Home Blog Page 1635

যেভাবে হত্যা করা হয় নায়িকা শিমুকে : স্বামীর স্বীকারোক্তি

অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমুকে হত্যা করেছেন তার স্বামী শাখাওয়াত আলীম নোবেল । এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন উপস্থিত ছিলেন নোবেলের বন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদও। হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি নোবেলকে সাহায্য করেছেন। বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকার দুই বিচারিক হাকিমের আলাদা খাস কামরায় এ তথ্য জানিয়ে নোবেল ও ফরহাদ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। নোবেলের স্বীকারোক্তি নেন বিচারিক মো. সাইফুল ইসলাম ও ফরহাদের জবানবন্দি নেন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মিশকাত সুকরানা। দাম্পত্য কলহের সূত্র ধরেই এ খুন, এমনটাই তাদের স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে।

মামলাটির তদন্তের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ফোনে কথা বলা নিয়ে নোবেল ও তার স্ত্রী অভিনেত্রী শিমুর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। শিমু কার সঙ্গে কথা বলতেন তা নিয়ে প্রতিনিয়ত সন্দেহ করতেন নোবেল। ঘটনার দিন সকালে অভিনেত্রী শিমু ফোনে কারো সঙ্গে কথা বলেছিলেন। কথা বলা শেষ করলে হঠাৎ স্ত্রীর ফোন দেখতে চান নোবেল। এ নিয়েই ঝগড়া-শুরু হয় তাদের মধ্যে। তখন বাসায় নোবেলের বন্ধু ফরহাদও উপস্থিত ছিলেন।

যদিও গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নোবেল পুলিশকে জানিয়েছিলেন, তিনি একা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। আর মরদেহ গুম করতে বন্ধু ফরহাদকে ডেকে আনেন। কিন্তু জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, নোবেল একা নয়, হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ফরহাদ। দুই বন্ধু মিলেই অভিনেত্রী শিমুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

তদন্ত সূত্র জানায়, ঘটনার দিন সকালে নোবেলের ডাকে বাসায় আসেন ফরহাদ। ফরহাদ বাসায় ঢুকার সময় দরজা খুলে দেন শিমু নিজেই। ফরহাদ আসার পর তারা সবাই ডাইনিং টেবিলে বসে চা খান। এর ঠিক ৩০ মিনিট পর ফোনে কথা বলা নিয়ে শিমু ও নোবেলের ঝগড়া শুরু হয়ে যায়। প্রথমে ফরহাদ ঝগড়া থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পরে নোবেলের ডাকে শিমুকে শ্বাসরোধ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত হোন।

হত্যাকাণ্ডের পর দুই বন্ধু মিলে দুইটি বস্তায় অভিনেত্রীর মরদেহ ঢুকান। পরে বাসার দারোয়ানকে কাজে পাঠিয়ে দুই বন্ধু মিলে মরদেহ গাড়ির পিছনে নিয়ে বেরিয়ে যান। আরও জানা যায়, মরদেহ গুমের জন্য প্রথমে নোবেল ও ফরহাদ মিরপুরের দিকে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে উপযুক্ত জায়গা না পেয়ে তারা আবার বাসায় ফেরেন। সন্ধ্যায় আবার তারা লাশ গুম করতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, বছিলা ব্রিজ হয়ে কেরানীগঞ্জের দিকে যান। আনুমানিক রাত সাড়ে ৯টায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানার হযরতপুর ইউনিয়নের কদমতলী এলাকার আলীপুর ব্রিজ থেকে ৩০০ গজ দূরে সড়কের পাশে ঝোপের ভেতর মরদেহ ফেলে চলে যান তারা।

পরে সোমবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জ থেকে শিমুর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে গ্রেফতার করা হয় শিমুর স্বামী শাখাওয়াত আলীম নোবেল (৪৮) ও তার বাল্যবন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদকে (৪৭)।

মামলার তদন্তের বিষয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস ছালাম বলেন, এ মামলার প্রতিটি বিষয়ে আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখছি। জিজ্ঞাসাবাদে আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছি। নোবেল ও ফরহাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী তদন্ত চলছে।

আগামী ২৫ জানুয়ারি থেকে ঢাকা-শারজাহ রুটে বিমানের ফ্লাইট

আগামী ২৫ জানুয়ারি থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ শহরের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চালু করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। যাত্রীদের সুবিধার্থে ঢাকা-শারজাহ রুটে সপ্তাহে চারটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। আজ বিকেল ৩টা থেকে এই রুটের টিকিট বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) তাহেরা খন্দকারের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানের ফ্লাইট বিজি৫১ সপ্তাহে প্রতি মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি ও সোমবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টায় ছেড়ে শারজাহ পৌঁছাবে স্থানীয় সময় রাত সোয়া ২টায়। ফ্লাইট বিজি১৫২ সপ্তাহে প্রতি মঙ্গল, বুধ, শুক্র ও রোববার শারজাহ থেকে ভোর ৪টায় ছেড়ে এসে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পৌঁছাবে স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ১১টায় এবং চট্টগ্রাম থেকে সকাল পৌনে ১২টায় ছেড়ে এসে ঢাকায় পৌঁছাবে দুপুর সাড়ে ১২টায়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যাত্রীরা আজ বিকেল ৩টা থেকে বিমানের যেকোনো সেলস অফিস, বলাকাস্থ প্রধান কার্যালয়ের সেলস সেন্টার: মোবাইল নং-০১৭৭৭৭১৫৬৩০-৩১, ফোন: +৮৮-০২-৮৯০১৬০০ এক্সটেনশন ২১৩৫/২১৩৬, বিমান কল সেন্টার ০১৯৯০৯৯৭৯৯৭ এবং বিমান অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট ক্রয় করতে পারবেন।
যাত্রীদের ফ্লাইট ছাড়ার অন্তত আট ঘণ্টা আগে ট্রাভেল অ্যাডভাইজারি অনুযায়ী সব কর্মকান্ড সম্পন্ন করতে প্রয়াজনীয় কাগজপত্রসহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকতে হবে।

করোনা সংক্রমণ : ‘বিয়ে-শাদি’সহ সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা

দেশব্যাপী দিন দিন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ চরম আকার ধারণ করায় সরকারঘোষিত ১১ দফা বিধিনিষেধের মধ্যে বিয়ের অনুষ্ঠানসহ সব ধরণের সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে ডিসিদের সঙ্গে স্বাস্থ্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের অধিবেশন শেষে ব্রিফিংকালে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি জানান, ‘বিয়ে-শাদিসহ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান, সামাজিক অনুষ্ঠান এখন বন্ধ রাখতে হবে। এ বিষয়গুলো আমরা তুলে ধরেছি। পাশাপাশি আমরা বলেছি, ল্যান্ডপোর্ট, সিপোর্ট, এয়ারপোর্টেও স্ক্রিনিং চলছে। সেগুলো যাতে ঠিকমতো দেখেন ও যাতে সেখানে ফাঁকি না দেওয়া হয়। কোয়ারেন্টাইন বিষয়েও তাদের বলেছি। কোয়ারেন্টাইন অনেক সময় স্ল্যাক (ঢিলেঢালা) হয়। কোয়ারেন্টাইনে যারা আছেন অনেক সময় ফাঁকফোকর দিয়ে বের হয়ে যান এবং সংক্রামিত করে, এই বিষয়গুলো বলেছি আপনারা নজরদারিতে রাখবেন, যাতে কোয়ারেন্টাইন ঠিকমতো হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যে নদী-নালা, খাল-বিল দূষণ করছে শিল্প থেকে, সেগুলো যাতে তারা (ডিসি) খেয়াল করে। তাতে স্বাস্থ্যহানি হচ্ছে। যারা এসব পানি ব্যবহার করছে, তারা বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তাদের দাবি ছিল, ডিভিশনাল পর্যায়ে হাসপাতাল, আমরা এরই মধ্যে ডিভিশনাল পর্যায়ে হাসপাতাল নির্মাণকাজ শুরু করেছি। কয়েকদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালের উদ্বোধন করেছেন। একেকটি হাসপাতাল সাড়ে চারশো বেডের। যেখানে ক্যান্সার কিডনি ও হার্টের ট্রিটমেন্ট হবে। এরকম আরও হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। যার মধ্যে থাকবে নিউরো-সায়েন্সের চিকিৎসা, অর্থপেডিক চিকিৎসা, মেন্টাল হেলথ ও স্কিনের চিকিৎসার কার্যক্রম চলমান। তাদের সহযোগিতা আগে যেভাবে পেয়েছি, সেই সহযোগিতা আমরা তাদের কাছে চেয়েছি। কারণ দেশ যদি অর্থনৈতিকভাবে ভালো থাকতে হয়, তাহলে করোনা অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। করোনা নিয়ন্ত্রণে ছিল ও নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা বলবৎ রাখতে হবে। পাশাপাশি ভ্যাকসিন কার্যক্রমেও ওনারা (ডিসি) সাহায্য করছেন। ভ্যাকসিন যাতে সবাইকে অল্প সময়ের মধ্যে দিয়ে ফেলতে পারি। আমরা অলরেডি ১৫ কোটি দিয়েছি। আমাদের হাতে ৯ কোটি ডোজ এখনো রয়েছে। ১২ কোটি টার্গেটেট লোক ভ্যাকসিনেট করতে চাইলে তাদের জন্য সব ভ্যাকসিন আমাদের কাছে মজুত আছে পুরো দেশে। এটা অনেক দেশেরই নেই।
তিনি আরও জানান, আমরা বুস্টার ডোজ দিয়ে যাচ্ছি, আমরা এক মাসের মধ্যে ১ কোটি ২৫ লাখ ছাত্রকে ভ্যাকসিন দিয়ে ফেলেছি। ৯০ শতাংশের বেশি তারা ভ্যাকসিনেটেড হয়ে গেছে। আমরা প্রত্যেকটি জেলা হাসপাতালে ১০ বেড আইসিইউ, ১০ বেড ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেটা এখন ইনস্টলেশনের পর্যায়ে রয়েছে। আগেই এটা একনেকে পাস করা। সুতরাং অল্প সময়ের মধ্যে এটা হয়ে যাবে। আমরা আলোচনা করেছি, আশা করি তারা (ডিসি) কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রধান বিচারপতি

সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। বুধবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি হয়েছেন তিনি।

এর আগে মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) একই হাসপাতালে ভর্তি হন তার স্ত্রী ডালিয়া ফিরোজ। হাসপাতাল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতি ও তার স্ত্রী দুজনই সুস্থ আছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় তাদের বিষয়ে মেডিকেল বোর্ড বসবে।

বর্তমানে প্রধান বিচারপতি হাসপাতালের ভিআইপি ডিলাক্সের কেবিন নম্বর ৬১২-তে চিকিৎসাধীন। হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী গত ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন। এদিকে আজ আপিল বিভাগে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান ননীর নেতৃত্বে বিচারকাজ চলছে।

অন্যদিকে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি বাসায় আইসোলেশনে আছেন।

শিমুকে হত্যার কোনো পরিকল্পনা ছিল না

অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমুকে হত্যার কোনো পরিকল্পনা ছিল না বলে দাবি করেছেন তার স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেল (৪৮)। তিনি দাবি করেন, সকালে দুজনের মধ্যে ঝগড়ার একপর্যায়ে তিনি শিমুকে থাপ্পড় দেন। এতে শিমু তার ওপর চড়াও হন। ক্ষিপ্ত হয়ে শিমুর গলা চেপে ধরলে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন।

এদিকে শিমু খুনের পেছনে দাম্পত্য কলহের বিষয়টি সামনে এলেও স্বজনরা এখনও জানেন না কী নিয়ে তাদের দ্বন্দ্ব। এমনকি হত্যাকাণ্ডের সময় ছেলেমেয়েরা একই বাসায় থাকলেও তারা কিছু টের পায়নি। স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকার গ্রিন রোড এলাকায় নিজেদের ফ্ল্যাটে থাকতেন এ অভিনেত্রী।

শিমুর ভাই শহীদুল ইসলাম খোকন বলেন, রোববার সকালে তাদের ১৭ বছরের মেয়ে ও ৫ বছরের ছেলে বাসাতেই ছিল। তবে তারা কেউ ঘটনা সম্পর্কে কিছু টের পায়নি। ওটা নোবেলদের নিজেদের বাড়ি। নিজেদের থাকার ফ্ল্যাটটা তারা বড় করেই বানিয়েছিল। ঘরগুলো দূরে থাকায় তারা কিছু শুনতে পায়নি। নোবেল ছেলেমেয়েদের বলেছিল— তার মা সকালে শুটিংয়ে বেরিয়েছে। ছেলেমেয়েরা সেই কথাই সবাইকে জানায়।

শিমু-নোবেল দম্পত্তির সন্তানদের মধ্যে বড় মেয়ে উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী। আর ছোট ছেলের বয়স ৫ বছর। পুলিশ বলছে, শনিবার রাতে গ্রিন রোডের ফ্ল্যাটে ঝগড়ার একপর্যায়ে স্ত্রী শিমুকে ‘গলা টিপে ধরে হত্যা’র কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন তার স্বামী খন্দকার সাখাওয়াত আলীম নোবেল। হত্যার পর তার বন্ধু এসএম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদের সহায়তা নিয়ে লাশ গুম করেছিলেন।

পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, শিমুকে হত্যার পর রোববার সকাল ৭টা-৮টার দিকে ফরহাদকে ফোন করে বাড়িতে ডেকে এনে বাইরে থেকে দুটো বস্তা এনে শিমুর লাশ তাতে ভরে সেলাই করেন নোবেল। এর পর বাড়ির দারোয়ানকে নাশতা আনতে বাইরে পাঠিয়ে নিজের ব্যক্তিগত গাড়ির পেছনের আসনে শিমুর লাশ নিয়ে বেরিয়ে যান। প্রথমে নোবেল ও ফরহাদ মিরপুরের দিকে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে লাশ গুমের উপযুক্ত পরিবেশ না পেয়ে তারা আবার বাসায় ফেরেন। সন্ধ্যায় আবার তারা লাশ গুম করতে মোহাম্মদপুর, বসিলা ব্রিজ হয়ে কেরানীগঞ্জের হজরতপুর ইউনিয়নের কদমতলী এলাকায় যান।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা আলীপুর ব্রিজের ৩০০ গজ দূরে সড়কের পাশে ঝোপের ভেতর লাশটি ফেলে চলে যান। রাতেই কলাবাগান মডেল থানায় স্ত্রী নিখোঁজের বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন শিমুর স্বামী নোবেল। সোমবার লাশ উদ্ধারের পর নোবেল ও ফরহাদকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

বুধবার শিমুর ভাই খোকন বলেন, তাদের স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ্বের কথা জানতাম। শিমুকে নানাভাবে নির্যাতন করত নোবেল। কিন্তু কী নিয়ে দ্বন্দ্ব তা জানি না।

আল্লাহ যাদের অপছন্দ করেন

কেউ যখন কাউকে ঘৃণা করে, তখন বিষয়টি কেমন খারাপ খারাপ দেখায়। কিন্তু এরচেয়েও বড় দুঃখের কথা হলো- আমাদের সমাজে এমন কিছু দুর্ভাগা রয়েছে, যাদের আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত ঘৃণা করেন। কিয়ামতের দিন এই হতভাগাদের সঙ্গে আল্লাহ তাআলা কোনো ধরনের কথা বলবেন না। তাদের প্রতি দয়ার দৃষ্টিও দেবেন না।

এক. ব্যভিচারী বৃদ্ধ

ব্যভিচার সমাজের ঘৃণিত কাজ। একটি সমাজ ধ্বংসের জন্য ওই সমাজে ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়া যথেষ্ট। যে সমাজে ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়েছে সে সমাজে আদর্শ নীতি-নৈতিকতা কিছুই বাকি থাকে না। যেকোনো ধরনের ব্যভিচারী অত্যন্ত গর্হিত অন্যায় কাজ। আর যদি এ ধরনের ব্যভিচার ঘটে কোনো বৃদ্ধ নারী-পুরুষ দ্বারা, তাহলে তার অপরাধ আরো কয়েক গুণ বেড়ে যায়। কারণ একজন যুবক সে যৌবনের উদ্দীপনায়, শয়তানের প্ররোচনায় পরে কখনো এই অবৈধ পথে পা বাড়ায়। কিন্তু একজন বৃদ্ধ, তার তো যৌবনে ভাটা পড়েছে, তা সত্ত্বেও সে এহেন অশ্লীল কাজে জড়িত হয়েছে! আল্লাহর কাছে এটা অত্যন্ত ঘৃণিত।

দুই. অহংকারী ফকির

শয়তান জান্নাত থেকে বিতাড়িত হয়েছে তার অহংকারের কারণে। অহংকার এটি শুধু আল্লাহর জন্যই খাস। অন্য কারো অহংকার করার কোনো অধিকার নেই। অহংকারকে আরবিতে ‘উম্মুল আমরাজ’ বলে। অর্থাৎ আত্মিক রোগের মূল। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহ অহংকারীদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা নাহল, আয়াত : ২৩)

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যার অন্তরে বিন্দু পরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৬৭)

অহংকার যেকোনো ব্যক্তির জন্য হারাম। আর যদি কোনো ফকির অহংকার করে তাহলে এটা আরো মারাত্মক। কারণ অন্যরা অহংকার করে হয়তো তার সম্পদ অন্যান্য জিনিসের মোহে পড়ে। কিন্তু যে ফকির, তার অহংকারের বাহ্যিক কোনো কারণ নেই।

তিন. মিথ্যাবাদী বাদশা

এক হাদিসে এসেছে, মুমিন চুরি করতে পারে, জিনা করতে পারে; কিন্তু মুমিন মিথ্যা কথা বলতে পারে না। কারণ যখন কেউ মিথ্যা কথা বলে তখন ফেরেশতাগণ তার দুর্গন্ধে অনেক দূরে চলে যায়। সবার জন্য মিথ্যা কথা বলা জঘন্যতম অপরাধ। কিন্তু কোনো রাষ্ট্রপ্রধান মিথ্যা বলার কোনো প্রয়োজন নেই। সে তো যা চাইবে তাই করতে পারবে। এর পরও যদি সে মিথ্যার আশ্রয় নেয় সেটা হবে মারাত্মক কবিরা গুনাহ, যার শাস্তি ভয়াবহ।

ওপরের তিন ব্যক্তির কথা আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, তিন ব্যক্তির সঙ্গে কেয়ামাতের দিন আল্লাহ তাআলা কথা বলবেন না, তাদের (গুনাহ থেকে) পবিত্র করবেন না। তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। (এরা হলো) ব্যভিচারী বৃদ্ধ, মিথ্যাবাদী শাসক বা রাষ্ট্রপ্রধান ও অহংকারী দরিদ্র ব্যক্তি। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯৬)

চার. বিক্রয়ের সময় মিথ্যা শপথকারী

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, তিন শ্রেণির লোকের সঙ্গে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না এবং তাদের প্রতি তাকাবেন না। এর মধ্যে একজন, যে ব্যক্তি কোনো পণ্যের ব্যাপারে মিথ্যা কসম খেয়ে বলে যে এর দাম এর চেয়ে বেশি বলেছিল; কিন্তু সে তা বিক্রি করেনি। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৩৬৯)

পাঁচ. দান করে যে খোঁটা দেয়

যে ব্যক্তি দরিদ্র-মিসকিন, আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের দান করে, এরপর খোঁটা দেয়, আল্লাহ তাআলা তাদের সঙ্গে কিয়ামতের দিন কোনো কথা বলবেন না। আবু জার (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তিন শ্রেণির লোকের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। বরং তাদের জন্য আছে ভয়ানক শাস্তি। বর্ণনাকারী বলেন, রাসুল (সা.) এ কথাটি তিনবার পাঠ করলেন। আবু জার (রা.) বলে উঠলেন, তার তো ধ্বংস হবে, সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হে আল্লাহর রাসুল, এরা কারা? তিনি বলেন,…যারা কোনো কিছু দান করে খোঁটা দেয়…। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯৪)

ছয়. টাখনুর নিচে কাপড় পরিধানকারী

টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান করা আমাদের অনেকের কাছে সাধারণ মনে হয়। অথচ আল্লাহর কাছে এটা অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ। যে কারণে এমন ব্যক্তির সঙ্গে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন কোনো কথা বলবেন না। আবু জার (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহা মহিয়ান আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তিন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলবেন না। তাদের দিকে তাকাবেন না, তাদের সঙ্গে কোনো কথাও বলবেন না, তাদের পরিশুদ্ধতা প্রত্যয়ন করবেন না। (তারা হলো) যারা পায়ের গিরার নিচে কাপড় পরিধান করে। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ২৫৬৩)

সাত. পানি পানে বাধাদানকারী

যে ব্যক্তির কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি আছে, তা সত্ত্বেও সে পানিপ্রার্থীকে পানি দেয়নি, আল্লাহ তাআলা তার সঙ্গে কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, তিন ধরনের লোকের সঙ্গে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা কথা বলবেন না এবং তাদের পবিত্রও করবে না, আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শান্তি। তন্মধ্যে একজন ওই ব্যক্তি, যে পথের পাশে অতিরিক্ত পানির মালিক; কিন্তু মুসাফিরকে তা থেকে পান করতে দেয় না। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭২১২)

আট. অত্যাচারী ধনী

অত্যাচারকে কেউ-ই পছন্দ করে না। ধনী-গরিব, যুবক-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ যে কেউ অত্যাচার করুক—এটি জঘন্য অপরাধ। জালিম যতই শক্তিশালী হোক না কেন, যতই দুর্ধর্ষ হোক না কেন, আল্লাহর শাস্তি থেকে কখনো সে রেহাই পাবে না। আল্লাহর শাস্তি বিলম্ব হতে পারে; কিন্তু আল্লাহর শাস্তি যখন আসবে, দুনিয়ার এমন কোনো শক্তি নেই, তা ঠেকাতে পারে। আল্লাহ সুযোগ দেন, ছেড়ে দেন না। আল্লাহ বলেন, ‘আমি তাদের অবকাশ দিয়ে রাখি। আমার কৌশল অতি শক্তিশালী।’ (সুরা নুন, আয়াত : ৪৫) অভাবী অভাবের কারণে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করে। কিন্তু যে ধনী—তার তো আত্মসাৎ করে অত্যাচারের কোনো প্রয়োজন নেই। তাই তা আল্লাহর কাছে জঘন্যতম অপরাধ বলে বিবেচিত। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা অত্যাচারী সম্পদশালীকে ভালোবাসেন না।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ২৫৬৮)

মাওলানা জাওয়াদ তাহের : লেখক, অনুবাদক ও শিক্ষক

করোনার লক্ষণ প্রকাশ পেলে ১০দিনের আইসােলেশন

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে নতুন করে পাঁচ পরামর্শ দিয়েছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।
তারা বলেছেন, করোনা পজিটিভ রােগী লক্ষণ প্রকাশের ১০দিন পর্যন্ত আইসােলেশনে থাকবেন। রোগীর সংস্পর্শে এসেছেন এমন ব্যক্তির উপসর্গ না থাকলে আইসোলেশনের প্রয়োজন নেই।

বুধবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে কারিগরি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাে. সহিদুল্লা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন মোট ৫টি সুপারিশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির ৫৩তম সভা জুম প্ল্যাটফর্মে মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) রাত ১০টায় অনুষ্ঠিত হয়। কোভিড-১৯ রােগের সাম্প্রতিক ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও আলােচনা হয়। কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে বিস্তারিত আলােচনা শেষে সভায় নিম্নলিখিত সুপারিশ করা হয়-

১. কোভিড-১৯ পজিটিভ রােগীরা লক্ষণ প্রকাশের ১০দিন পর্যন্ত আইসােলেশনে থাকবে। কোভিড-১৯ নিশ্চিত হওয়া রােগীর সংস্পর্শে এসেছেন এমন ব্যক্তি যাদের কোন উপসর্গ নেই তাদের কোয়ারেন্টাইনের প্রয়ােজন নেই। তবে তাদের টাইট মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে হবে।

২. বিমানবন্দরসহ সব পাের্ট অব এন্ট্রিতে সরকারি স্বাস্থ্য নির্দেশনা যথাযথভাবে পালনের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে।

৩. সব সরকারি হাসপাতালে সার্বক্ষণিক কোভিড-১৯ ও নন-কোভিড সব রােগীর জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

৪. মন্ত্রিপরিষদ কর্তৃক জারি করা প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অংশীজনদের যেমন- পরিবহন মালিক সমিতি, দোকান মালিক সমিতি, রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির নেতাসহ সবাইকে সম্পৃক্ত করে পদক্ষেপ নিতে হবে।

৫. জাতীয় পরামর্শক কমিটি জনগণকে মাস্ক পরিধান নিশ্চিতকরণে সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণের প্রস্তাব করছে।

এছাড়া পরামর্শক কমিটির সভায় জনপ্রতিনিধি ও ধর্মীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণকে সঠিকভাবে মাস্ক পরিধান এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধকরণের সুপারিশ করা হয়।

শিমুর হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি

ঢাকায় খুন হওয়া বরগুনার আমতলীর মেয়ে আলোচিত অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমুর পিতা সাবেক ইউপি সদস্য মো. নুরুল ইসলাম রাঢ়ী মোবাইল ফোনে বিলাপ করছিলেন আর বলছিলেন আমার আদরের মেয়ে শিমুকে যারা হত্যা করেছে তাদের আমি ফাঁসি চাই। শিমু হত্যার খবর আমতলীতে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী শিমুর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবি করেন।

ঢাকাই ছবির অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমুর গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামে। তার নানা বাড়ি একই উপজেলার আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামে।

১৯৯৫ সালে শিমুর পিতা মো. নুরুল ইসলাম রাঢ়ী গ্রামের বাড়ি ছেড়ে স্ত্রী দুই পুত্র হারুন অর রশিদ ও সাইদুল ইসলাম খোকন এবং দুই কন্যা রাইমা ইসলাম শিমু ও ফাতেমাকে নিয়ে আমতলী পৌর শহরের ফেরিঘাটের সবুজবাগ এলাকায় বসবাস করতেন। শিমু তখন আমতলী এমইউ বালক বিদ্যালয়ে ছাত্রী। ছোট বেলা থেকেই শিমু সাংস্কৃতিক মনা ছিল। অভিনয়, নাচ ও গানের প্রতি ছিল তার অনেক ঝোঁক। আমতলীর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিমুর অভিনয়, নাচ ও গানের প্রশংসা ছিল তখন মানুষের মুখে মুখে।

পারিবারিক কারণে ১৯৯৬ সালে শিমুর মা রাশেদা বেগম তার সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় চলে যান। সেখানে বসবাসের সময় পরিচয় হয় চিত্র পরিচালক কাজী হায়াতের সঙ্গে। তার হাত ধরেই ১৯৯৮ সালে চিত্র জগতে প্রবেশের পর রূপালী পর্দার বদৌলতে শিমুর নাম হয়ে যায় রাইমা ইসলাম শিমু। একের পর এক বিভিন্ন সিনেমায় অভিনয়ের পর শিমুর নাম ছড়িয়ে পড়ে আমতলীসহ সারা দেশে।

অপরদিকে শিমুর মা এবং তাদের সন্তানরা ঢাকা চলে গেলেও পারিবারিক কারণে শিমুর বাবা মো. নুরুল ইসলাম রাঢ়ী নিজ গ্রাম আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের বাড়ীতে থেকে যান। পরবর্তীতে তিনি ওই বাড়ি ছেড়ে তিনি একই ইউনিয়নের হলদিয়া গ্রামে বসবাস করা শুরু করেন। ওই গ্রাম থেকেই তিনি একবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

গত সোমবার রাত ১০টায় ছেলেদের ফোন এবং টেলিভিশনের খবরের মাধ্যমে জানতে পারেন তার মেয়ে শিমু খুনের ঘটনা। ওই রাতেই তিনি আমতলী থেকে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে কোন যানবাহন না পেয়ে পরের দিন (মঙ্গলবার) খুব সকালে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। বর্তমানে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন।

বুধবার তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কথা হলে। তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানিয়ে হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এরপর তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মাইয়াডারে অনেক আদর স্নেহ দিয়ে বড় করেছি, হেই মাইয়াডারে ওরা মাইরা ফালাইছে। আমি আর কিছু চাই না শুধু আমার মাইয়াডারে যারা হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই।

এদিকে আলোচিত চিত্র নায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুর লাশ উদ্ধার করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই আমতলীর শহরের অলিগলি ও গ্রাম- গঞ্জের হাট- বাজারে চলছে শোক আর আফসোস। স্থানীয় মুদি দোকান থেকে শুরু পান দোকান পর্যন্ত সবারই একটাই প্রশ্ন কি এমন ঘটনা ঘটলো যে আমতলীর কৃতি সন্তান শিমুকে নারকীয়ভাবে খুন করে লাশ টুকরো করে তা বস্তায় ভরে রাস্তার পাশে ফেলতে হবে। তারা শিমু হত্যায় যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, পারিবারিক কলহের কারণে চিত্র নায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুর স্বামী নোবেল তাকে হত্যা করেছে বলে পুলিশের কাছে দায় শিকার করেছেন বলে পুলিশ প্রেস বিফিং করে জানিয়েছে।

সৌদির রিয়াল দেখিয়ে প্রতারণা : সিলেটে র্যা বের হাতে আটক দুই প্রতারক

স্টাফ রিপোর্ট:: সৌদি আরবের রিয়াল দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পাতে চক্রটি। সেই ফাঁদে পা দিয়ে সিলেটের সহজ-সরল লোকজন চক্রের সদস্যদের হাতে তুলে বড় অংকের টাকা। ওই চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৯। মঙ্গলবার দুপুরে মৌলভীবাজার শহর থেকে দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৯ এর একটি দল। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, গোপালগঞ্জ থানার পশ্চিমন ওখন্ডা গ্রামের মৃত ইউনূছ শেখের ছেলে নাসির শেখ (৪৮) ও একই থানার বামনডাঙ্গা গ্রামের মৃত ইব্রাহীম তালুকদারের ছেলে নজরুল তালুকদার (৩৭)। এর মধ্যে নাসির শেখ সিলেট নগরীর কাজলশায় বসবাস করে আসছেন। এ দুজনের বাড়ি গোপালগঞ্জে হলেও সিলেটজুড়ে বিস্তার করেছে তাদের প্রতারণার জাল।::
র‌্যাব জানায়, প্রতারক নাসির শেখ ও নজরুল তালুকদার প্রথমে সহজ-সরল কাউকে টার্গেট করেন। পরে ভিকটিমের কাছে গিয়ে বলেন, তাদের কাছে সৌদি আরবের ৫০ রিয়ালের একটি নোট আছে। তারা সেটি ভাঙাতে চান। কিন্তু কোথায় ভাঙানো যায় তা জানেন না বা বুঝতে পারছেন না। ভিকটিম তাদেরকে ৫শ টাকা দিলেই রিয়ালটি তারা দিয়ে দিবেন।
নাসির ও নজরুলের এমন কথায় রাজি হয়ে ভিকটিম ৫শ টাকা গিয়ে রিয়ালটি তাদের কাছ থেকে কিনে নেন। এ সময় প্রতারকরা ভিকটিমের মোবাইল ফোন নম্বরটি নিয়ে চলে যান। পরে রাতে তারা ভিকটিমের মুঠোফোনে কল দিয়ে জানান, তাদের কাছে আরও রিয়াল আছে। তারা সেগুলো কম মূল্যেই বিক্রি করে দিবেন। মাত্র ১ লাখ টাকায় তারা ভিকটিমকে বড় অংকের রিয়াল দিতে পারবেন।
ভিকটিম লোভে পড়ে এই ফাঁদে পা দেন এবং তাদের রিয়াল নিয়ে আসতে বলেন। প্রতারকদের কথামতো ভিকটিম তাদের সঙ্গে দেখা করলে তারা ভিকটিমের কাছ থেকে নগদ ১ লাখ টাকা নিয়ে ভিকটিমকে একটি শপিং ব্যাগ হাতে ধরিয়ে দ্রুত চলে যেতে পরামর্শ দেন। কৌশলে ব্যাগের উপরে তারা কিছু রিয়ালের নোট রেখে নিচে পত্রিকার বান্ডিল রেখে দেন। পরে বাসায় গিয়ে ভিকটিম তাদের প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন, কিন্তু তখন আর কিছু করার থাকে না।
নাসির ও নজরুলকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে র‌্যাবকে তারা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তারা এভাবেই সৌদি আরবের রিয়াল দেখিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। আটকের পর তাদের মৌলভীবাজার সদর থানায় সৌপর্দ করা করে র‌্যাব।

ট্রেনে কাটা পড়ে হবিগঞ্জের যুবক নিহত

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:: হবিগঞ্জের সদর উপজেলার লস্করপুর রেলস্টেশনের কাছে ট্রেনে কাটা পড়ে এক যুবক (২৬) নিহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিক তার নাম পরিচয় জানা যায়নি। বুধবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ১১টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুনুর রশীদ।
স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৯টার দিকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে যুবকটি মারা যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছে।