি যাব না : পপি

আবার হঠাৎ আলোচনায় অনেক দিন ধরে আড়ালে থাকা ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। ‘চারিদিকে শক্র’ অভিনেত্রীর সাড়ে ৫ মিনিটের একটি ভিডিওবার্তা ভাইরাল চলচ্চিত্রের বিভিন্ন গ্রুপে। যেখানে শিল্পী সমিতির সদ্য বিদায়ী কমিটির এক নেতার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ করেছেন তিনি। ভিডিওবার্তায় পপি বলেন, ‘ভেবেছিলাম আর কখনোই ক্যামেরার সামনে আসব না। কিন্তু একজন শিল্পী হিসেবে এবং নিজের কিছু দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আজকে কিছু কথা না বললেই না।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বর্তমান শিল্পী সমিতির একটি মাত্র লোকের কারণে, তার পলিটিক্স এবং তার অনেক রকম অসহযোগিতার কারণে আমাকে বারবার অপমানিত হতে হয়েছে। শুধু আমি না, আমার মতো রিয়াজ, ফেরদৌস, পূর্ণিমা, নিপুণও অপমানিত হয়েছেন। আমাদেরকে ব্যবহার করে যে এই চেয়ারটিতে বসেছে- সেখানে বসেই বিভিন্ন রকমের অপকর্মের চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমরা গুটি কয়েক তাতে সাঁয় দিইনি। যার কারণে আজকে আমি ভিক্টিম। আমার মতো শিল্পীকে সদস্যপদ বাতিলের জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। এতো বছর কাজ করার পর এমন আচরণ, একটা শিল্পীর জন্য কতোটুকু অপমানের-সেটা আমি বুঝতে পারি। ১৮৪ জন শিল্পীও এই কষ্টটা বুঝতে পারবে।’

পপির ভাষ্য, ‘এই নোংরামির জন্য, আমার মানসম্মানের ভয় ছিল, আমার জানের ভয় ছিল। সব কিছু মিলে আমি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি। আমার কাছে সদস্যপদ বাতিলের চিঠিটা এখনও আছে। ওই চিঠিটা যখনই পেয়েছি, তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছি- এই নোংরামির মধ্যে আর আমি যাব না। ভেবেছি, কখনো যদি পরিবেশ ভালো হয়- তখনই চলচ্চিত্রে ফিরব।’

সেই নেতাকে ঠেকাতে এবারের শিল্পী সমিতি নির্বাচনে কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেলকে ভোট দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন জনপ্রিয় এই নায়িকা। তার কথায়, ‘আমরা যে ভুলটা করেছি, দয়া করে আপনারা সেই ভুলটা করবেন না। চলচ্চিত্র বাঁচলেই আমরা বাঁচব। আমরা পরিবর্তন চাই, কাজ চাই। সেজন্য আমার কাছে মনে হয়েছে, আমাদের পরীক্ষিত সৈনিক কাঞ্চন ভাই, নিপুণ, রিয়াজদের একটা সুযোগ দেয়া উচিত। ভালো কাজের জন্য। তারা অন্তত শিল্পীর মূল্যায়ন করবে।’

‘দক্ষ জনবল না থাকায় এনআইডিতে কিছু ভুল-ভ্রান্তি রয়ে গেছে ’

প্রয়োজনীয় সংখ্যক দক্ষ টেকনিক্যাল জনবল না থাকায় এবং সময় স্বল্পতার কারণে জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু ভুল-ভ্রান্তি রয়ে গেছে এবং যার অধিকাংশই বানানে ভুল বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আনিসুল হক। বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারীর প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান।

আইনমন্ত্রী বলেন, ২০০৭-০৮ সালে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে এবং সশস্ত্র বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের সার্বিক সহযোগিতায় নাগরিকদের বায়োমেট্রিক্স সংগ্রহ করে জাতীয়ভাবে ভোটার ডাটাবেস তৈরি করা হয়। বিভিন্ন পর্যায়ে জাতীয় তথ্য-ভাণ্ডারে পরিলক্ষিত ভুলসমূহের বিষয়ে আইন ও বিধি অনুসারে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হলেও বিভিন্ন কারণে অনেকেই যথাসময়ে এ সুযোগ গ্রহণ করেননি। বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুতের ক্ষেত্রে দেশের নাগরিকরা সচেতন হওয়ায় ভুলের পরিমাণ তুলনামূলক কম।

এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ২০১২ সাল হতে এখন পর্যন্ত জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুতের সব ক্ষেত্রে ভোটারের নিবন্ধন ফরম কেন্দ্রীয় তথ্য-ভাণ্ডারে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এতে দেখা গেছে, এনআইডি সঠিকভাবেই মুদ্রিত হয়েছে। অপরদিকে সংশোধনের জন্য পাওয়া আবেদনের অধিকাংশই সংশোধনের চাহিদা অনুযায়ী যুক্তিসঙ্গত নয়। এসব আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে যথাযথ প্রমাণপত্র দলিলাদি দাখিলসহ ক্ষেত্রবিশেষ তদন্ত/পুনঃতদন্তের প্রয়োজন পড়ে। এসব আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কিছুটা বেশি সময় লাগে।

মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন কর্মকর্তাদের এ সেবার সাথে সম্পৃক্ত করে একটি অত্যাধুনিক অনলাইন কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করা হয়েছে services.nidw.gov.bd। পাশাপাশি অফলাইন ব্যবস্থাও চালু রয়েছে উল্লেখ করে আনিসুল হক বলেন, অনলাইন ব্যবস্থা চালুকরণের ফলে আবেদনকারী ঘরে বসেই তার এনআইডি কার্ড সংশোধনের আবেদন করতে সক্ষম হচ্ছেন। আবেদন কোন পর্যায়ে রয়েছে সেটিও ট্র্যাকিং করতে পারছেন। এনআইডি সংশোধনের আবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত হওয়ার পর সংশোধিত কার্ডটি অনলাইনে ডাউনলোড করার মাধ্যমে প্রিন্ট করতে পারছেন। আবেদনকারী সশরীরে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা নির্বাচন কার্যালয়ে গেলেও আবেদন গ্রহণ করা হয়ে থাকে।

দ্রুত আবেদন নিষ্পত্তির জন্য সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র সেবাকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সীমিত না রেখে বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। এনআইডি উইংয়ের কর্মকর্তাদের পাশপাশি মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কার্যালয়সমূহের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদেরও আবেদনের ধরন অনুসারে আবেদন নিষ্পত্তিকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।

করোনা বিধিনিষেধ শিথিল যুক্তরাজ্যে

করোনা বিধিনিষেধের বোঝা আর বহন না করে সংক্রমণকে সঙ্গে নিয়েই বসবাস করতে যাচ্ছে ব্রিটেন। আর সেই কারণেই ভাইরাসের অতিসংক্রামক ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট রুখতে যুক্তরাজ্যে জারি হওয়া বিধিনিষেধ বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে যুক্তরাজ্যের মানুষকে বদ্ধ জায়গায় মাস্ক পরার প্রয়োজন পড়বে না। একইসঙ্গে বার-রেস্টুরেন্টে প্রবেশের জন্য দেশটিতে এতোদিন টিকা সনদ প্রদর্শনের যে বাধ্যবাধকতা ছিল, সেটিও তুলে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

অবশ্য ব্রিটেনে গত দুই সপ্তাহ ধরেই করোনা সংক্রমণ হ্রাস পাচ্ছে। তবে সংক্রমণ কমলেও তা এখনও রয়েছে লাখের ওপরেই। যদিও গত বছরের শেষের দিকে বা চলতি মাসের শুরুতেও ব্রিটেনে সংক্রমণের যে উর্ধ্বমুখী হার দেখা যাচ্ছিল তা সম্পূর্ণ রূপে না কমলেও, একটি সমান্তরাল রেখায় পরিণত হয়েছে। আর তাই সংক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতেই বরিস জনসনের সরকার বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত নভেম্বরের শেষের দিকে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তের পর ডিসেম্বরের শুরু থেকেই ব্রিটেনে সংক্রমণ ও হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়তে শুরু করে। সেই পরিস্থিতিতে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর ব্রিটেনজুড়ে করোনা বিধিনিষেধ হিসেবে ‘প্লান বি’ জারি করেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

অবশ্য যুক্তরাজ্যের মানুষ সেই সিদ্ধান্ত খুব ভালোভাবে গ্রহণ না করায় করোনা সংক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে বিধিনিষেধের মাত্রা ‘প্লান বি’ থেকে ‘প্লান এ’-তে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। ব্রিটেনে ‘প্লান এ’ ন্যূনতম করোনাবিধি হিসেবে পরিচিত।

অবশ্য ‘প্লান বি’ বিধিনিষেধ জারি করে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, সকল বদ্ধ জায়গাতেই মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। কেউ যদি মাস্ক না পরেন, তবে জরিমানা বা কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে। অন্যদিকে, বার, নাইট ক্লাব, ফুটবল মাঠ বা বড় কোনো অনুষ্ঠানে প্রবেশের সময় টিকা সনদ দেখানো বাধ্যতামূলক।

তবে সমংক্রমণ কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় সর্বশেষ নির্দেশনায় বরিস জনসনের সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বদ্ধ জায়গায় বাধ্যতামূলকভাবে কাউকে মাস্ক পরতে হবে না। তবে খোলা জায়াগায় মাস্ক পরার নির্দেশনা আগের মতোই বহাল থাকবে। এছাড়া যেসব কর্মী এতোদিন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-র মাধ্যমে কাজ করছিলেন তারা ইচ্ছা করলে ফের অফিসে ফিরতে পারেন। একইসঙ্গে বার, নাইট ক্লাব বা বড় কোনো অনুষ্ঠানে প্রবেশের জন্য করোনা টিকার নেওয়ার সনদও দেখাতে হবে না।

এদিকে ইংল্যান্ডের স্কুলগুলোতেও শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরতে হবে না বলে জানানো হয়েছে। তবে গণপরিবহন ব্যবহারের সময় যাত্রীদের সবাইকে আগের মতোই মাস্ক পরতে হবে। একইসঙ্গে বিধিনিষেধ জারি থাকা সত্ত্বেও কেউ মাস্ক না পরলে তাদের জরিমানা বা শাস্তির মুখে পড়তে হবে না বলেও জানানো হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ১৯ জুলাই যুক্তরাজ্যে করোনা বিধিনিষেধ প্রত্য়াহার করা হয়েছিল। ওই দিনটিকে ‘ফ্রিডম ডে’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু নভেম্বরের শেষের দিকে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়ার পর ফের বিধিনিষেধ জারি করা হয়।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক দিনে যুক্তরাজ্যে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ২৯২ জন এবং মারা গেছেন ৩৪৬ জন। মহামারির শুরু থেকে এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার মানুষ মারা গেছেন। করোনায় বিপর্যস্ত ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের অবস্থান বেশ ওপরের দিকেই।

৭ লাখ ৪১ হাজার বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়েছে

২০২১ সালের ২৮ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৭ লাখ ৪১ হাজার ২৬৫ জনকে বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (২৬ জানুয়ারি) একাদশ জাতীয় সংসদের ষোড়শ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলামের (টিটু) লিখিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বজুড়ে করোনা প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পরপরই সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা হিসেবে বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার বিষয়টি আমার সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে। এ লক্ষ্যে করোনা টিকা আবিষ্কার ও ব্যবহারের অনুমতি পাওয়ার আগে থেকেই আমরা টিকা সংগ্রহ ও টিকা দেওয়ার বিষয়ে সব উদ্যোগ নিয়েছিলাম। তারই ফল হিসেবে দেশব্যাপী ২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি তারিখে কোভিড টিকা বিনামূল্যে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয় এবং যা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশব্যাপী ভ্যাকসিন দেওয়া কার্যক্রমের আওতায় ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ৮,৯১,৬৩,৯৭৮ (আট কোটি একানব্বই লাখ তেষট্টি হাজার নয়শ আটাত্তর) জনকে ১ম ডোজ এবং ৫,৭০,২০,৮৩৪ (পাঁচ কোটি সত্তর লাখ বিশ হাজার আটশ চৌত্রিশ) জনকে ২য় ডোজসহ সর্বমোট ১৪,৬১,৮৪,৮১২ (চৌদ্দ কোটি একষটি লাখ চুরাশি হাজার আটশ বার) জনকে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাবিশ্বের মতো দেশের কোভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকারও চলমান কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় বুস্টার ডোজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে ন্যাশনাল ইম্যুনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ, বাংলাদেশ (NITAG, B) এর সুপারিশ অনুযায়ী এবং করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন কার্যক্রম বাস্তবায়ন সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে দেশব্যাপী গত ২০২১ সালের ২৮ ডিসেম্বর থেকে বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে। বর্তমানে দেশে ষাটোর্ধ্ব জনগোষ্ঠী, সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মী ও বিদেশগামী কর্মীদের বুস্টার ডোজ দেওয়া হচ্ছে।

কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর যাদের ৬ (ছয়) মাস অতিক্রম হয়েছে তাদেরকে বুস্টার ডোজ দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জনগোষ্ঠীকেও বুস্টার ডোজের আওতায় আনা হবে। ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৭,৪১,২৬৫ (সাত লাখ একচল্লিশ হাজার দুইশ পঁয়ষট্টি) জনকে বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, মহামারি করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা ও সংক্রমণ প্রতিরোধের লক্ষ্যে সরকার দেশের সব মানুষকে টিকার আওতায় আনতে বর্তমানে দেশব্যাপী প্রায় ৭১৮টি স্থায়ী কেন্দ্রে, ৬০৫৮টি অস্থায়ী/ক্যাম্পেইন কেন্দ্রে এবং ১৩,৯৬৭টি কমিউনিটি ক্লিনিকে (ক্যাম্পেইন চলাকালে) কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। মার্চ ২০২২ নাগাদ শতকরা ৮০ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনার লক্ষ্যে বর্তমানে ওয়ার্ড পর্যায়ে ভ্যাকসিন দেওয়ার কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

বনি, এবার প্রেমিকার দলে?

ভারতীয় জনতা পার্টি থেকে এবার সরে দাঁড়ালেন টালিউডের তরুণ তারকা বনি সেনগুপ্ত। সোমবার (২৪ জানুয়ারি) টুইট করে এ ঘোষণা দেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন বনি। কিন্তু কয়েক মাস যেতে না যেতেই দলত্যাগ করলেন। এর আগে বিজেপি ছেড়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি ও তনুশ্রী তক্রবর্তী। তারাও নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেন। বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থীও হয়েছিলেন প্রত্যেকে। কিন্তু জয়লাভ করতে পারেননি কেউই। টুইট করে বনি বলেন, ‘আমি সবাইকে জানাচ্ছি যে, আজকের পর থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে আমার আর কোনও যোগাযোগ থাকবে না। এই পার্টি কথা রাখতে ও প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। তারা পশ্চিমবঙ্গ ও ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির যে উন্নতির কথা বলেছিলেন, আমি সেরকম কোনও উন্নতি দেখতে পাইনি।’

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) কলকাতার একটি গণমাধ্যমকে বনি বলেন, ‘আমি টুইট করার পর থেকেই বিজেপির নেতারা আমাকে ট্রল করতে শুরু করেছেন। বিজেপির একমাত্র লক্ষ্য কীভাবে মমতা ব্যানার্জিকে হারানো যায়। সার্বিক উন্নতির কোনও লক্ষ্যই নেই তাদের। কেউ কোনও খবরও নেয় না। তৃণমূলের পক্ষ থেকে খবর নেয়। শুভেন্দুদা ও রাজীবদার হাত ধরেই এই দলে যোগদান করেছিলাম। কিন্তু নির্বাচনের পর কেউ কোনও খবরই রাখে না। হেরে যাওয়ার পর আর কাজ নিয়ে কেউ কথা বলে না। কাজ করার ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই এই দলে।’

বনির প্রেমিকা কৌশানি মুখার্জি রয়েছেন তৃণমূলে। তাই প্রশ্ন উঠছে, বনিও কি তবে সেই দলেই ভিড়বেন এবার? জবাবে অভিনেতা বলেন, ‘এখন আর কোনও রাজনৈতিক দল নয়, অভিনয়ে ব্যস্ত হতে চাই। বেশ কয়েকটা সিনেমার কাজ হাতে আছে। কাজেই ফোকাস করতে চাই।’

স্টুডেন্ট ভিসায় বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যেতে ইচ্ছুকদের জন্য বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করেছে দেশটি। ১৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এ বিশেষ সুবিধার মেয়াদ আগামী আট সপ্তাহ পর্যন্ত থাকছে। এ সুবিধার আওতায় স্টুডেন্ট ভিসা ফি’র ৬৩০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার ফেরত দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এর জন্য অবশ্যই ১৯ মার্চের ভেতরে অস্ট্রেলিয়া প্রবেশ করতে হবে। অস্ট্রেলিয়া সরকার আশা করছে এর ফলে টিকা নেওয়া আন্তজার্তিক শিক্ষার্থীরা দ্রুত আবার অস্ট্রেলিয়া ফিরে আসবেন। আবার বাড়তি সময় কাজের যে অনুমতি দেওয়া হয়েছে তাতে দেশটিতে বিদ্যমান শ্রমঘাটতিও পূরণ হবে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমনন্ত্রী স্কট মরিসন ঘোষণা দিয়েছেন, যাদের স্টুডেন্ট ভিসা রয়েছে তারা এখন থেকে যেকোনো খাতে ২০ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে পারবে।
তিনি বলেন, প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থীর কাছে ভিসা রয়েছে, আমরা তাদের অস্ট্রেলিয়া ফিরে আসতে উৎসাহ দিচ্ছি। আমরা বাড়তি যে সুবিধা দিচ্ছি সেটা তাদের লেখাপড়ার জন্য অস্ট্রেলিয়াকে বেছে নেওয়ার জন্য ও ফিরে আসার জন্য কৃতজ্ঞতা স্বরুপ দিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, একইসঙ্গে আমরা এটিও চাই যে, তারা ফিরে আসুক এবং কিছু খাতে যে শ্রমঘাটতি রয়েছে তা পূরণ করুক। এটা আমাদের জন্য খুবই জরু।
অস্ট্রেলিয়ান ট্রেজারার জশ ফ্রাইডেনবার্গ বলছেন, ভিসা ফি ফেরত দেওয়ার জন্য তাদের বাড়তি সাড়ে ৫ কোটি ডলার খরচ হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে ৩ লাখ ২৪ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী রয়েছে, যারা অস্ট্রেলিয়াতে থেকে পড়ালেখা করছেন। ২৩ হাজার ৫০০ জনের হাতে অফশোর ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা রয়েছে এবং ১৮ হাজার ৫০০ জনের হাতে রয়েছে অনশোর। তাই এ উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই।

নতুন ভিসা আবেদনের জন্য এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে বলেও জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। নতুন আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
যারা এ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন গোটা বিষয়টা তাদের আকৃষ্টি তো করবেই, অস্ট্রেলিয়া নিয়ে মানুষের মধ্যে এর ফলে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী বলছেন, অস্ট্রেলিয়াতে বিদ্যমান শ্রমঘাটতি পূরণে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে না কি সত্যিই শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, অনেকে এমন প্রশ্ন তুলছেন।অস্ট্রেলিয়াতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলো এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। একে সময়োপযোগী ও দরকারি উদ্যোগ বলেও আখ্যায়িত করেছেন তারা।

এছাড়া ভিসা আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির ঘোষণাকেও স্বাগত জানিয়েছে তারা। তারা বলছে, আগামী দু’মাসের মধ্যে যারা লেখাপড়া করতে অস্ট্রেলিয়াতে আসতে চাচ্ছেন তাদের জন্য এটা খুবই ভালো একটা খবর।

তবে প্রতি ১৫ দিনে শিক্ষার্থীদের ৪০ ঘণ্টা কাজের যে সীমা বাঁধা ছিল তা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সতর্কতার সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

মহামারির এই সময়ে শিক্ষার্থীরা কাজের পর্যাপ্ত সুযোগ যেন পান সেদিকে নজর রাখতেই হবে। তবে একই সঙ্গে এটাও খেয়াল রাখতে হবে যে এতে যেন তাদরে কোর্স প্রগ্রেস ব্যাহত না হয়।

শিক্ষার্থীরা কত সময় কাজ করতে পারবেন সে বিষয়টি আবার এপ্রিলে পুনর্বিবেচনা করা হবে। এছাড়া আলাদাভাবে কুইন্সল্যাগ ঘোষণা দিয়েছে যে, যারা টিকার পুরো ডোজ নিয়েছেন তাদের সেখানে পৌঁছানোর পর কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে না। কুইন্সল্যান্ড ইতোমধ্যে মোট জনসংখ্যার ৯০ শতাংশকে টিকার পুরো ডোজ দিয়েছে।

অনশন ভাঙলেন শাবির আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন ভাঙালেন অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও তার সহধর্মিণী অধ্যাপক ইয়াসমিন হক। বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে অনশন ভেঙেছেন তারা। ক্যাম্পাসে থাকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাসপাতাল থেকে এসে অনশন ভেঙেছেন অসুস্থ হয়ে পড়া শিক্ষার্থীরাও। তবে শাবিপ্রবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলমান থাকবে। এর আগে ভোরে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙার প্রস্তাব দেন। শিক্ষার্থীরা তার অনুরোধে অনশন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অনশনকারীদের মুখপাত্র শাহরিয়ার আবেদিন।

এর আগে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট নিরসনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে সিলেটে পৌঁছান অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল ও ইয়াসমীন হক। রাত পৌনে ৪টায় ক্যাম্পাসে পৌঁছেই সরাসরি চলে যান অনশনস্থলে। সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন। শিক্ষার্থীরা পুরো ঘটনা খুলে বলার পর তিনি তাদের জানান, সরকারের কাছে আন্দোলনের সঠিক তথ্য নেই। তিনি সরকারের কাছে তাদের প্রকৃত তথ্য তুলে ধরবেন।

এ সময় তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যৌক্তিক। তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙার প্রস্তাব দেন। শিক্ষার্থীরা তার অনুরোধে অনশন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন। শিক্ষার্থীরা বাকি অনশনকারীদের হাসপাতাল থেকে অনশনস্থলে আনার জন্য সকাল ৮টা পর্যন্ত সময় চান।

এ সময় আন্দোলনে সহায়তার জন্য পাঁচ সাবেক শিক্ষার্থীর গ্রেফতারের কথা শুনে জাফর ইকবাল আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের হাতে ১০ হাজার টাকার একটি খাম তুলে দিয়ে বলেন, এখন ওরা যেন তাকেও গ্রেফতার করে।

এ ছাড়া অনশনস্থলে চিকিৎসা সেবা তুলে নেওয়ার কথা শুনে ড. জাফর ইকবাল বলেন, যেখানে শিক্ষার্থীরা অনশন করে মৃত্যুর দিকে যাচ্ছে, সেখান থেকে যারা চিকিৎসাসেবা প্রত্যাহার করেছে, তারা আসলে শিক্ষার্থীদের হত্যার পরিকল্পনা করেছিল।

তিনি সরকারের ওপর মহলে এসব অভিযোগ তুলে ধরবেন বলে জানান। সকাল ৬টার দিকে অনশনস্থল ত্যাগ করলে শিক্ষার্থীদের দেওয়া সময় অনুযায়ী সকাল ৮টায় আবারও অনশনস্থলে আসেন ড. জাফর দম্পতি। তবে তখনও হাসপাতাল থেকে বাকি ২০ অনশনকারী সেখানে পৌঁছাননি।

এদিকে আলোচনার পর আন্দোলনকারীদের মুখপত্র শাহরিয়ার আবেদিন জানান, জাফর স্যার, ম্যাডাম তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি সরকারকে বলবেন। তাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে অনশন কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান শাহরিয়ার আবেদিন। তবে উপাচার্য পদত্যাগের দাবিতে তাদের আন্দোলন চলমান থাকবে।

প্রসঙ্গত আন্দোলনে অর্থ জোগানের অভিযোগে শাবিপ্রবির সাবেক ৫ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে সিলেট মহানগর পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পর রাতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এর আগে ঢাকা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ওই ৫ জনকে সিলেট পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

মামলার পর তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ। গ্রেফতার সাবেক পাঁচ শিক্ষার্থী হলেন— হাবিবুর রহমান খান (২৬), রেজা নুর মুইন (৩১), এএফএম নাজমুল সাকিব (৩২), একেএম মারুফ হোসেন (২৭), ফয়সাল আহমেদ (২৭)।

শাবির ৫ সাবেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আন্দোলনে অর্থ জোগানোর মামলা

আন্দোলনে অর্থ জোগানের অভিযোগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ৫ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে সিলেট মহানগর পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পর রাতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এর আগে ঢাকা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ওই ৫ জনকে সিলেট পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আটকৃকতদের কিছুক্ষণ আগে রিসিভ করা হয়েছে। আন্দোলনে অর্থ জোগানের অভিযোগে মামলা দায়েরর পর তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

আটককৃতরা হলেন- টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর থানার দাড়িপাকা গ্রামের মতিয়ার রহমান খানের ছেলে হাবিবুর রহমান খান (২৬), বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার লক্ষীকোলা গ্রামের মুইন উদ্দিনের ছেলে রেজা নুর মুইন (৩১), খুলনা জেলার সোনাডাঙ্গা উপজেলার ১২৫/১১ ছাত্তার বিশ্বাস রোডের মিজানুর রহমানের ছেলে এএফএম নাজমুল সাকিব (৩২), ঢাকার মিরপুর ১৭/৩ ব্লক-বি জব্বার হাউসিং মাজার রোডের একেএম মোশাররফ হোসেনের ছেলে একেএম মারুফ হোসেন (২৭), কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার নিয়ামতপুর গ্রামের সাদিকুল ইসলামের ছেলে ফয়সাল আহমেদ (২৭)।

পুলিশ সূত্র জানায়, তাদের গত দুই দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার।আর সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ সন্ধ্যা ৭টায় যুগান্তরকে বলেন, শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতের চেষ্টার অভিযোগে ৫ সাবেক শিক্ষার্থীকে ঢাকায় আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইননুসারে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনে অর্থ লেনদেনের কারণে ব্যাংক, বিকাশ, রকেট ও নগদের ৬টি অ্যাকাউন্ট বন্ধের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া যেসব সাবেক শিক্ষার্থী আন্দোলনে অর্থ দিয়ে সহায়তা করেছেন তাদের অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সাবেক শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

অনেক জায়গা থেকে খুনের হুমকি দেয়া হচ্ছে : রিয়াজ

চিত্রনায়ক রিয়াজ দাবি করলেন, তাকে খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন নম্বর থেকে তার ফোনে কল দিয়ে তাকে বলা হচ্ছে, এফডিসিতে গেলে মেরে ফেলা হবে। মঙ্গলবার দুপুরে মগবাজারের একটি কনভেনশন সেন্টারে আসন্ন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন উপলক্ষে কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেলের পরিচিতি সভায় এ কথা জানান তিনি। রিয়াজ বলেন, “আমরা সত্য বলছি বলে অনেকেরই ‘অন্তরজ্বালা’ সৃষ্টি হয়েছে। কাউকে দোষারোপ করছি না, তবে গত কয়েকদিন আমাকে ফোন করে অনেক জায়গা থেকে খুনের হুমকি দেয়া হচ্ছে।”

এবারের নির্বাচনে কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেল থেকে সহ-সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন রিয়াজ। তিনি বলেন, ‘আমাকে ফোন করে বলা হচ্ছে এফডিসিতে গেলে মেরে ফেলবে, হাত পা ভেঙে দেবে। জিডি করিনি তবে যতটুকু ব্যবস্থা আমার পক্ষে নেয়ার আমি নিয়েছি। নাম্বারগুলো আমার কাছে রেখেছি।’ হুমকির বিপরীতে হুংকার দিয়ে রিয়াজ বলেন, ‘আমি রিয়াজ একজন ক্ষুদ্র মানুষ। শুধু আমি কেন, আমাদের মানুষগুলোসহ এফডিসিতে যিনি ঝাড়ু দেন তাকে কেউ একবার ধাক্কা দিয়ে দেখুক হাতের শক্তি কতটুকু দেখে নিতে চাই। অনেক কথা জানি যেগুলো প্রকাশ্যে বলছি না। বিগত দিনে অন্যদের অনেক ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। আমরা নির্বাচনে এসে সমস্ত অন্যায়ের শেকড় ধরে টান দিয়েছি। কোনো অন্যায়কারীকে আমরা ভয় পাব না। সৃষ্টিকর্তা আমাদের উপরে আছেন। আমি এবং আমার প্যানেলের কেউ কাউকে ভয় করবে না। কারণ আলমগীর ভাই, কাজী হায়াত আংকেলের মতো মানুষদের হাত আমাদের মাথায় আছে। আমরা অবশ্যই শিল্পীদের ভোটে নির্বাচিত হতে পারব।’

আগামী ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে কাঞ্চন-নিপুণের বিপরীতে রয়েছে মিশা সওদাগর ও জায়েদ খান প্যানেল। দুই প্যানেলের মধ্যকার নির্বাচনী লড়াইয়ের ফলে সিনেমা অঙ্গনে উত্তেজনা-হুইহুল্লোড় ফিরে এসেছে। তবে শেষ হাসি কাদের মুখে ফোটে, তা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত।

‘আমরা চাই তামিম টি-টোয়েন্টি খেলুক’

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় হেফাজত নেতা মুফতি হারুন ইজাহারকে (৪৭) এক বছরের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) হাইকোর্টের একটি ফৌজদারি বেঞ্চ তার জামিন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান।

এর আগে গত বছরের ২৯ এপ্রিল চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় হেফাজতের বিলুপ্ত কমিটির শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুফতি হারুন ইজাহারকে কারাগারে পাঠানো হয়। চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আনজুমান আরার আদালত এ আদেশ দেন। গত বছরের জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফর থেকে চোট নিয়ে ফেরেন তামিম ইকবাল। এরপর চোটের কারণে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে পারেননি তামিম। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে হঠাৎ করে তামিম ঘোষণা দেন বিশ্বকাপ খেলবেন না। ক্রিকেটপাড়ায় গুঞ্জন রয়েছে বিশ্বকাপ দলে বাদ পড়ার শঙ্কা থেকেই না খেলার ঘোষণা দেন দেশসেরা এই ওপেনার।

তামিম ইকবালকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ফেরাতে চেষ্টা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সোমবার ও মঙ্গলবার বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে তামিম ইকবালের। এদিন ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেন, সোমবার তামিমের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। মঙ্গলবারও বিসিবি সভাপতিসহ আমাদের সঙ্গে তামিমের সভা হয়েছে। তামিম তার পরিকল্পনা জানিয়েছে। সেটা তার মুখ থেকেই শুনবেন।

বিসিবির এই পরিচালক আরও বলেন, আমরা অবশ্যই চাই তামিম টি-টোয়েন্টি খেলাটাও চালিয়ে যাক। তামিম, সাকিব, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ এখনো আমাদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। আমরা চাই তারা খেলুক। তামিমের সঙ্গে এ নিয়ে কথা হয়েছে। তবে তামিমের নিজস্ব পরিকল্পনা আছে। সে সেভাবেই এগোতে চায়।